ওসি লিয়াকতের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ:| রবিবার, ১৮ আগস্ট , ২০১৩ সময় ১০:০০ অপরাহ্ণ

hathazari oc (2)হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) এ.কে.এম.লিয়াকত আলীর অপসারনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে হাটহাজারীবাসী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে রবিবার (১৮ আগষ্ট) বিকেলে তারা এ বিক্ষোভ মিছিল করে। বিক্ষোভকারিরা হাটহাজারী পৌর সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ১১ মাইল এলাকায় জরুরী বৈঠক করেন। মিছিলোত্তর এক বিক্ষোভ সমাবেশে বিক্ষোভকারিরা তাকে(ওসি) ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপসারণ না করলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সোমবার (১৯ আগষ্ট) তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন,জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন মহলে অভিযোগ দাখিল করবেন বলে তারা জানান।
বিক্ষোভকারিদের অভিযোগে জানা যায়,থানার ওসি যোগদানের পর থেকে হাটহাজারীর বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক চাঁদাবাজি করে। ভূয়া ওয়ারেন্ট দাখিল করে চাঁদাবাজির জন্য সাধারন জনগনকে থানায় এনে ব্যাপক নির্যাতন এবং বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া ওয়ারেন্ট সৃষ্টি করে থানায় আটক করার অভিযোগের খবর স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। ভয়ে এ ব্যাপারে কেউ কোনদিন মুখ খুলেনি। ইদানিং তার বিভিন্ন কর্মকান্ডে সাধারন জনগন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। এমনকি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ চাঁদাবাজির ব্যাপারে অভিযোগ করে আসছে। গত কয়েকদিন যাবত থানায় সাধারন জনগনকে ধরে এনে লাখ টাকার চাঁদাবাজির ব্যবসা জমে উঠেছে বলে সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন। এক তরফা হয়রানিতে রাজনৈতিক ও সাধারন জনগন অতিষ্ট। এমনকি রমজানে রাতে ফরহাদাবাদে জনৈক ছাত্রলীগ কর্মীকে ভূয়া ওয়ারেন্ট দেখিয়ে গ্রেফতার করার প্রচেষ্টা চালায়। পুলিশ সাধারন জনগনের তোপের মুখে ভূয়া ওয়ারেন্টে আটককৃতকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। সেদিন রাতে হাটহাজারীতে অবস্থানরত সাংসদ ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রকৃত ঘটনা ওসিকে অবহিত করলেও তিনি তার কথা কর্ণপাত না করে উল্টো বার্তা বহনকারিকে থানায় আটক করে দিনভর নির্যাতন চালায়। পরবর্তীতে ওসি এ.কে.এম.লিয়াকত আলী সাংসদের কাছে ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে যান। গতকাল রবিবার বিকেলে ওসির এসব অভিযোগ হাটহাজারী পৌর সদরে এলাকাবাসী ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলোত্তর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উত্তর জেলা যুবলীগের সদস্য শাহনেওয়াজ চৌধুরী মানিক,উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আকতার হোসেন,সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুল হুদা মনি,পৌর আ.লীগের সা.সম্পাদক এইচ.এম.জাকির,সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মঞ্জুর হোসেন মাসুদ,সৈয়দ নুরুল আলম,সৈয়দ আহমদ হোসেন,হারুনুর রশিদ,সেকান্দার তুহিন,তসলিম হায়দার,সাইদুল হক খোকন,আইয়ুব খান লিটন,মো.নাছির,মো.সাইফুল প্রমুখ। বক্তারা বলেন জামায়াত শিবির ও হেফাজতের সাথে তার বিশেষ সর্ম্পক রয়েছে।
নব্বই এর দশকে হাটহাজারী থানায় ওসি এ.কে.এম.লিয়াকত আলী উপ পরিদর্শক হিসেবে থাকাকালীন এলাকার ভূমিদস্যু,টাউট বাটপারদের সাথে তার সখ্যতা ছিল। থানা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সোহরাব হোসেন নোমান আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার অপসারন দাবী করেছেন। তিনি বলেন এবারের রমজানে হাটহাজারীর থানার ওসি এ.কে.এম.লিয়াকত আলী অর্ধ কোটি টাকার চাঁদাবাজি করেছেন। তার চাঁদাবাজিতে রেহাই পায়নি সিএনজি চালক,মার্কেট ব্যবসায়ী দোকানদার এমনকি খেটে খাওয়া লোকজন। চাঁদাবাজির টাকায় জমি ও বিলাসবহুল গাড়ী কিনেছেন বলেও অভিযোগ করেন সোহরাব হোসেন নোমান। উপজেলা চেয়ারম্যান ও হাটহাজারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মো.ইসমাইল এর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন অশান্ত হাটহাজারীকে শান্ত করার জন্য ওসির অপসারন জরুরী। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সোহরাব হোসেন নোমান সাংবাদিকদের বলেন ওসির চাঁদাবাজির অভিযোগ ইতিপূর্বে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ী সভাপতি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এম.এ.সালামকে অবহিত করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ফটিকছড়িতে অবস্থানরত উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে এ অভিযোগ অবহিত করা হয়। রাতে এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত পৌরসদরস্থ ১১ মাইল এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের জরুরী সভা চলছিল।
ওসির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সর্ম্পকে ওসি এ.কে.এম.লিয়াকত আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা তিণি সাংবাদিকদের জানান,আমার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তারা তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারে। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিহিত ব্যবস্থা নিতে পারে। উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক সোহরাব হোসেন নোমানের অনৈতিক দাবি পূরন করতে না পারায় হয়তো তিনি আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপে গেছেন।
উল্লেখ্য ওসি এ.কে.এম.লিয়াকত আলী ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল ফটিকছড়ি থানা থেকে হাটহাজারী মডেল থানায় যোগদান করেন।