এমপির প্রাণনাশের হুমকির প্রতিকার চেয়েছে সাংবাদিক

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর , ২০১৬ সময় ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

বাঁশখালী থেকে নির্বাচিত সরকারদলীয় সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগাল এবং প্রাণনাশের হুমকির প্রতিকার চেয়ে জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আবেদন করেছেন পূর্বদেশ পত্রিকার সাংবাদিক রাহুল দাশ।

বৃহস্পতিবার বিকালে এ আবেদন করা হয়।এতে সাংবাদিক রাহুল দাশ পেশাগত দায়িত্ব পালন ও জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।

নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেটে বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে যান এমপির প্রাণনাশের হুমকিতে থাকা সাংবাদিক রাহুল দাশ নয়ন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) একেএম এমরান ভুঁঞার কাছে তিনি আবেদনটি দাখিল করেন।

আবেদনের সাথে এমপির কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগালের অডিও সিডি, তথ্য অধিকার আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী পিআইও বরাবরে তথ্য চেয়ে সাংবাদিক রাহুলের করা আবেদনের অনুলিপিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দাখিল করা হয়। একই আবেদনের কপি চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন বরাবরেও প্রেরণ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) একেএম এমরান ভুঁঞা সাংবাদিক রাহুলের আবেদনটি গ্রহণ করে পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সাংবাদিক রাহুল দাশ নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন ও জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকার কথা জানিয়ে বলেন, এমপি সাহেব কেবল ব্যক্তি হিসেবে আমাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন নি। তিনি সাংবাদিকতা পেশা নিয়েও অমর্যাদা ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন।এতে সরকারের অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের পয়লা জুন ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনে বাঁশখালীতে ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালনে নিজের অনুগত লোকজনদের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ না দেওয়ায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগে স্থানীয় ১৪ ইউপিতে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।

এ ঘটনায় এমপিসহ তিনজনকে আসামি করে বাঁশখালী থানায় একটি মামলা করেন নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম। ওই মামলায় অভিযুক্ত তিনজনই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। আগামী ১২ নভেম্বর বাঁশখালীর ১৩ ইউপিতে ভোটগ্রহণের নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে ইসি।