এশিয়ার বিখ্যাত মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদী ম্যাটারনিটি ক্লিনিক

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:২২ অপরাহ্ণ

হালদা নদীএশিয়ার বিখ্যাত মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদী। রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশের পোনার জন্য এ নদীর খ্যাতি রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং মিয়ানমারেও। এই নদীকে মাছের ম্যাটারনিটি ক্লিনিকও বলা হয়। প্রাচীনকালে মাছের পোনার ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র ছিল হালদা। দেশের বিভিন্ন জায়গার ব্যবাসীরা এখানে আসতেন পোনা সংগ্রহ করতে। মিয়ানমারের আরাকান এবং আসামের আক্রোপ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা আসতেন পোনা কিনতে। প্রজনন মৌসুমে সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও কর্ণফুলী নদী থেকে ডিম ছাড়তে হালদার মিষ্টি পানিতে চলে আসে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে পূর্ণিমা তিথিতে প্রবল বর্ষণ আর মেঘের গর্জনের যে কোনো মুহূর্তে এখানে ডিম ছাড়ে মা মাছ। ডিম সংগ্রহ করতে প্রস্তুত থাকেন এলাকাবাসী। ডিম ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় উৎসব। জাল ফেলে ডিম তুলে নেয়া হয় নৌকায়। এরপর রাখা হয় জাল দিয়ে তৈরি বিশেষ খাঁচিতে। তারপর হালদা তীরবর্তী ধানি জমিতে মাটির কুয়া করে সেগুলো ছেড়ে দেয়া হয়। ৭-৮ মিনিট পর পরিস্ফুটনের জন্য নাড়া দেয়া হয়। তখন রেণুর রঙ সাদা আকার ধারণ করে। এরপর বারবার পানি পরিবর্তন করতে হয়। ৪-৫ দিন পর এগুলো বাজারজাত করা হয়। প্রতি কেজি রেণু বিক্রি হয় ৩২ থেকে ৪০ হাজার টাকায়।

পরিসংখ্যানে জানা গেছে, হালদা নদী থেকে ১৯৯৭ সালে ৩৩ হাজার ৭৫০ কেজি, ১৯৯৮ সালে ১৪ হাজার ৫৪৭ কেজি, ১৯৯৯ সালে ৬৫ হাজার ৮২০ কেজি, ২০০০ সালে ৭৫ হাজার কেজি, ২০০১ সালে ২২ হাজার ৯২২ কেজি, ২০০২ সালে ২৫ হাজার ৮৩৫ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়। মোট ডিমের ৯০ শতাংশ কাতলা, ৯ শতাংশ রুই-মৃগেল এবং কালিবাউশসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছের ডিম ১ শতাংশ। ১০ থেকে ১৫ কেজি ওজনের একটি কাতলা ডিম দেয় অন্তত ৩০ লাখ। ১০-১৫ কেজি ওজনের মৃগেল ডিম দেয় ২০ লাখ। ১৫-২০ কেজি ওজনের রুই ডিম দেয় ২৫-৩০ লাখ। হালদায় মা মাছের ডিম কমে যাওয়া সম্পর্কে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, ক্ষেতে প্রয়োগ করা বিষাক্ত দ্রব্য বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে হালদায় পড়ে। তাছাড়া হাটহাজারীর বিদ্যুৎ পিকিং পাওয়ার প্লান্টের তৈলাক্ত দূষিত বর্জ্য, চট্টগ্রাম এশিয়ান পেপার মিলের বর্জ্য ও চা-বাগানে ব্যবহৃত বিষাক্ত পদার্থ এ নদীতে পড়ে। এ কারণে মা মাছ আগের মতো ডিম দিচ্ছে না। এছাড়া এই নদীর ১১টি বাঁক কেটে দেয়া হয়েছে। ফলে স্রোত কমে গেছে। মা মাছ ডিম না দেয়ার এটাও একটা কারণ।