এ ঈদে রাঙ্গামাটিতে শুধু চট্টগ্রামের পর্যটকই ভরসা

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৯ জুন , ২০১৭ সময় ০৯:৩৪ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম ঃ রাঙ্গামাটি পাহাড় ধসের ঘটনার পর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন হওয়ার পর পর্যটক না থাকায় পর্যটক ব্যবসা ধস সড়কের আংশিক মেরামত কাজ করে হালকা যানবাহন চলাচল করছে। এ ঈদে রাঙ্গামাটিতে শুধু চট্টগ্রামের পর্যটকই ভরসা।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিনোদন প্রত্যাশী কিছু কিশোর কিশোরী সহ লোকজন আসায় পর্যটন কেন্দ্র রাঙ্গামাটিতে রোদের ঝলক । তবে অনান্য বছরের ঈদের তুলনায় পর্যটন এলাকার বিনোদন প্রত্যাশী লোকজন নেই । পর্যটন কর্পোরেশনের আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, গেষ্ট হাউজ, রেষ্টুরেন্ট এবং টুরিষ্ট পরিবহন গুলো অনেকটা ফাকাঁ । গত দশ বৎসরে পাহাড়ের অন্যতম আয়ের উৎস হচ্ছে পর্যটন শিল্প ।

গত ১৩ জুন স্মরণকালের পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়ক সরাসরি যোগাযোগ বন্দ্ব হয়ে যায় । পাহাড় ধসের ঘটনায় সেনাবাহিনির কর্মকর্তা ও সৈনিক সহ ১শত ৫৭ জন নিহত হয় । এই ঘটনার পর থেকে রাঙ্গামাটিতে কোন পর্যটক যাচ্ছেনা । রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি শালবন এলাকায় ১শত মিটার দৈঘ রাস্তা ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন হয়ে যায় । পাহাড় ধসের পর সেনাবাহিনী ও সড়ক ও জনপথ বিভাগ সাপছড়ি এলাকায় বিকল্প সড়ক নির্মান করে হালকা যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে দেয় । সরেজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায় চট্টগ্রাম শহর থেকে যাত্রী নিয়ে বাস ঘাঘড়া এলাকায় নিয়ে নামিয়ে দেয়া হয় । ঘাগড়া থেকে লোকজন সিএনজি অটোরিক্সা করে রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করছে। ট্রাক যোগে চট্টগ্রাম শহর থেকে জ্বালানী তৈল সহ মালামাল ঘাগড়া এলাকায় নিয়ে ট্রাক থেকে নামিয়ে হালকা পিক আপ ট্রাকে করে রাঙ্গামাটিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ।

রাঙ্গামাটি থেকে তরি তরকারী, ফল হালকা পিক আপ ট্রাকে করে ঘাগড়ায় নিয়ে আসার পর পিক আপ ট্রাক থেকে নামিয়ে ট্রাকে তুলে চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে । অপরদিকে রাঙ্গামাটি থেকে যান্ত্রিক বোট যোগে তরিতরকারী, ফল, কাপ্তাই নিয়ে গিয়ে বোট থেকে নামিয়ে ট্রাকে ভর্তি করে কাপ্তাই সড়ক দিয়ে চট্টগ্রাম শহর ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করা হচ্ছে । রাঙ্গামাটি থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ভর্তি কাঠ, ও বাশঁ চট্টগ্রাম শহর সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যেতো পাহাড় ধসের ঘটনার পর তা বন্দ্ব হয়ে কাঠ ও বাশঁ ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে জীবন যাপন করছেন । এছাড়া ও রাঙ্গামাটি শহর দেশের বিভিন্ন স্থানে কাঠ ও বাশঁ ট্রাকে করে পরিবহন বন্দ্ব হয়ে যাওয়ায় পরিবহন শ্রমিক কয়েক হাজার কাঠ ও বাশঁ ট্রাকে তুলে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়েছে ।

রাঙ্গামাটি পর্যটন কেন্দ্রের অর্ভর্থনা কারী জগদিশ চাকমা বলেন পর্যটন হোটেল গুলো প্রতি বৎসর ঈদের সময়ে পর্যটক ভর্তি থাকলে ও বর্তমানে তেমন কোন পর্যটক নেই । সড়ক দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকে কিছু পর্যটক এসে হোটলের কয়েকটি রুম ভাড়া করে নিয়েছেন । পর্যটন এলাকার আমড়া বিক্রেতা সাইফুল বলের পুর্বে প্রতিদিন পর্যটন এলাকায় আমড়া বিক্রয় করে তিন হাজার টাকা আয় করতাম । পাহাড় ধসের ঘটনার পর প্রতিদিন ৫শত থেকে ৭ শত টাকার আমড়া বিক্রয় করছি । রাঙ্গামটি মানিক ছড়ি এলাকার মুন্সি আবদুর রউফ চত্বর এলাকার তোবা কফি হাউজের মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন পাহাড় ধসের ঘটনার পুর্বে প্রতিদিন ৪ হাজার টাকা বিক্রয় করতাম পাহাড় ধসের ঘটনার পর থেকে তা কমে ১ হাজার টাকায় নেমে এসেছে । সরেজমিনে পরিদশন কালে দেখা যায় রাঙ্গামাটি সড়কের ঘাগড়া, মানিকছড়ি, সাপছড়ি, ভেদভেদি, বনরুপা এলাকায় কয়েকটি স্থানে সড়ক বিধস্থ হয়ে পড়েছে । র্ঙ্গাামাটি সড়কের দুই পার্শ্বে একধিক স্থানে উচু পাহাড় যে কোন সময়ে সড়কের উপর ধসে পড়ে সড়ক বিধস্থ হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে ।

সরেজমিনে পরিদর্শন কালে রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠা আবাসিক হোটেল গুলো শুন্য হয়ে পড়ায় হোটেল ব্যবসায়ীদের ব্যবসা লাটে ঊঠেছে । এলাকার লোকজন ও ব্যবসায়ীরা জানান রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়ক পুনঃ নির্মান করার পর সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু হলে পর্যটন ব্যবসা ও অনান্য ব্যবসার প্রাণ ফিরে পাবে ।