এবার রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের শেয়ার ছাড়ার উদ্যোগ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৪ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১০:১৪ অপরাহ্ণ

রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে আনতে না পারলেও এবার রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের বর্তমান মেয়াদেই এ কাজটি করা হবে। সে জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে বলে সচিবকে নির্দেশ দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলমকে সম্প্রতি এক চিঠিতে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকারি ব্যাংকগুলোর কিছু শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ আমাদের এই মেয়াদে নিতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কার্যাবলি এখনই শুরু করা যায়।’
একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার বিষয়েও সচিবকে তাগিদ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীর চাওয়া এই মেয়াদে সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে সত্যিই কিছু করে দেখানো।
অর্থমন্ত্রী আসলাম আলমকে বলেন, ‘অনেকগুলো সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বাজারে ছাড়ার ব্যাপারে আমরা গত মেয়াদে অনেক ঘোষণা দিয়েছি। কিন্তু কার্যকরভাবে কোনো শেয়ার বাজারে ছাড়িনি।’
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) নিয়ে বসে একটি নির্ঘণ্ট তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটি ব্যবস্থা এখনই নিতে হবে।’রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে বর্তমানে শুধু রূপালী ব্যাংকের ১০ শতাংশের মতো শেয়ার রয়েছে বাজারে। এই ব্যাংকের আরও শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আর নতুন করে শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে সোনালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক লিমিটেডের।
তিন সপ্তাহ আগে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রমালিকানাধীন শেয়ার ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার উদ্যোগ শুরু হয় মূলত গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমল থেকে। ২০০৫ সালের ৩১ আগস্ট তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় তখন ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ডেসকো, পাওয়ারগ্রিডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়া হয় বাজারে। তবে ইউনিলিভারসহ বহুজাতিক কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনীহার কারণেই আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নিয়ে পাঁচ বছরে সাত দফা সময়সীমা নির্ধারণ করে। যাতে বাস্তবায়ন করা যায়, সে জন্য লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও নামিয়ে আনা হয় ২৩টিতে। তার পরও ব্যর্থতা দেখা যায়।
বারবার সময় বাড়িয়েও সরকারি কর্মকর্তাদের অনীহার কারণে এ উদ্যোগ বাস্তব রূপ লাভ করছে না বলে জানা গেছে। নির্ধারিত সময়ে শেয়ার ছাড়তে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করতে হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে তখন হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। সেটিও কোনো কাজে আসেনি।
তবে একজন সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক সরকারের দর্শন বাস্তবায়ন করেন আমলারা। মন্ত্রী চাইছেন, কিন্তু সচিবেরা করছেন না—এমন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে সরকার আন্তরিক কি না, তাও বিবেচ্য বিষয় বলে মনে করেন ওই সচিব।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডেসকোর মালিকানা নিয়ে জটিলতার কারণে আরও শেয়ার বাজারে আসতে পারছে না বলে জানা গেছে। এ ছাড়া লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি, বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, গ্যাস ট্রান্সমিশন, জালালাবাদ গ্যাস টিঅ্যান্ডডি সিস্টেম লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস এবং রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানিকে বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফায়েকুজ্জামান বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে বর্তমানে তাঁরাও কাজ করছেন। তিনি খুবই আশাবাদী যে, সরকারের বর্তমান মেয়াদে অনেক প্রতিষ্ঠানই বাজারে শেয়ার ছাড়বে।