এলএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়মুক্তি

প্রকাশ:| রবিবার, ১১ জানুয়ারি , ২০১৫ সময় ০৯:০৪ অপরাহ্ণ

টাকার বিষয়ে কোন তথ্য দিচ্ছেনা ইলিয়াসনগরীর আদালত পাড়ায় বস্তাভর্তি ৫৮ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ভূমি অধিগ্রহণ শাখার (এলএ) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়মুক্তি দিয়েছে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি।

রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের কাছে এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

টাকা উদ্ধারের ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবুল হোসেন এই প্রতিবেদন দাখিল করেন।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি এবং বস্তাভর্তি টাকার সঙ্গে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনা এবং দুর্নীতি রোধে আটটি সুপারিশ করেছেন তদন্তকারি কর্মকর্তা।

উল্লেখযোগ্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, এলএ শাখার সার্বিক কাজের আধুনিকায়ন, ভূমি অধিগ্রহণের টাকা লেনদেনে ব্যাংকের মাধ্যমে নিশ্চিত করা, কর্মকর্তাদের সৎ ও নিষ্টার সঙ্গে দায়িত্বপালন নিশ্চিত ও ভূমি অধিগ্রহণে স্বচ্ছতা আনা।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবুল হোসাইন বলেন, টাকা উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে জেলা প্রশাসনের কোন সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাইনি। তবে, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য আটটি সুপারিশ করেছি।

অভিযুক্ত ব্যক্তি, জেলা প্রশাসনে সেবা নিতে আসা লোকজন ও গণশুনানী শেষে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত হয় বলে জানান তিনি।

গত বছরের ১৪ অক্টোবর নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য পরিচয়ে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি মুঠোফোনে চট্টগ্রাম আদালত ভবন উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। হুমকির পর আদালত ভবনে নিরাপত্তা জোরদার করে আদালত ভবনে আসা লোকজনকে তল্লাশী চালানো হলে বস্তাভর্তি ৫৭ লাখ ৯২ হাজার টাকাসহ পুলিশের কাছে আটক হন ইলিয়াছ নামে এক যুবক।

এসময় একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দাবি করেন, বস্তাভর্তি টাকাগুলো জেলা প্রশাসনের এলএ শাখায় ঘুষের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। টাকাসহ আটক হওয়ার আগে ইলিয়াছের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার সার্ভেয়ার শহীদুল ইসলাম মুরাদের একাধিকবার কথা হওয়ার বিষয়টিও এসময় সামনে আসে। অভিযোগ উঠে, পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর তিনি ইলিয়াছকে ছাড়িয়ে আনতে গিয়েছিলেন।

জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর এ ঘটনায় সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন চেয়ে জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে।

বস্তাভর্তি টাকা উদ্ধারের পর সংবাদ মাধ্যমগুলোতে জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার সার্ভেয়ার-কানুনগোদের দুর্নীতি নিয়ে একের পর এক প্রকাশিত হয় চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন। ভূমি অধিগ্রহণের টাকা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে সার্ভেয়ার নুর চৌধুরী ও শহীদুল ইসলাম মুরাদ নিয়ন্ত্রিত সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে, যাদের অনেককেই ঘটনার পর চট্টগ্রামের বাইরে বদলি করা হয়েছে।

এদিকে, ৫৪ ধারায় টাকাসহ আটকের পর ২০ অক্টোবর ইলিয়াছের বিরুদ্ধে অর্থপাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনকে ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেন।

দুদক সূত্র জানায়, টাকা উদ্ধারের ঘটনায় ইলিয়াছকে রিমান্ডে নিয়ে গেলেও সে এ ব্যাপারে দুদকের কর্মকর্তাদের কাছে মুখ খোলেনি। দুদক অন্যান্য সূত্রগুলোর মাধ্যমে এ ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। –


আরোও সংবাদ