এরশাদ হচ্ছেন রাজনৈতিক বিকৃতির এক উজ্জল দৃষ্টান্ত

প্রকাশ:| সোমবার, ১৪ জুলাই , ২০১৪ সময় ০৭:১৮ অপরাহ্ণ

ফখরুল1জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ হচ্ছেন রাজনৈতিক বিকৃতির এক উজ্জল দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ফখরুল এ মন্তব্য করেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়া উদ্দিন বাবলুর এক বিবৃতির জবাবে ফখরুল এই বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, এরশাদ যে ইতিহাস তুলে ধরেছেন সেটি তার নিজস্ব মনগড়া বিকৃত ইতিহাস। ইতিহাসে নায়ক খলনায়ক দুই ধারারই নাম লিপিবদ্ধ থাকে। তরুণ নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে বিভ্রান্ত করার জন্য আনুগত্যের ভান করে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল মীরজাফর গং। ঠিক তেমনি বৃদ্ধ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে আনুগত্য দেখিয়ে কুটিল চক্রান্তে লিপ্ত থেকে গণতন্ত্র বিনাশের পথ প্রশস্ত করেছিলেন এরশাদ এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা। অতঃপর তারা চূড়ান্তভাবে সফলও হন।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার একটি সংবাদপত্রে নিবন্ধ লেখেছেন এরশাদ। এতে তিনি জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে উল্লেখ করলেও নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে এর জবাবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। মির্জা ফখরুলও এক আলোচনা সভায় এরশাদের সমালোচনা করেন।পরে জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলু এক বিবৃতিতে ফখরুলের কথার জবাব দেন। সেই বিবৃতির জবাবে ফখরুল পাল্টা বিবৃতি দিলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এরশাদ যে রাজনৈতিক কালচার সৃষ্টি করেছেন তার বাইরে গিয়ে জনাব বাবলু সাহেব কিছু বলতে না পারারই কথা। এরশাদ গণতন্ত্র ও সংবিধানকে পদদলিত করে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে যে কেনাবেচার রাজনীতির সংস্কৃতি জন্ম দিয়েছিলেন, বাবলু সাহেবরা সেই সংস্কৃতিতেই নিজেদেরকে অবগাহন করিয়েছিলেন। ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত আন্দোলনকে বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে যারা এরশাদের গণতন্ত্রবিধ্বংসী দুঃশাসনকে প্রলম্বিত করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে ধ্বংস করেছেন তারাই এখন গণতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদের বুলি আউড়াচ্ছেন। যারা ক্ষমতাসীনদের ভয়ে সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যায় নিশ্চুপ থাকেন, কাঁটাতারে ঝুলন্ত কিশোরী ফেলানীর লাশ দেখে টু শব্দটিও করেন না তারাই এখন জাতীয়তাবাদের প্রতিনিধি হয়েছেন। এরশাদের জাতীয়তাবাদী চেতনা হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের সুরে দক্ষিণ তালপট্টি বিসর্জনে আনন্দধ্বনি করা।

তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতাগ্রহণের পর এরশাদের সাথে জগতশেঠদের সংখ্যা বেড়ে যায়, যারা সেলিম, দেলোয়ার, হারুন, মোজাম্মেল, রাউফুল বসুনিয়া, দীপালী সাহা, বাবলু, জেহাদ, ডা. মিলনসহ অসংখ্য শহীদের লাশ ডিঙ্গিয়ে এরশাদের মোসাহেবি করেছেন, মন্ত্রিত্বসহ রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির বেপরোয়া লুটপাট করেছেন। এরশাদ কেনাবেচার রাজনীতিতে কিছু উচ্ছিষ্ট ছাড়া এদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী ছাত্রজনতা তার অনাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নিজেদের বুকের রক্তঢালা পথে এই আন্দোলনে প্রধান সিপাহসালারের ভূমিকা পালন করেছে। কারণ এরা বাবলু সাহেবদের মতো এরশাদের প্রলোভনে বিভ্রান্ত হয়নি। নিজেদের নিষ্পাপ আত্মাকে বিক্রি করেনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এরশাদের ভয়াল দুঃশাসনের বিরুদ্ধে অনন্য আপসহীন লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এরশাদের পাতানো নির্বাচনে না গিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এরশাদের আঁতাতের নির্বাচনে বর্তমান শাসক দলসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল যোগদান করে। তার বৈধতার জন্য এই নির্বাচন দরকার ছিল। সুতরাং কোনোভাবেই বিএনপিকে তার অবৈধ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাতে না পারায় এরশাদের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধই থেকে যায়। এই কারণেই বিএনপি’র প্রতি এরশাদের যত ক্ষোভ। সেই নির্বাচনে তো জামায়াতে ইসলামীও যোগ দেয়, তখন তো বাবলু সাহেবরা কিংবা তার নেতা এরশাদ সাহেব জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী বলেননি। বিএনপি ছাড়া তাদের সেই পার্লামেন্ট কত আনন্দেই না তারা মুখর রেখেছিলেন।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দৃঢ় কন্ঠে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সবকিছু হারিয়েও দেশ ও মানুষের পক্ষে লড়াই করছেন। অন্যায় অহংকারের কাছে কোনো দিনই মাথা নত করেননি। দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে শহীদ জিয়ার নাম মুছে ফেলা হয়েছে, তার বাড়িঘর কেড়ে নেয়া হয়েছে, তার সন্তানদের নির্যাতিত করা হয়েছে তারপরও বেগম জিয়া নীতির প্রশ্নে কোনো আপস করেননি। নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে সরে না এসে ৫ জানুয়ারির তামাশার নির্বাচন বর্জন করেন। এটিই হচ্ছে প্রকৃত জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত। ক্ষমতার গাজরের হালুয়ার লোভে রাজনৈতিক নীতিহীনরা যারা প্রতি প্রহরে রঙ বদলায় তারা কখনোই জাতীয়তাবাদী হতে পারে না।

ফখরুল বলেন, সুচতুর এরশাদ একাত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় নিজের কুকীর্তি ঢাকা দেয়ার জন্য স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে ফিরে এসে নানা কূটচাল দিয়ে বিভিন্ন বিভাজনকে উস্কে দিতেন। বিশেষ করে কপট এরশাদ মুক্তিযোদ্ধা ও পাকিস্তান প্রত্যাগত বিভাজনকে পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন। আর এরই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার ঘোষক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও জেনারেল মঞ্জুরকে প্রাণ দিতে হয়েছে। এভাবেই এরশাদ এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছেন।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, রাজনৈতিক দ্বিচারিতা, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, নির্লজ্জ মিথ্যাচার, বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও ধর্মের নামে ভন্ডামির এক মূর্ত প্রতীক হচ্ছেন এরশাদ।


আরোও সংবাদ