এমএলএম আইন চূড়ান্ত

প্রকাশ:| সোমবার, ১৯ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৫:৩৫ অপরাহ্ণ

montreeলাইসেন্স ছাড়া মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসা করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং সর্বনিম্ন ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫০লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে এমএলএম (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এটিসহ আরো তিনটি আইনের অনুমোদন দেয়া হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের বলেন, দেশের এমএলএম ব্যবসাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতেই এই আইনটি করা হলো। এটি এখন অধ্যাদেশ আকারে জারি থাকবে।

এ ছাড়া কোনো কোম্পানি সরকারের কাছে অপরাধী বলে গণ্য হলে সরকার তার বোর্ড রহিত করে এক বা একাধিক প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারবে।

এর ফলে চলমান কোম্পানিগুলোর ব্যবসা বন্ধ হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান কোম্পানিগুলোকে ৯০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স করতে হবে। না করলে কোম্পানি বন্ধ করে দেয়া হবে।

এমএলএম কোম্পানিগুলো ইলেক্ট্রনিকস ও গৃহস্থালি পণ্যের ব্যবসা করতে পারবে। যেমন ইলেকট্রিক এন্ড ইলেকট্রনিক্স, প্রসাধন সামগ্রী, টেলিকমিউনিকেশন সামগ্রী ও কৃষিজাত পণ্যসহ ৬ ধরণের পণ্য এর আওতায় আসবে।

লাইসেন্সের মেয়াদ ১ বছর হবে এবং পরে কোম্পানিগুলো চাইলে নবায়ন করতে পারবে। তবে আইনের শর্ত ভঙ্গ করলে সরকার কোম্পানির লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে।

শাস্তির বিধান সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, লাইসেন্স ছাড়া এমএলএম ব্যবসা করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

এ ছাড়া অনুমতি ছাড়া লাইসেন্স হস্তান্তর করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদন্ডসহ ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে এবং বিদ্যমান কোম্পানিগুলো ৯০ দিনের মধ্যে লাইসেন্স না করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকার জরিমানার বিধান রয়েছে এই আইনে।

এ ছাড়া টার্গেটকৃত ভোক্তা বা ক্রেতার অনুমতি ছাড়া কোনো এমএলএম কোম্পানির প্রতিনিধি যদি তার বাড়িতে গিয়ে পণ্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বসে থাকে তবে তার জন্যও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং এ আইনে উল্লেখ নাই এমন কোনো কার্যক্রম যদি অপরাধ বলে গণ্য হয় তবে সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। আর এ অপরাধ যদি কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি একাধিকবার করে তবে সেক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপেই এ শাস্তি দ্বিগুণ করার বিধান রাখা হয়েছে এ আইনে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ আইনে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানই দায়ী হবেন। অপরাধ হবে আমলযোগ্য। যেখানে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই অপরাধীকে গ্রেফতার করতে পারবে।

এ ছাড়াও আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সংশোধন অধ্যাদেশ ২০১৩ এর খসড়ার অনুমোদন এবং ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন ২০১৩ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদনসহ সার্ক এগ্রিমেন্ট অন ট্রেড ইন সার্ভিসেস-এর আওতায় বাংলাদেশের সিডিউল অব স্পেসেফিক কমিটমেন্টসেরও অনুমোদন দেয়া হয়েছে।