ঐতিহ্যবাহী ফতেয়াবাদ স্কুলের মিলন মেলা সম্পন্ন

প্রকাশ:| সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ০৭:১৩ অপরাহ্ণ

ঐতিহ্যবাহী ফতেয়াবাদ আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের মিলনমেলা-২০১৬ উদ্ভোধনীতে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষকমন্ডলী ও প্রাক্তন শিক্ষাথীদের একাংশ

সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে একশ তেইশ লিখেছে শিক্ষাথীরা

ঐতিহ্যবাহী ফতেয়াবাদ আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের মিলনমেলা-২০১৬ সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আনন্দ শোভাযাত্রা, কেক কাটা আলোচনা সভা, চা চক্র,  ভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ব্যনার ফেন্টুন, রং-বে রংয়ের বাতির আলোয় পুরো  বিদ্যালয় ক্যম্পাস রঙ্গিন হয়ে উঠে।

ছায়া সুনিবিড় শান্তিময় সবুজ পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী ফতেয়াবাদ আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রাণ চাঞ্চল্য, হৈ চৈ, নাচ গান ও ছাত্রদের মিলন মেলার ভিতর দিয়ে কাটলো ২৬ ডিসেম্বর। খোলামেলা পরিবেশে সবুজ ক্যাম্পাসটি সেদিন সেজেছিল নতুনের বার্তা নিয়ে। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার মধ্যে র‌্যালী, পিঠা উৎসব, আলোচনা অনুষ্ঠান, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী, খেলাধূলা, প্রজেক্টরে ছবির প্রদর্শনী, ফান ইভেন্টস, র‌্যাফেল ড্র ও লাইভ কনসার্ট মাতিয়ে তোলে ৬.৭১ একর জায়গার জুড়ে পুরো বিদ্যালয় ক্যাম্পাস।  কেউ ব্যস্ত ছিল তাদের নিজেদের ব্যাচের বৈচিত্র্য অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থী ও অতিথিদের কাছে তুলে ধরতে, কাউকে দেখা যায় মঞ্চে গান ও নাচ পরিবেশন করতে, আবার কেউ অভিনয়ে সবাইকে মুগ্ধ করছে। বিদ্যালয়ের ছাত্ররা পুরো দিন রঙ্গীন করে স্মৃতির পাতায় আটকে রাখতে আয়োজনে কোন রকম কার্পণ্য করেনি।

সহস্রাধিক নবীন- প্রবীন শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহন, এক বর্ণাঢ্য মিলন মেলায় রূপ নেয়।অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুপুর থেকেই ক্যাম্পাসে একে একে জড়ো হতে থাকে পুরো ফতেয়াবাদ স্কুল পরিবার।  হাজার শিক্ষার্থীর পদভারে ও ব্যাপক উচ্ছ্বাসে বিদ্যালয়ের বিশাল ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ উৎসবে মুখরিত হয়ে উঠে। সকলের মাঝেই একটা সাজ সাজ রব পরিলক্ষিত হয়। সকল শিক্ষার্থীর কাছে ক্যাম্পাসের মূল আকর্ষন ছিল সর্বাধূনিক প্রযুক্তি ও অপূর্ব নির্মাণ শেলীতে ভাস্বর ও নান্দনিক সৌন্দর্য্যের আধার বিদ্যালয়ের মূল দ্বার।

বিগত দিনের সাফল্য তুলে ধরে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান আবুল কদর বলেন, দেশের নামী-দামী বিদ্যালয়ের সাথে টেক্কা দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা লাভ করবে এবং চাকরি বাজারে নিজেদের শিক্ষার মান যাচাইয়ের সুযোগ পাবে। আমরা বেশ কিছু উন্নয়ন করেছি আগামীতেও করবো। শিক্ষার মান আরো বাড়ানোর জন্য জন্য আমরা কাজ করছি।

সাবেক প্রধান শিক্ষক আ ক ম ফজলুল হক পাশা বলেন, এ স্কুলের সাথে আমার অনেক স্মৃতি…..আমি গৌরবান্বিত। মনে করেছিলাম আামি একা। কিন্তু আমি একা নই। হাজার হাজার ছাত্রের মাঝে হারিয়ে গেছি পুরোনো দিনে। কোনদিন মাথা নিচু করিনি, উচু করে পথ চলেছি।

বর্তমান প্রধান শিক্ষক সুভাস চন্দ দাশ বলেন, এ আয়োজন এক নতুন ইতিহাস রচনা করলো। এ আয়োজনের পেছনের সবার প্রতি অভিনন্দন।

প্রাক্তন শিক্ষাথী ও শিক্ষক বুবু দুলাল সরদার বলেন, মানুষ স্বপ্নের সমান বড়, কখনো কখনো স্বপ্নের চেয়েও বড়। মানুষ মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত স্বপ্ন দেখে, আর তোমাদের জীবনে স্বপ্ন দেখাটা কেবল শুরু। জীবনে বড় হতে হলে স্বপ্ন দেখতে হবে।

সাবেক ছাত্র ও চবির প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, এ আয়োজনে আসতে পেরে বেশ ভালো লাগছে। পেছনের স্মৃতিগুলো আবার যেন ফিরে এলো।

সাবেক শিক্ষক ও চবির ডেপুটি রেজিষ্টার ফরহাদ হোসেন খান বলেন, আমরা এখানে স্বর্ণ যুগ বিলিয়ে দিয়েছি। চেষ্টা ছিলো সোনার ছেলে বানাবো। আজ অনেকে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজে আলোকবর্তিকা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

এস এম আসাদ, আবু সালেহ, আজিজুর রহমান মুরাদ, ফসিউল আলম, আবু সয়েম সেতু, গাজী আক্কাসনুরুল আক্তার রুবেল, আরশাদুল আলম, কামরুল হাসান, মো: রায়হান মুরাদ মো: কায়ছার সাদমানসহ উপস্থিত অনেক প্রক্তন ছাত্র অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন আজকের দিনটা আমাদের জন্য অনন্য। এ আয়োজনের অংশীদার হতে পেরে বেশ ভালো লাগছে। আমরা আমাদের স্কুলকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি… এ স্কুলে প্রাণের টানে বার বার ফিরে আসবো।

অনুভুতি জানাতে গিয়ে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র  (নিউজচিটাগাং এর নির্বাহী সম্পাদক ) মির্জা ইমতিয়াজ শাওন বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পর আমার প্রিয় স্কুলটিতে এক সাথে আসতে পেরে, আমার খুব আনন্দ লাগছে। ২০০০ খ্রীষ্টাব্দে স্কুল থেকে পাশ করে চলে যাওয়ার পর কর্মজীবনের ব্যস্ততায় সবাই এক হয়ে এই স্কুলে আসার সময় হয়ে ওঠেনি। ১২৩ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত স্কুল এখন মহীরুহ। নিজেকে পরিপূর্ণ মনে হচ্ছে। আমাদের জুনিয়র ব্যাচের ভাই-বন্ধুদের অক্লান্ত পরিশ্রম আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাদের অদম্য সাহসীকতায় আজকের এই মিলনমেলা সম্পন্ন হলো। আয়োজনের নেপথ্য নায়কদের জন্য অভিনন্দন ও শুভ কামনা।

অনুভুতি জানাতে গিয়ে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র (বাংলাদেশ ব্যাংক এর ডেপুটি ডিরেক্টর) সাজ্জাদ হোসেন তপু নিউজচিটাগাংকে বলেন, অনেক ভালো লাগছে। সব কিছুর উর্দ্ধে উঠে আমরা সব সময় এমন হাসি আনন্দে মেতে উঠতে চাই।

অনুভুতি জানাতে গিয়ে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র (এসোসিয়েট ম্যানেজার, লিগ্যাল এফেয়ার, ওয়ান ব্যাংক লিঃ, চট্টগ্রাম জোন) সালাউদ্দীন আলী নূর মিন্টু  নিউজচিটাগাংকে বলেন, আমি খুব আনন্দিত। যারা অক্লান্ত শ্রম দিয়ে আয়োজন সফল করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা আসতে পারেনি, তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই।

 


আরোও সংবাদ