এবড়ো-থেবড়ো রাস্তায় চলা দায়

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট , ২০১৫ সময় ০৯:১১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের রাস্তা

চট্টগ্রামের রাস্তা৬

চট্টগ্রামের রাস্তা৪

চট্টগ্রামের রাস্তা৩

চট্টগ্রামের রাস্তা২

চট্টগ্রামের রাস্তা১জুনের শেষভাগ থেকে অগাস্টের শুরু পর্যন্ত চট্টগ্রামে বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জুলাই থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেনের’ প্রভাবে নগরীতে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা ব্যাপক আকার ধারণ করে। পানি সরে যাওয়ার পরই বেশিরভাগ সড়ক কঙ্কালসদৃশ চিত্র নিয়ে ভেসে ওঠে।

টানা বৃষ্টি আর জলজটের কারণে এবড়ো-থেবড়ো এসব রাস্তায় চলা যেমন দায়, তেমনি ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঙ্গে ধুলোবালি যুক্ত হয়ে পুরো শহর জুড়ে তৈরি হয়েছে নরকের অবস্থা।

আগ্রাবাদ এক্সেস সড়ক, পোর্ট কানেকটিং সড়ক, বিমানবন্দর সড়ক, জাকির হোসেন রোড, সিডিএ এভিনিউ, সিরাজউদ্দৌলা সড়ক এবং আরাকান সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

এছাড়া খাতুনগঞ্জ, আছাদগঞ্জ, কাতালগঞ্জ, সদরঘাট, হালিশহর, মাদারবাড়ি এবং বাকলিয়া এলাকার সড়কও কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আগ্রাবাদ এক্সেস সড়কের বাদামতলি মোড় থেকে ব্যাপারী পাড়া মোড় পর্যন্ত অংশে বড় বড় গর্ত। পুলিশ লাইন থেকে বড়পোল মোড় পর্যন্ত সড়কের বেশিরভাগ জুড়ে আছে ছোট আকারের গর্ত।

আগ্রাবাদ এলাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সুব্রত বড়ুয়া পিন্টু বলেন, “নগরীর সড়কগুলোয় যে কোনো যানবাহনে চলাচল মানেই অসুস্থ হয়ে যাওয়া। এক ধরনের নরক যন্ত্রণার মধ্য দিয়েই আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে।”

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এবং বন্দরগামী পণ্যবাহী ট্রাক ও কভার্ড ভ্যান চলাচল করে পোর্ট কানেকটিং সড়ক ধরে। আর সড়কেরই নিমতলা দিয়ার পাড়া অংশ থেকে পোর্ট ইস্ট কলোনি পর্যন্ত কার্পেটিং নেই। পুরো সড়কই এখন মাটির আর তাতে বড়-বড় গর্ত।

এই সড়কের বড়পোল থেকে হালিশহর ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত অংশে বাম পাশে কার্পেটিং এর কাজ চলছে। তবে ডান পাশে এখনো বড় বড় গর্ত এড়িয়ে চলছে ভারী যানবাহন।
বড়পোল মোড়ের বাসিন্দা সাইফুল আলম বলেন, “বর্ষায় জলাবদ্ধতার কষ্টের পর এবার ভাঙা রাস্তার ভোগান্তি। এখানে বসবাস করাই মনে হয় আমাদের অপরাধ।”

বিমান বন্দর সড়কের বিশ্বরোড মোড় থেকে সল্টগোলা পর্যন্ত রাস্তা ভেঙে ‍নুড়ি-পাথর বেরিয়ে গেছে। সিমেন্ট ক্রসিং থেকে শুরু করে প্রায় দুইশ গজ জুড়ে গর্ত। ইপিজেড মোড় থেকে বন্দর টিলা এবং নেভাল বিচ থেকে বিমান বন্দর পর্যন্ত সড়কও খারাপ।

অন্যদিকে নগরীর চকবাজার থেকে বহদ্দারহাট হয়ে বাহির সিগন্যাল পর্যন্ত সড়কও ভাঙাচোরা। বহদ্দারহাট টার্মিনাল সংলগ্ন অংশে মেরামতের কাজ চলছে।

নগরীর সিডিএ এভিনিউর জিইসি মোড় থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত সড়ক খারাপ। তার ওপর ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজের জন্য নতুন করে লালখান বাজার মোড় থেকে গরিবুল্লাহ শাহ মাজার পর্যন্ত সড়কের মাঝ বরাবর কেটে টিনের সীমানা দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বলছেন, খারাপ রাস্তায় গাড়ি চালাতে গিয়ে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

চট্টগ্রাম সিটি সড়ক পরিবহন মালিক ফেডারেশনের সদস্য সচিব গোলাম রসুল বাবু বলেন, “খারাপ সড়কের কারণে চলাচলকারী যানবাহনের ৪০ শতাংশই নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মেয়রের সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েও পাইনি।”
চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হারনুর রশিদ জানান, রাস্তা সংস্কারের দাবিতে তারা মানববন্ধনসহ অন্য কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন তারা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু হলেও শেষ হতে মাসখানেক লেগে যাবে।

করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইয়াকুব নবী বলেন, “পোর্ট কানেকটিং ও আরাকান সড়কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার চলছে।

“সব সড়ক সংস্কার করতে এক মাস সময় লাগবে। কিছু উপকরণ সংগ্রহে সময় লাগছে। আশা করি, ভারী বৃষ্টি আর হবে না। তবে এরপরও আমরা মেরামত কাজ চালু রাখব।”


আরোও সংবাদ