এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের কমিটি

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ সময় ০৮:৫৫ অপরাহ্ণ

আশির দশকে সাবেক সামরিক শাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের চট্টগ্রামের ছাত্রনেতাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ছাত্র ইউনিয়নের তৎকালীন নেতা অশোক সাহাকে আহ্বায়ক এবং ছাত্রলীগ নেতা জামশেদুল আলম চৌধুরীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

‘আশির দশকের স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র নেতৃবৃন্দ ফোরাম’ নামে ২১ সদস্যের এই কমিটি এরশাদবিরোধী আন্দোলনের ঐতিহাসিক স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা খোরশেদ আলম সুজন।

বর্তমানে নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সুজন বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের তাৎপর্যপূর্ণ বিভিন্ন ঐতিহাসিক দিন যথাযথভাবে পালিত হয় না। নতুন প্রজন্মের কাছেও আমরা সেদিনের অগ্নিঝরা আন্দোলনের কথা তুলে ধরতে পারছি না। এই চিন্তা থেকে আমরা একটি কমিটি করেছি। এই কমিটি স্বৈরাচার বিরোধী বিভিন্ন দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করবে।

‘এরশাদ ক্ষমতা নিয়ে মার্শাল ল জারি করেছিল। তাতে বলা হয়েছিল কেউ সামরিক শাসন বিরোধী মনোভাব পোষণ করলে ৭ বছর, আকারে-ইঙ্গিতে প্রকাশ করলে ১৪ বছর এবং গোপনে-প্রকাশ্যে কর্মকাণ্ড চালালে মৃত্যুদণ্ড হবে। সেদিন প্রাণের মায়া ত্যাগ করে যারা রাজপথে নেমেছিল তাদের ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে অবশ্যই জানতে হবে। ’ বলেন সুজন

কমিটির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়েছে। ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দেওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোজাম্মেল কাঞ্চন স্মরণে প্রথম এই কর্মসূচিটি পালিত হয়েছে।

নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে মোজাম্মেল কাঞ্চনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান আশির দশকে চট্টগ্রামের রাজপথ কাঁপানো ছাত্রনেতারা। এসময় অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ মনোয়ার, নগর আওয়ামী লীগ নেতা জামশেদুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, সিপিবি নেতা অমিতাভ সেন, ইমতিয়াজ উদ্দিন
পাশা।

উল্লেখ্য ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গঠিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শিক্ষাভবন ঘেরাও কর্মসূচী ঘোষনা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাভবন অভিমুখী মিছিল দোয়েল চত্বরে পৌঁছালে পুলিশ-বিডিআরের বাধার মুখে পড়ে। নির্বিচারে গুলিতে সেখানেই মোজাম্মেল কাঞ্চন, জাফর, জয়নাল, আইয়ুব, দীপালি সাহাসহ অনেকেই শহীদ হন। গুলিবিদ্ধ হন শতাধিক নেতাকর্মী। এ সংবাদ পৌঁছালে সামরিক ফরমান উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের ছাত্রসমাজ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ঘোষনা করে।

১৫ ফেব্রুয়ারি পলিটেকনিক কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রসমাজ মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজে যায়। সেখানে সম্মিলিত হাজার হাজার ছাত্রদের মিছিল শহীদ মিনারের দিকে যেতে চাইলে গণি বেকারির মোড়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে।

পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ছাত্রদের মিছিল শহীদ মিনারে যায় এবং সমাবেশ শুরু হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সিটি কলেজ থেকে কয়েক’শ ছাত্র শহীদ মিনারের সমাবেশে পৌছে। এসময় আর্মড ব্যাটালিয়ান পুলিশের গুলিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র মোজাম্মেল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।