এমকে-১১ রাইফেল বাংলাদেশে কিভাবে আসলো?

প্রকাশ:| রবিবার, ২৭ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ১১:২২ অপরাহ্ণ

MK -11 rifleনিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার  মোহম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সমাজের মধ্যে বিভাজন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য মসজিদে হামলা করা হচ্ছে। যারাই করুক তারা জেনে শুনে পরিকল্পনা করে করছে। কাদিয়ানি মসজিদে হামলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে যে ধরনের হামলা হয় সে ধরনের হামলা হয়েছে। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। তিনি বলেন, সৌদি সামরিক জোটে বাংলাদেশ যোগ দিয়ে নিজেদের বিপদ ঢেকে আনলো কিনা সেটাও দেখার বিষয়। চট্টগ্রামে জঙ্গি আস্তানা থেকে এমকে-১১ রাইফেল উদ্ধার হয়েছে। এ রাইফেল তো সর্বাধুনিক অস্ত্র। মধ্যপ্রাচ্য ইরাকে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এ অস্ত্র জঙ্গিদের কাছে কিভাবে আসলো। এটা তো খোলা বাজারে কেউ কিনতে পারবে না। এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। এটার অনুসন্ধান কে করবে। জঙ্গি আস্তানাগুলো খুঁজে বের করার দায়িত্ব যাদের তারা কতটা পারদর্শী। গোয়েন্দাদের দুর্বলতা আছে। তাদের যে মুখ্য কাজ তারা সেটা বাদ দিয়ে অন্য কাজ করছে। এটাকে হালকা করে দেখার বিষয় না। দেশের মধ্যে যে জঙ্গি সংগঠনগুলো আছে তারা এখন কোথায়। তারা কি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। এটা তো দেশের জন্য আশনিসংকেত। বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হলে কিভাবে মোকাবিলা করবে সরকার। এজন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া প্রয়োজন। যারা সরকারের সঙ্গে সুর মেলায় তাদের কথা শুনলে হবে না। এ  নিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক সংলাপের প্রয়োজন।

ইন্টারনেট সূত্র থেকে পাঠকদের জন্য এমকে-১১ রাইফেলের বর্ণনা:: নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের MK -11 rifle(জেএমবি) চট্টগ্রামের আস্তানা থেকে রবিবার (২৭ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি (এমকে-১১ রাইফেল) স্নাইপার রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশে স্নাইপার রাইফেল উদ্ধারের বিষয়টি বেশ বিরল বলে উল্লেখ করে চট্টগ্রামে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আক্তার বলেছেন, “অস্ত্রটির গায়ে লেখা আছে এমকে ডাবল ওয়ান। এধরণের স্নাইপার রাইফেল পাওয়ার খবর আমি আগে কখনো দেখিনি। এটি পুরনো ধরনের এমকে ইলেভেন।”

ইন্টারনেটের মাধ্যমে যানা যায় বিশ্বের অন্তত ৫০টি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করে। এর মধ্যে বাংলাদেশও একটি। অতীতে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রেও স্নাইপার রাইফেল ব্যবহৃত হয়েছে। ইন্টারনেট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধে এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যা করতে স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছে। স্নাইপার রাইফেল কী? সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের মতে, স্নাইপার রাইফেল হলো, এমন এক ধরনের বিশেষায়িত অস্ত্র যা দিয়ে টেলিস্কোপের সাহায্যে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা যায়। সাধারণ ছোট অস্ত্র থেকে এর প্রধান পার্থক্য হলো অনেক দূর থেকে এই অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যায়। এ কারণে অন্য কোনও অস্ত্র এর সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে না। একটা সাধারণ বোল্ট অ্যাকশন রাইফেলের সঙ্গে একটা স্নাইপার রাইফেলের মূল পার্থক্য হচ্ছে, এর গড়ন ও এর অ্যাকশনের ধরন। একটা সাধারণ রাইফেলকে বানানো হয় খুব দ্রুত এবং শক্তিশালী বুলেট ছোড়ার জন্য। যেখানে একটা স্নাইপার রাইফেল তৈরি হয় ধীরেসুস্থে দূরবর্তী টার্গেটকে সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য। নির্ভুলতার জন্য এতে শক্তিশালী টেলিস্কোপিক সাইট থাকে। এতে সাধারণ বুলেটের বদলে মিলিটারি সেন্টারফায়ার কার্টিজ ব্যবহার করা হয়। যারা স্নাইপার রাইফেল বহন ও পরিচালনা করেন, তাদের স্নাইপার বলা হয়। বিশ্বে দশ রকমেরও বেশি স্নাইপার রাইফেলের প্রচলন রয়েছে। সেগুলো হলো, এম ২৪, এসআর ২৫, এল ৪২ এনফিল্ড, এম ২১, পিএসজি ১, ড্রাগনভ এসভিডি, এএস ৫০, ব্যারেট.৫০ ক্যাল, চেট্যাক.৪০৮ ক্যাল এবং এল ১১৫ এ ৩ এডব্লিউএম। স্নাইপার রাইফেলের গঠন অনুযায়ী ৪ কেজি থেকে সাত কেজি পর্যন্ত ওজন হয়ে থাকে। স্নাইফার রাইফেল এম-১০৭ স্নাইপার রাইফেল প্রথম ইসরাইল তৈরি করে। এরপর আমেরিকা নতুন একটি ভার্সন তৈরি করে। ইসরাইল ও আমেরিকার পর ব্রিটেন, রাশিয়া ও চায়না একেএকে বিভিন্ন আপডেট নিয়ে আসে স্নাইপার রাইফেলে। ১৫০০ গজ থেকে চার হাজার গজ পর্যন্ত দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে সক্ষম। যেসব রাষ্ট্র স্নাপাইর রাইফেল ব্যবহার করে স্নাইপার একটি নীরব ঘাতক। বিশ্বের অনেক নেতা, ব্যবসায়ী এমনকি ব্যক্তিগত শত্রুতার বলি হয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে স্নাইপারের গুলিতে। নিরাপত্তা ও যুদ্ধের প্রয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ স্নাইপার ব্যাবহার করে। এসব দেশগুলো হলো, হাঙ্গেরি, ইসরাইল, আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, লেবানন, অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড, থাইল্যান্ড, আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, নেপাল, আফগানিস্তান, ইন্ডিয়া, শ্রীলঙ্কা, আলবেনিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, লুথেনিয়া, লুক্সেমবার্গ, মালয়শিয়া, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, স্পেন, পাকিস্তান, আলবেনিয়া, বাংলাদেশ (চায়নিজ ভার্সন), বেলারুশ, বুলগেরিয়া, চায়না, চেক রিপাবলিক, ফিনল্যান্ড, জর্জিয়া, হাঙেরি, ইরাক, ইরান, কাজাখাস্তান, কিরগিস্তান, নিকারাগুয়া, উত্তর কোরিয়া, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, রাশিয়া ফেডারেশান, স্লোভাকিয়া, সাবেক সেভিয়েত ইউনিয়ান, তুরস্ক, তাজিকিস্তান, ইউক্রেইন, উজবেকিস্তান, ভেনেজুয়েলা ও ভিয়েতনাম। যেসব যুদ্ধে স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশবযুদ্ধ, কোরিয়ান যুদ্ধ, আফগান ঔপনিবেশিক বিরোধ, আরব-ইসরাইল যুদ্ধ, নেপালের গৃহযুদ্ধ, রাজীব গান্ধী হত্যা, আইরিশ স্বাধীনতা যুদ্ধ, আফগানিস্তান যুদ্ধ, ইরাক যুদ্ধ, পূর্বতিমরুজ সংকট, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, কম্বোডিয়া-ভিয়েতনাম যুদ্ধ, সোভিয়েত-আফগানিস্তান যুদ্ধ, প্রথম ও দ্বিতীয় চেচেন যুদ্ধ। স্নাইপার বনাম একে ৪৭ রাইফেল
একে-৪৭ রাইফেল ইসরাইল ও আমেরিকার তৈরি স্নাইপার রাইফেলের বিপরীতে ১৯৪১ সালে রাশিয়ার সেনাকর্মকর্তা মিখাইল কালাশনিকভ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে একটি অটোমেটিক রাইফেলের নকশা তৈরি করেন। যা সব পরিস্থিতিতে টেকসই এবং আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে হবে বিধ্বংসী। প্রায় সাত বছরের পরিশ্রমে তিনি তৈরি করেন একে-৪৭। কালাশনিকভের সেই নকশা করা আগ্নেয়াস্ত্রটিই গত অর্ধশতাব্দীতে সারাবিশ্বে সমাদৃত হয়ে আছে। একে-৪৭ চল্লিশের দশকে সে সময়কার সোভিয়েত ইউনিয়নের নকশাবিদ মিখাইল কালাশনিকভের কাছ থেকে বিশ্ববাসী পেয়েছিল ধ্রুপদী নকশার সহজলভ্য, শক্তিশালী আর পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই মারাত্মক এ আগ্নেয়াস্ত্রটি। কালাশনিকভ যে স্বয়ংক্রিয় রাইফেলটি উদ্ভাবন করেন, তা বিশ্বের সবচেয়ে ব্যবহৃত একটি আগ্নেয়াস্ত্র। তার নামেই এটির নামকরণ হয়েছিল। এর নকশাও খুবই সাদামাটা আর এটি তৈরি করতে খরচও খুব কম। এ ছাড়া অস্ত্রটির রক্ষণাবেক্ষণও সহজ। বিশ্বে বর্তমানে ১০ কোটিরও বেশি কালাশনিকভ রাইফেল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। জঙ্গিদের হাতে স্নাইপার রাইফেলের বিষয়ে সাবেক সেনাকর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন নিউজচিটাগাংকে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ও ভারী রাইফেল। এটি দেশের জঙ্গিদের হাতে চলেও যাওয়া মানেই বিপজ্জনক। তারা এসব রাইফেল কোথা থেকে পায়, তা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খুঁজে বের করতে হবে। এটা তো খোলাবাজারে বিক্রি হয় না। তাহলে তারা পেল কোথায়?’

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, গুগল ও স্নাইপার ও একে ৪৭ রাইফেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট।