ওয়ালটন উচ্চ প্রযুক্তির টেলিভিশন সেট তৈরির জন্য নতুন কারখানা স্থাপন করছে

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৩:৫৫ অপরাহ্ণ

ওয়ালটনদেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন উচ্চ প্রযুক্তির টেলিভিশন সেট তৈরির জন্য নতুন কারখানা স্থাপন করছে। নতুন এই কারখানায় প্রতিবছর তৈরি হবে প্রায় দশ লাখ টেলিভিশন। ২০১৪ সালের শুরুতেই কারখানাটিতে উৎপাদন শুরু হবে।

গাজীপুরের চন্দ্রায় কারখানা স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। আগামী বছরের শুরুতে উৎপাদনে যাবে কারখানাটি। এর ফলে একদিকে বদলে যাবে বাংলাদেশের টিভি ইন্ডাস্ট্রির চিত্র, অন্যদিকে ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে সব ধরনের টেলিভিশনের দাম।

তবে এক্ষেত্রে দেশ লাভবান হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনবল সৃষ্টির মাধ্যমে।নতুন এই কারখানা স্থাপনের ফলে ওয়ালটনের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়বে ১০ গুণ।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, গাজীপুরের চন্দ্রায় বিশাল এলাকাজুড়ে ওয়ালটন মাইক্রোটেক ইন্ডাস্ট্রিজের নতুন কারখানা স্থাপনে কাজ এগিয়ে চলছে। প্রাথমিকভাবে ৮ লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে কাজ শুরু হবে। পরবর্তীতে তা ১৪ লাখ বর্গফুটে উন্নীত করা হবে।

কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নতুন এই কারখানার নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন।

এই কারখানায় বছরে ১০ লাখ সেট টিভি তৈরি হবে, যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিও করা যাবে। তৈরি হবে উচ্চ প্রযুক্তির স্মার্ট টিভি, ওএলইডি, এলইডি, টুকে এলইডি, ফোরকে এলইডি।এছাড়াও তৈরি হবে সিআরটি টিভি। সেইসঙ্গে টেলিভিশনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, পিসিবি বোর্ড, প্যানেল, মাদারবোর্ড, কেবিনেট ইত্যাদি উৎপাদন হবে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন টেলিভিশন শিল্পে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করছে। টেলিভিশন এখন আর বিলাসপণ্য নয়। শিক্ষা উপকরণ এবং তথ্য ও বিনোদনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েছে। ফলে দেশ-বিদেশে এ পণ্যের বাজার দ্রুত বাড়ছে।

ওয়ালটনের অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম জানান, এশিয়ার একটি দেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য টিভি সেট তৈরি করছে। কিন্তু সেখানে শ্রমের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের মান না বাড়লেও দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে বিশ্ববাজার দখলের।

উদয় হাকিম আরো বলেন, আমাদের সামনে এমন একটা সময় অপেক্ষা করছে- যখন পুরো বিশ্ব সাশ্রয়ী মূল্যে মান সম্পন্ন পণ্য কিনতে বাংলাদেশমুখী হবে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণের মাধ্যমে ফ্রিজের বাজারের সিংহভাগ শেয়ার নিজেদের করে নিয়েছে ওয়ালটন। এছাড়া মোটরসাইকেল, টিভি সেট, এয়ারকন্ডিশনার উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এর বাইরে ওয়ালটন ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্সে ওয়াশিং মেশিন, হেয়ার ড্রায়ার, ব্লেন্ডার, জুসারসহ দশটি নতুন ইলেকট্রনিক্স পণ্য তৈরি হবে।

কর্তৃপক্ষের দাবি- ওয়ালটন উচ্চপ্রযুক্তির পণ্য তৈরিতে নিজেদের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছে। তারা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশে তৈরি পণ্য গুনগত দিক দিয়ে বিশ্বমানের।

ওয়ালটন মাইক্রোটেক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রকৌশলী মোস্তফা নাহিদ হোসেন বলেন, নতুন কারখানায় প্যানেল তৈরির প্ল্যান্ট বসানো হবে। যা কেবল বিশ্বের শীর্ষ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেরই আছে।

তিনি আরো বলেন, ওয়ালটনের কারখানায় নিজস্ব মোল্ড ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ নিজেরাই তৈরি করবো। আমরা নিজেদের গবেষণালব্দ জ্ঞান প্রয়োগ করে ইউনিক ডিজাইন নিয়ে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় তৈরি হচ্ছি।

ওয়ালটনের ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা এসএম জাহিদ হাসান বলেন, ওয়ালটন শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মানের পণ্য তৈরি করছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির টেলিভিশন উৎপাদন এখন সময়ের দাবি।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ হতে পারে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের হাব বা কেন্দ্র। দেশের ইলেকট্রনিক্স শিল্পের চিত্র পাল্টে দিতে কাজ করছে ওয়ালটনের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ।