ওমানে খুন হলেন রাউজানের কুদ্দুছ

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ২৯ জুলাই , ২০১৮ সময় ১১:১৭ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম, রাউজান:ছোটবোনের জামাতার দারিদ্রতা লাগব করার লক্ষে ওমানে নিজের দোকানে নিয়ে গিয়েছিলেন বোনের জামাতার পরিকল্পনায় খুন হওয়া ওমান প্রবাসী রাউজানের আব্দুল কুদ্দুছ। আজ রোববার পরিবার স্বজন ও বিভিন্ন সুত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানাগেছে রাউজান পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের ছত্তরপাড়া আকবরের বাড়ীর মরহুম আবদুল হালিমের ওমান প্রবাসী ছেলে আব্দুল কুদ্দুছ (৪২)’র ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে ওমানের সালালার হাফা সাগর পাড় থেকে সে দেশের পুলিশ । জানাগেছে, গত ১৫ জুলাই সালালাহর হাফা সাগর পাড় থেকে কুদ্দুছের লাশ উদ্ধারের আগে ৭ জুলাই কুদ্দুছ নিখোঁজ হয়েছিলেন সেদেশে। সুত্র জানায়, দীর্ঘ ৮ বছর যাবত ওমানে থাকা আব্দুল কুদ্দুছ আপন ছোট বোনের জামাতা একই এলাকার মৃত খায়ের আহম্মদের ছেলে জাহাঙ্গীর কে গত ৪ বছর আগে ওমানে নিয়ে যান। যাওয়ার পর জাহাঙ্গীর বাহিরে কাজকর্ম করে যে টাকা উপার্জন করছিল সে টাকা দিয়ে দরিদ্রতা মূচন ও বোন ভাগ্নি-ভাগিনার ভরন পোষন হচ্ছেনা দেখে সে দেশের কানুন মেনে জাহাঙ্গীরকে তার ব্যবসায়ীক দোকানে নিয়ে আসেন। সুত্র জানায়, খুনের শিকার আবদুল কুদ্দুছের একটি মুদির দোকান ও একটি মাছের দোকান ছিল। মুদির দোকান দেখাশুনা করত কুদ্দুছ আর বোনের জামাতা জাহাঙ্গীর। আর মাছের দোকান দেখাশুনা করত দ্ইু সিলেটি। খুনের শিকার আব্দুল কুদ্দুছের সম্বন্ধি মুন্সির ঘাটার াই এ্যলমুনিয়ামের মালিক মো. লোকমান রোববার দুপুরে জানান,আমরা কয়েকদিন আগে জানতে পারি গত ৭ জুলাই আমার বোনের জামাতা কুদ্দুছ নিখোঁজ হন। এরপর কুদ্দুছের বোনের জামাতা জাহাঙ্গীরের সাথে আমরা যোগাযোগের চেষ্টা করি কিন্তু তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। পরে জানতে পারি জাহাঙ্গীর সহ আরো কয়েকজন মিলে সালালায় আমার বোনের জামাতা নিখোজ হয়েছে দাবী করে নিখোজ ডায়েরী করেন। এরপর পুলিশী তদন্ত শুরু হয়। পুলিশী তদন্তে প্রথমে গ্রেফতার হন আমার বোনের জামাতা কুদ্দুছের মাছের দোকানের দুই সিলেটি। এরপর পুলিশ এ দুজনকে রিমান্ডে নিলে বেরিয়ে আসে ঘটনার আসল রহস্য। দুই সিলেটিকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে খুনের আসল পরিকল্পনাকারী খুনের শিকার আব্দুল কুদ্দুছের ছোটবোনের জামাতা মো. জাহাঙ্গীরের নাম। এরপরই সালালার পুলিশ গ্রেফতার করে জাহাঙ্গীরকেও। পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর স্বীকার করেন সেই ওমানের ২শ রিয়াল যা বাংলাদেশী টাকায় (৫০ হাজার) দিয়ে তার সমন্ধিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে পুলিশ ৩ জনের তথ্য অনুযায়ী হাফা সাগর পাড় থেকে নিখোঁজের ৮ দিন পর ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে কুদ্দুছের। নিহতের গলায় ও পেটে চুরি দিয়ে আঘাত করে কুদ্দুছকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান সে দেশের পুলিশ। সুত্র জানায় লাশ পচে ও গলে যাওয়ায় সেটি বাংলাদেশে আনা সম্ভব হচ্ছেনা বিধায় ৩০ জুলাই সোমবার লাশটি প্রশাসনিক নির্দেশক্রমে ওমানেই দাফন করা হবে। এদিকে খুনের সাথে জড়িত সন্দেহে আটক মো. জাহাঙ্গীর রাউজানে একসমায় ডেকুরেটারের কাজ করে সংসার চালাত। কুদ্দুছও জাহাঙ্গীরের মধ্যে কোন সময় বিরোধ বা ঝগড়া না হলেও কেন ও কি কারনে কুদ্দুছ হত্যার শিকার হল তা রহস্য জনক। তবে একটি সুত্র জানান, কুদ্দুছের ব্যবসা প্রতিষ্টানে কুনজর পড়ে জাহাঙ্গীর সহ অপর দুজন সিলেটি কর্মচারীর তাই দোকান তাদের আয়ত্বে নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করার খেয়ালে কুদ্দুছকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে নিকটতœীয়ের মধ্যে এ ধরনের ঘটনায় পুরো এলাকায় চলছে কানাঘুষা। সে দেশের আইন অনুযয়ী খুনের প্রমাণ পাওয়া গেলে কতলের আইন থেকে রেহাই পাবেনা জড়িতরা। গতকাল রোববার নিহত কুদ্দুছের পবিারে গিয়ে দেখা যায় তার স্ত্রীর আহাজারী। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী জেসমীন আকতার বাকরুদ্ধ। স্বামীহারা জেসমিন বলেন, ২০০৭ সালে আমার সাথে কুদ্দুছের বিবাহ হয়। এখন আমার সংসারের ৩ অবুঝ কণ্যা সন্তান কাকে ডাকবে বাবা। কে নেবে আমাদের ভরণ পোষনের দায়িত্ব। খুনের শিকার কুদ্দুছের ৯ বছর বয়সী মুনতাহা আর এম আই স্কুলে ২য় শ্রেণী,৭ বছরের মুনতাসির একই স্কুলের ১ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত। কনিষ্ট কণ্যা ৩ বছরের আমেনার এখনো পিতা চেনার বয়স হয়নি,সে জন্মেছিল ওমানে। কুদ্দুছের স্ত্রী বলেন, আমার দাবী প্রকৃত খুনি যেই হওক তার ফাঁসি চাই আমি। আর আমার স্বামীর বিদেশের ব্যবসা বানিজ্যের হিসাব নিকাশ ও পাওনা আমি যাতে সহজেই পেতে পারি সে জন্য সরকারের সহয়তা কামনা করি।