এসেছে তামিম ।দেখেছে চট্টগ্রাম

প্রকাশ:| রবিবার, ২৩ জুন , ২০১৩ সময় ০৬:৪১ অপরাহ্ণ

tamim mবাড়ির পাশের চিটাগাং ক্লাবে অনেকবার এসেছেন তামিম। তবে শনিবারের আসা ছিল অন্যরকম। বিয়ের সাজে। আর এ দিনটির জন্য তামিমের ছিল অনেক দিনের অপেক্ষা। অনেক সময় ব্যাটে-বলে মেলে না, তেমনিভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে ছিল নানা টানাপড়েন। তামিমের পরিবার দিনক্ষণ ঠিক করতে করতে শেষপর্যন্ত ২২ জুন শনিবার। তিন কোটি টাকার আয়োজনে বেশ কয়েকদিন ধরেই চলেছে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। বিয়ে হতে হবে রাজকীয়-স্মরণীয়। তাই কোনো কিছুর কমতি ছিল না।

নিñিদ্র নিরাপত্তা, ভক্ত-সমর্থকদের, সাংবাদিকদের ছবি তোলাতে কড়াকড়ি কিছুই বাদ যায়নি। সবশেষে শনিবার রাতে তামিমের হয়ে গেল আয়েশা। হাজারো তরুণীর মনে হৃদয় জাগানো তামিম অনেক দিনের সঙ্গিনী আয়েশা অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে ধরা দিল। জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার তামিম ইকবাল দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার পালা শেষ হয়েছে শনিবার। আয়েশা সিদ্দিকা চট্টগ্রামের সানসাইন গ্রামার স্কুল থেকে পড়ালেখা শেষ করে মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। আয়েশা চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াসিন ও মমতাজ বেগমের কনিষ্ঠ মেয়ে। দীর্ঘ ৮ বছর প্রণয় শেষে ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল খান রাজসিকভাবে জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছেন। প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা ব্যয় করে তামিম শনিবার দীর্ঘদিনের প্রেয়সী আয়েশা ছিদ্দিকাকে নিজের করে নিচ্ছেন। এ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে কোনো কিছুতেই কার্পণ্যতা করেনি দেশের ক্রীড়া জগতের ঐতিহ্যবাহী ‘খান’ পরিবার। শুক্রবার রাতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে নাচ-গানে ভরপুর ছিল চিটাগাং ক্লাবের টেনিস কমপ্লেক্স। আর সবকিছুর তদারকিতে ছিলেন ক্রিকেটার হাবিবুল বাশার সুমন, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, খালেদ মাসুদ পাইলট। বাংলাদেশ টেলিভিশনের কলাকুশলীরা রয়েছেন আগা গোড়ায়। রাতভর চলে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। অনেকের ইচ্ছে থাকলেও গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে তামিম-আয়েশার ছবি তুলতে পারা যায়নি। কারণ নিরাপত্তা আর নিষেধাজ্ঞা বেড়াজালে বন্দি ছিলেন ফটোগ্রাফাররা। পাশের দেশ ভারত থেকে তৌশিক সাবরি ও সাদাফ সাবরির গানে অনেকক্ষণ মোহগ্রস্ত থাকেন অতিথিরা। ছবি তুলতে মালয়েশিয়া থেকে আনা হয়েছে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম ক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত দেশের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল এ বিয়ে অনুষ্ঠান ছিল অনেক প্রাণবন্ত। ক্রিকেট জগৎসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল চট্টগ্রাম ক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ড। তামিমের বিয়ের বার্তা পৌঁছে দিতে বেশ কয়েক দিন ধরে নগরীর কাজীর দেউড়ির খান বাড়িকে সাজানো হয়েছে চোখ ধাঁধানো সাজে। গায়ে হলুদ, সংগীতানুষ্ঠান ও বিয়ের স্টেজসহ যাবতীয় সাজসজ্জার দায়িত্বে ছিল ঢাকার তামিমের এক বন্ধুর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান। সাজসজ্জার পেছনে খান পরিবারকে গুনতে হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। গায়ে হলুদ এবং বিয়ে অনুষ্ঠানের রান্নার দায়িত্ব পেয়েছিলেন ঢাকার ইকবাল হোসেন ভুলু বাবুর্চি। বিয়ের খাবার মেন্যুতে কাচ্চি বিরিয়ানিসহ ছিল ডজনখানেক আইটেম। শুক্রবারের গায়ে হলুদে খেয়েছেন ১৮০০ অতিথি। আর বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয়েছে সাড়ে চার হাজার অতিথিকে।

তামিমের বিয়েতে মা নুসরাত ইকবাল পুত্রবধূকে দিয়েছেন ৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। ব্যয়বহুল এ বিয়েতে কাবিন ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। পৌনে তিন কোটি টাকার এ বিয়েতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ সংসদ সদস্যরা, চট্টগ্রামের বাসিন্দা সব মন্ত্রী, সিটি মেয়র ও সাবেক মেয়র, শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ প্রায় দুই হাজার ভিভিআইপি অতিথিকে দাওয়াত করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার বাদ জুমা তামিম-আয়েশার আকদ অনুষ্ঠিত হয়েছে নগরীর কদমতলী বায়তুশ শরফ জামে মসজিদে। মাওলানা কুতুবউদ্দিন তার আকদ পড়ান। দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ছাড়া তেমন কেউ এ আকদে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানান তামিমের ফুফা সিরাজুদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর। ক্রিকেট ভক্তদের চাপে মসজিদে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি তামিম। বিয়ের কাবিন ২০ লাখ টাকা। প্রায় ১০০ ভরি স্বর্ণ দেয়া হবে। জুমার নামাজ শেষে আকদ করে তড়িঘড়ি করে মসজিদ আঙিনা ছাড়েন। সরাসরি চলে যান আগ্রাবাদস্থ ২৩নং সিডিএ আবাসিক এলাকা শ্বশুরের বাড়িতে। রাজধানী ঢাকার নামকরা বাবুর্চির পরিবেশনায় কাচ্চি বিরিয়ানি দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের ভূরিভোজ করা হয়। তামিমের চাচা শ্বশুর মো. ইউছুফ জানান, বিয়ে-শাদি আল্লাহর হুকুম। আল্লাহ যেখানে জোড়া রেখেছে সেখানে বিয়ে হচ্ছে। আমরা সবাই খুশি।