এমপি রনির বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার দুই সাংবাদিক

প্রকাশ:| শনিবার, ২০ জুলাই , ২০১৩ সময় ০৮:০৯ অপরাহ্ণ

ডিনিউজ-জনপ্রিয় তরুণ সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি এমপির বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন বেসরকারি dnewsএকটি টেলিভিশন চ্যানেলের দুই সাংবাদিক। দেশের আলোচিত ব্যসসায়ী সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে কলাম এবং টেলিভিশন টক শোতে বক্তব্য প্রদান করায় কয়েকদিন যাব‍ত এমপি রনি ও তার অফিসের উপর নজরদারি শূরু করে সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন টিভি চ্যানেল ইন্ডিপেন্ডেন্ট। শনিবার এরই ধারাবাহিতকায় ঐ টেলিভিশন চ্যালেলের দুই সাংবাদিক অফিসের করিডোরে এমপি রনিকে লাঞ্চিত করার চেষ্টা করলে ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনা।
সম্প্রতি এমপি রনির লেখায় ক্ষিপ্ত হয়ে সালমান এফ রহমান নানা ফন্দি আটেন। তার নির্বাচনী এলাকায় কয়েকটা টিম কাজ চালিয়েছে। সেখানেও কোন অনিয়ম পায়নি। কিছু পেলেও তাতে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। এই মিশনে ব্যর্থ হয়ে নতুন ফন্দি আটেন সালমান রহমান। চেষ্টা করেন এমপি রনিকে ফাঁদে ফেলার। এরই ধারাবাহিকতায় তার মালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যালেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট এর সাংবাদিকদের দিয়ে শুরু করে নতুন যড়যন্ত্র। ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন গত ৭ দিন ৩৩ তোপখানা রোড়ে এমপি রনির অফিসে সকাল ৯টা থেকে রাত অবধি ক্যামেরা তাক করে কর্মকান্ড রেকর্ড করছিলো। এসময় বিভিন্ন ভাবে তাদেরকে এসব করার কারন জিজ্ঞাসা করলে তারা কোন উত্তর না দিয়ে বরং খারাপ আচরণ শুরু করে। অন্যদিকে তাদের এক রিপোর্টার প্রস্তাব করে যে, এমপি সাহেবের অনেক তথ্য আমাদের নিকট আছে। এসব বিষয় রিপোর্ট করতে না চাইলে আমাদেরকে খরচা পাতি দিতে হবে। তারা মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে বসে। এমপি রনি বিষয়টি মৌখিক ভাবে শাহবাগ থানাকে জানান।
শনিবার একটার দিকে গোলাম মাওলা রনি অফিসের বাইরে যাবার সময় ওখানে অবস্থানরত ঐ দুই সাংবাদিক সামনে এসে বলে কই বিষয়টি নিয়ে তো কিছু বললেন না। এসময় এমপি রনি কোন বিষয় তাদের কাছে জানেতে চান? এর মধ্যে একজন বলেন, আমরা যে ‍অ্যাসাইনমেন্ট এ এসেছি সেটার ব্যাপারে?
এসময় তারা কথা বার্তার একপর্যায়ে দুই সাংবাদিকে এমপি রনির সাথে থাকা একব্যক্তির উপর চড়াও হলে কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সেখানে থাকা লোকজন ঐদুই সাংবাদিককে থামানোর চেষ্টা করলে তারা আরো বেশি উত্তেজিত হয়ে উঠে। এসময় হাতাহাতির ঘটনায় আহত হন টিভি চ্যানেলটির দুই সাংবাদিক।
ঘটনার পর খবর পেয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি এক সমাঝোতা বৈঠকে বসেন। সেখানে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন টেলিভিশনের সাংবাদিকরা স্বীকার করেন, এমপি রনির অফিসে এক সরকারি কর্মকর্তা ২ কোটি টাকা ঘুষ দিতে আসবেন তার ছবি তুলতেই তারা সেথানে এসেছেন।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দীর্ঘ বৈঠকের পর বিষয়টি নিয়ে সমেঝোতা হয়।

এই প্রসঙ্গে এমপি রনি বলেন,– দরবেশের মালিকাধীন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন গত ৭ দিন যাবৎ আমার নির্বাচনী এলাকায় ক্যামেরা নিয়ে বাড়ী যাচ্ছিলো আমার বিরুদ্ধে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করার জন্য। অন্যদিকে গত ৪ দিন যাবৎ আমার ৩৩ তোপখানা রোড অফিসে সকাল ৯টা থেকে রাত অবধি ক্যামেরা তাক করে আমাদের কর্মকান্ড রেকর্ড করছিলো। আমরা বিভিন্ন ভাবে তাদেরকে এসব করার কারন জিজ্ঞাসা করলে তারা কোন উত্তর না দিয়ে বরং খারাপ আচরণ শুরু করে। অন্যদিকে তাদের এক রিপোর্টার প্রস্তাব করে যে, এমপি সাহেবের অনেক তথ্য আমাদের নিকট আছে। এসব বিষয় রিপোর্ট করতে না চাইলে আমাদেরকে খরচা পাতি দিতে হবে। তারা মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে বসে। আমি বিষয়টি মৌখিক ভাবে শাহবাগ থানাকে জানাই।
আজ বেলা একটার সময় আমি যখন বাইরে বের হচ্ছিলাম তখন তারা আমার সামনে এসে বলে কই বিষয়টি নিয়ে তো কিছু বললেন না।
৪ দিন ধরে তারা আমাকে দিন রাত ফলো করছেন। তারা উত্তর করে যে এটা তাদের অ্যাসাইনমেন্ট। আমি যখন বললাম একটা প্রাইভেট অফিসে আপনারা এটা করতে পারেন না। তারা বললো – পারি। আপনার ক্ষমতা থাকলে আমাদেরকে এখান থেকে সরান। আমার সঙ্গী লোকটি প্রতিবাদ করলে তারা উল্টো তেড়ে আসে।
হৈচৈ শুনে বিল্ডিংয়ের অন্যান্য ফ্লোর থেকে কয়েকশ লোক উপস্থিত হলে শুরু হয় হট্রগোল। এই অবস্থায় পুলিশ ও র‌্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
এরপর সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এসে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করেন এবং তাদের প্রস্তাবে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির সবাই চলে যায়।
আমার মনে হয় – যে কোন কারনে সালমান রহমান আমার প্রতি প্রচণ্ড ভাবে বিক্ষুব্ধ। তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারনে সে তার নিয়ন্ত্রনে থাকা টেলিভিশন ক্যামেরার মাধ্যমে আমাকে মানষিক চাপ দেবার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ঘটনার পর ৫০/৬০ জন গুন্ডা প্রকৃতির লোক পুলিশের সামনেই আমার অফিসে তান্ডব চালায় এবং আমাকে দেখে নেবার হুমকী দেয়। বিষয়টি আমি শাহবাগ থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।