এম,এ,আজীজ পরিবারকে ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রূপায়ন হাউজিংকে নির্দেশ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ , ২০১৬ সময় ০৮:৫৪ অপরাহ্ণ

rupayan-land-development1মুক্তিযুদ্ধের ১দফার ঘোষক তথা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, প্রাক্তন এম,এন,এ মরহুম এম,এ আজীজ ও এম, এ মজীদ ভাতৃদ্বয়ের মালিকানাধীন প্লটে দীর্ঘ ৬ বছরেও উন্নয়ন কাজ শুরু করতে না পারায় উভয় পরিবারকে ১কোটি ২৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন সালিশী ট্রাইবুন্যাল।

সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিক ও ডেভলপার কোম্পানীর বিরোধ নিষ্পত্তিতে গঠিত সালিশী ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক সদস্য ও চট্টগ্রাম বার এর সাবেক সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ কবির চৌধুরী উল্লেখিত রোয়েদাদ ঘোষণা করেন।

প্রতিপক্ষ রূপায়ন হাউজিং এস্টেট লিঃ নামীয় ডেভলপার কোম্পানী কে মরহুম এম,এ আজীজ ও মরহুম এম,এ, মজীদ পরিবারদ্বয়কে উক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়। পক্ষদ্বয়ের সম্পাদিত চুক্তিপত্রের আলোকে সালিশী আইন ২০০১ এর বিধান মতে ৩ সদস্যের গঠিত উক্ত ট্রাইবুন্যাল এর সম্মানিত অপর আরবিট্রেটর দ্বয়ের একজন এডভোকেট সৈয়দ আনোয়র হোসেন ও ট্রাইবুন্যালের চেয়ারম্যান মোঃ কবির চৌধুরী উক্ত সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করলেও অপর আরবিট্রেটর এডভোকেট মোঃ সোলায়মান ভিন্নমত পোষণ করেন।

ভিন্ন মতে তিনি রূপায়ন এস্টেট লিঃ কোম্পানীকে উন্নয়ন কাজ করার সুযোগ দানের পক্ষে অভিমত প্রকাশ করেন। আদালতে মামলার জট কমাতে সালিশী কাউন্সিল গঠন করে উভয়ের বিরোধ নিস্পত্তিতে এ ধরণের রোয়েদাদ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ মর্মে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। উভয় পক্ষের লিখিত বক্তব্য, নথিপত্র পরিদর্শন, পর্যালোচনা ও যুক্তিতর্ক শ্রবণ করে প্রদত্ত রোয়েদাদে উল্লেখ করা হয় যে, ১ম পক্ষ ভূমি মালিকের ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্য টাকা এককোটি আটাশ লক্ষ টাকা হতে ২য় পক্ষ ডেভলপার কোম্পানী কর্তৃক ১ম পক্ষকে প্রদত্ত সাইনিং মানি হিসেবে দেয়া ১কোটি টাকা এবং বিবিধ খরচ সহ ৫ লক্ষ টাকা মোট এককোটি ৫ লক্ষ টাকা সমন্বয় করলে ১ম পক্ষের (ভূমি মালক) প্রাপ্য টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩,৮০,০০০/টাকা যা ২য় পক্ষ ডেভলপার ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রথম পক্ষকে ১ মাসের মধ্যে ফেরৎ প্রদানে বাধ্য হয় এবং ক্ষতিপূরণের উপর ৮% হারে রোয়েদাদ প্রচারের দিন থেকে আদায় না হওয়া পর্যন্ত ১ম পক্ষকে লাভ প্রদান করবেন। প্রচারিত রোয়েদাদে আরো উল্লেখ করা হয় যে, পক্ষদ্বয়ের ভূমি উন্নয়ন সংক্রান্ত যাবতীয় চুক্তিপত্র, আমমোক্তারনামা বাতিল, অকার্যকর ঘোষণা করা হয় তৎ অনুবলে প্রস্তাবিত প্রকল্পের নির্মাণ কাজ করতে ২য় পক্ষ ডেভলপার অধিকারী নহে বিধায় ২য় পক্ষ ১ম পক্ষ ভূমি মালিকগণ হতে নেয়া যাবতীয় স্বত্বের মূল দলিলাদী একমাসের মধ্যে ফেরৎ প্রদানের সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়।

প্রথম পক্ষ মরহুম এম,এ আজীজ ও এম,এ মজীদ পরিবারের আগ্রাবাদ সিডিএ হাউজিং সোসাইটির বি,এস প্লট নং ৭৫৪০/৭৭৫৫ এর ভূমিতে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২খানা ৪তলা বিশিষ্ট পাকা ইমারত অপসারণ পূর্বক (যেখানে ভূমি মালিক প্রতি মাসে ২,৩০,০০০/-টাকা ভাড়া পেতেন) তথায় বহুতলা বিশিষ্ট ইমারত নির্মাণের জন্য ২য় পক্ষ রূপায়ন হাউজিং এস্টেট লিঃ নামীয় ডেভলপার কোম্পানীর সাথে গত ১৪/৬/১০ইং রেজিঃ চুক্তিনামা সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রি করা হয়। ২য় পক্ষ ডেভলপার নিজ তহবিল ৩৩ শতক বা ২০ কাঠা ভূমিতে ১৫ তলা বিশিষ্ট ইমারত নির্মাণের অঙ্গিকার করে এবং সিডিএর অনুমোদন অনুযায়ী নির্মিত দালানের ফ্ল্যাট সমূহের পক্ষদ্বয় এর মধ্যে অর্ধেক-অর্ধেক (৫০ঃ৫০) বন্টনের সিদ্ধান্ত হয়। চউক অনুমোদনের ৪২ মাসের মধ্যে বা সম্ভব না হলে আরো ৬ মাস বর্ধিত সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের জন্য চুক্তির ৩ মাসের মধ্যে ২য় পক্ষ ডেভলপারকে ভূমির দখল হস্তান্তর করা হয়। ব্যর্থতায় ১ম পক্ষ ভূমি মালিকদের ৪ লক্ষ টাকা মাসিক ক্ষতিপূরণ বা ভাড়া প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পক্ষদ্বয়ের চুক্তিতে চুক্তিভঙ্গের কারণে কোন পক্ষ সরাসরি আদালতে না গিয়ে শালিসের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির শর্ত থাকায় দীর্ঘ ৬ বছরেও ডেভলপার কোম্পানী উন্নয়ন কাজ শুরুই করতে না পারায় ভূমি মালিকগণের পক্ষে বিজ্ঞ আইনজীবী এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান ৯/৪/১৫ইং তারিখে নিজেদের পক্ষে এডভোকেট সৈয়দ আনোয়ার হোসেনকে সালিশকারক নিযুক্ত করে সালিশের প্রস্তাব দেন। ২য় পক্ষ ডেভলপার ১৭/৫/১৫ইং তারিখের জবাবে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে সিনিয়র এডভোকেট আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোলায়মানকে সালিশকার নিযুক্ত করেন।

উভয় সালিশকারক ২৮/৭/২০১৫ইং তারিখ আদেশ নং-৫ মূলে সালিশী ট্রাইবুন্যালের চেয়ারম্যান হিসাবে সিনিয়র এডভোকেট আলহাজ্ব মোহাম্মদ কবির চৌধুরীকে নিযুক্ত করেন। সালিশী ট্রাইবুন্যালে উভয় পক্ষ লিখিত বক্তব্য ও বক্তব্যের সমর্থনে নথিপত্র/উচ্চ আদালতের নজির ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। ভূমি মালিক পক্ষে সালিশী মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান ও এডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ হারুন, ডেভলপার পক্ষে ছিলেন অবসর প্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এম. হাসান ইমাম এবং এডভোকেট মাহামুদুল ইসলাম সুমন।


আরোও সংবাদ