এ এক নতুন বিশ্বব্যবস্থার আওয়াজ

প্রকাশ:| রবিবার, ২৬ জুন , ২০১৬ সময় ০৯:০১ অপরাহ্ণ

এক নতুন বার্তা। যুক্তরাজ্য, ইউরোপের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সারা দুনিয়ায়। বেক্সিট গণভোটকে নানা তরিকায় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সত্য-মিথ্যা-অর্ধসত্য সবই আছে। তবে সবচেয়ে ছোট করে বললে বলা যায়, এটা কট্টরপন্থার বিজয়। সারা পৃথিবীতেই এখন চলছে এ ট্রেন্ড। মার্কিন মুল্লুকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থান বিস্ময়কর। বেক্সিট গণভোটের ফলে তার উল্লাস অবশ্য তা নয়। তিনি জানিয়েছেন, বৃটিশরা তাদের দেশ ফিরে পেয়েছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের পালা। তিনি হয়তো তার সম্ভাব্য বিজয়ের প্রতিই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ইউনাইটেড কিংডম ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টির নেতা নাইজেল ফ্যারাজ। ২৫ বছর ধরে লড়াই করে আসছেন যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে আনার জন্য। অবশেষে তার স্বপ্ন সফল হয়েছে। কিন্তু ফ্যারাজের স্বপ্ন পূরণের দিনটিকে পৃথিবীর জন্য একটি বাজে দিন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন পর্যবেক্ষকরা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর আলী রীয়াজ যেমনটা লিখেছেন, “বৃটেনের  এই ফল যে ইউরোপের অন্য দেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে তাও অনুমেয়। ফ্রান্স এবং নেদারল্যান্ডসের উগ্র জাতীয়াতাবাদীরা একে পুঁজি করে ইউনিয়ন থেকে বেরুবার দাবি তুলবেন। আমার জানি, গত প্রায় এক দশকে গোটা ইউরোপে উগ্র দক্ষিণপন্থি দলগুলো শক্তি সঞ্চয় করেছে (দেখুন নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন ২২শে মে ২০১৬)। এ দলগুলো এখন আরো শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা করবে। এর প্রতিক্রিয়া কী আটলান্টিকের অপর পাড়ের দেশ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে পড়তে পারে? ইতিমধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থান দেখতে পেয়েছি যার বক্তব্য বেক্সিটের সমর্থকদের চেয়ে ভিন্ন নয়। অভিবাসী বিরোধী মনোভাবকে শক্তিশালী করার চেষ্টা ট্রাম্পের প্রচারণার প্রধান দিক। ফলে এ আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না, এতে তিনি শক্তিশালী হবেন। তবে এ প্রচেষ্টার সাফল্য নির্ভর করছে ডেমোক্রেটিক পার্টির ওপরেও। হিলারি ক্লিনটন এবং  ডেমোক্রেটিক পার্টি যদি দেখাতে পারে যে এ ধরনের ‘আইসোলানিস্ট’ (বিচ্ছিন্ন থাকা) পদক্ষেপের পরিণতি ভালো হয় না যেমন বৃটেনের জন্যে হচ্ছে না তবে তার ফল উল্টোও হতে পারে।”
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাস্তবিক অর্থেই পৃথিবী এক নতুন পরিস্থিতির সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এ পরিবর্তন অবশ্য হঠাৎ করে হয়নি। ধীরে ধীরে পরিবর্তনের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল। বেক্সিট একে এক নতুন মাত্রার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। ফ্রান্সের স্থানীয় নির্বাচনেও কট্টরপন্থিরা ভালো করেছেন। বিশেষ করে অভিবাসী ইস্যুতে কট্টরপন্থার পক্ষে সরব হয়েছেন ইউরোপের অনেক দেশের নাগরিকরা। ইসলামী দুনিয়াতে গণতন্ত্রের বালাই নেই। যদিও ইউরোপ-আমেরিকা এসব রাজাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছেন। ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ ঠেকাতে অনেক সামরিক শাসকদের সঙ্গেও হাত মিলিয়েছেন পশ্চিমারা। সম্প্রতি জার্মানিতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে মিশরের এক ব্লগার পশ্চিমা দুনিয়ার বিরুদ্ধে দ্বি-চারিতার অভিযোগ তুলেছিলেন। তার কথাগুলো অবশ্য অনেক মজার। তিনি বলেন, ‘মিশর এখন চমৎকারভাবে এগিয়ে চলছে। কারো কোন অভিযোগ নেই। অভিযোগ করার কোন উপায়ই নেই।’ এই যে অভিযোগ করার উপায়ই নেই হয়তো পৃথিবীর মানচিত্রের একটি বড় অংশের পরিস্থিতিই এখন তাই। দিকে দিকে এখন কট্টরপন্থার জয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি জিতে যান তবে পৃথিবীটা পুরোই বদলে যাবে এ কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়।