‘‘এদেশ মার্কস, লেনিন কিংবা গৌরগোবিন্দের নয়’’

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ০৮:৪২ অপরাহ্ণ

জুনায়েদ বাবুনগরীগত সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও রেল স্টেশনে কয়েক দফা তাণ্ডব চালিয়ে প্রায় ৭০ কোটি টাকার ক্ষতির দায়টি মাদারাসা কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করলেও হেফাজতের মহাসচিব এই ঘটনা থেকে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী-এমপিকে ‘শিক্ষা’ নিতে বলেছেন। তার এই ব্ক্তব্য থেকে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি এই তাণ্ডবের সাথে সরাসরি মাদরাসা ছাত্ররাই জড়িত?

শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি মাঠে হেফাজতে ইসলামের দুই দিনব্যাপী ইসলামী মহাসম্মেলনের শেষ দিনে তিনি এসব কথা বলেন।

হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, ‘হাসানুল হক ইনু, মইনুদ্দিন খান বাদল আর শাহরিয়ার কবিরদের বলি, কওমী মাদরাসা ও আলেম-ওলামার সম্পর্কে আজে বাজে কথা বলার আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষাটি মাথায় রাখবেন। এদেশ মার্কস, লেনিন কিংবা গৌরগোবিন্দের নয়; হাজী শরীয়তুল্লাহ, তিতুমীর, শাহজালাল, শাহ মাখদুম, মুফতি ফয়জল্লাহ, হাফেজ্জী হুজুর ও আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর মতো অলি-আউলিয়ার দেশ।’

শুক্রবার সকাল ১১টায় জেলা শহরের কান্দিপাড়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামিয়া ইসলামীয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মোবারক উল্লাহ বলেন, ‘সোমবার রাত ১১টায় মাদরাসার চতুর্থ তলার মাদানি ছাত্রাবাসে পুলিশ হামলা চালায়। এসময় হাফেজ মাসুদুর রহমানকে রাইফেল দিয়ে আঘাত করে তাকে গুলি করা হয়। পরে চারতলা থেকে তাকে নিচে ফেলে দেয়া হয়। এই ঘটনায় প্রথমেই মাসুদকে উদ্ধার করে একটি বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

বাবুনগরী আরো বলেন, ‘ওয়াজ মাহফিল ও জুমার খুৎবা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে সরকারকে উস্কানি দেয়া হচ্ছে। আমাদের প্রশ্ন, সরকারের মন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এখন স্বীকার করছেন, কওমী মাদরাসার আলিম-ওলামা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী-জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত নয়। আমি বলবো দেরিতে হলেও তাদের বোধোদয় হয়েছে। তাহলে প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগ থেকে একেক সময় একেক রকম বক্তব্য দেয়া হচ্ছে কেন এবং ঘুরেফিরে ইসলামি সম্মেলন, ওয়াজ-মাহফিল ও খুতবা নিয়ন্ত্রণের ফন্দি-ফিকির করা যাচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিংবা প্রশাসনের অন্য কাউকে দিয়ে জুমার খুৎবা, ইসলামি সম্মেলন আর ওয়াজ মাহফিলে খবরদারির চেষ্টা তাওহিদী শক্তহাতে রুখে দেবে।’

বাদ জুমা থেকে চার অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন, আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী, মাওলানা মুফতি মুজাফফর আহমদ পটিয়া, মাওলানা মুহাম্মদ ইদরিস নাজিরহাট ও মাওলানা মুহাম্মদ শফী (বাথুয়া)।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুফতিয়ে আযম আল্লামা হাবিবুর রহমান খায়রাবাদী। বক্তব্য রাখেন, প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা জুনাইদ আল হাবিব, মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ, মুফতি নুর হোসাইন নুরানী, মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী, মাওলানা ফোরকান আহমদ, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা ইয়াকুব ওসমানী, মুফতি ফখরুল ইসলাম, মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, মাওলানা আনিসুর রহমান।