এডভান্স এইচডি ক্যামেরার নজরদারিতে আসছে নগর

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন , ২০১৬ সময় ০৯:৫৯ অপরাহ্ণ

এডভান্ডস এইচডি ক্যামেরার আওতায় আসছে নগর। গুপ্তহত্যা, জঙ্গি আক্রমণসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম নগরীতে আরও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এর মধ্যে কমপক্ষে ৩০টি উচ্চক্ষমতারসহ ১০২টি ক্যামেরা লাগানোর কাজ ঈদুল ফিতরের আগেই শেষ করতে চায় সিএমপি।

সিসি ক্যামেরাসিএমপির ক্যামেরা লাগানোর কাজ পেয়েছে ডব্লিউ থ্রি এক্সপ্লোরারস বিডি নামে একটি প্রতিষ্ঠান। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব ‍দাশকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে মৌখিক কার্যাদেশ দিয়েছেন।

রাজিব দাশ জানিয়েছেন, বর্তমানে সিএমপির কাছে যে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাগুলো আছে সেগুলো এক দশমিক তিন মেগাপিক্সেল রেজুলেশনের। নতুন যে ক্যামেরাগুলো লাগানো হবে সেগুলোর মধ্যে দুই মেগাপিক্সেল এবং চার মেগাপিক্সেল রেজুলেশনের ক্যামেরা থাকবে।

সিএমপি কমিশনার মো.ইকবাল বাহার বলেন, আপনারা দেখেছেন বিদ্যমান ক্যামেরাগুলো দিয়ে ভালভাবে দৃশ্য ধারণ হয়না। ছবি ভালভাবে স্পষ্ট বোঝা যায়না। এজন্য আমরা বেশি রেজুলেশনের ক্যামেরা লাগাচ্ছি যাতে যে দৃশ্যটা ধারণ হবে সেটা যাতে স্পষ্ট হয়। অপরাধীর ছবি যাতে স্পষ্ট হয়।

নগর পুলিশের সহকারি কমিশনার (তথ্যপ্রযুক্তি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানকে মৌখিক কার্যাদেশ আমরা দিয়েছি। শনিবার লিখিত কার্যাদেশ দেয়া হবে। তবে মৌখিক আদেশ পেয়েই আজ (বৃহস্পতিবার) থেকেই তারা ক্যামেরা লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে।

নগর পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, ২০১৪ সালের জুনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত উপ কমিশনার বাবুল আক্তারের পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। নগরীর সাতটি প্রবেশপথসহ ২৭টি স্পর্শকাতর পয়েন্টে নগর পুলিশের পক্ষ থেকে ১০২টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল।

গত জানুয়ারিতে নগরীতে বিলবোর্ড অপসারণের সময় এর খুঁটির সঙ্গে লাগানো ৮১টি ক্যামেরা নামিয়ে ফেলে সিটি করপোরেশন। বাকি ২১টি ক্যামেরা থাকলেও সেগুলো কার্যত অচল ছিল। তবে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে লাগানো কিছু সিসি ক্যামেরা এখনও সচল আছে।

সিসি ক্যামেরা২সহকারি কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম জানান, নতুন-পুরনো মিলিয়ে এবার আড়াই’শ ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে সিএমপি। এর মধ্যে ঈদুল ফিতরের আগেই কমপক্ষে ১০২ টি ক্যামেরা লাগানোর কাজ তারা শেষ করবে।

রাজিব দাশ জানান, আগে লাগানো ১০২টি ক্যামেরার মধ্যে ৭২টি সচল আছে। ৩০টি ক্যামেরা নতুনভাবে কিনতে হবে। নতুন ক্যামেরাগুলোর মধ্যে ২০টি দুই মেগাপিক্সেল রেজুলেশনের এবং ১০টি চার মেগাপিক্সেল রেজুলেশনের।

এরপর আরও ১৪৮টি ক্যামেরা সিএমপির পক্ষ থেকে থ্রি এক্সপ্লোরারকে সরবরাহ করার কথা বলা হয়েছে যেগুলো দুই ও চার মেগাপিক্সেল রেজুলেশনের। ঈদুল ফিতরের পর সেগুলো লাগানোর কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজিব দাশ।

বিলবোর্ড অপসারণের সময় ক্যামেরার জন্য লাগানো অধিকাংশ বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে নষ্ট হয়ে যায়। তারগুলো বিনামূল্যে সিএমপিকে সরবরাহ করেছিল বেসরকারি ক্যাবল ‍অপারেটর প্রতিষ্ঠান চিটাগং কমিউনিকেশনস লিমিটেড (সিসিএল)।

সহকারি কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম জানান, এবারও সিসিএল বৈদ্যুতিক তার সংযোগ দেয়াসহ সার্বিক সহযোগিতায় রাজি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্তাধিকারী শ্যামল কুমার পালিত বলেন, সিএমপির পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের সিসি ক্যামেরা লাগানোর কার্যক্রমে আমাদের সহযোগিতা চেয়েছে। আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত আছি।

পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, প্রথম দফায় সিসি ক্যামেরা লাগানোর জন্য সিএমপির তহবিল থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। এবার খরচ বেড়েছে আরও দেড়গুণ। সম্ভাব্য খরচও সিএমপির তহবিল থেকেই দেয়া হচ্ছে।

সিএমপি কমিশনার মো.ইকবাল বাহার বলেন, আমরা তো ক্যামেরা লাগাচ্ছি। হাইরাইজ বিল্ডিং, মার্কেট, হাসপাতাল, বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যেগুলো আছে তাদেরও আমরা অনুরোধ করছি যেন সড়কের দিকে মুখ করে তারা কয়েকটি ক্যামেরা লাগায়। তাতে রাস্তার দৃশ্যটা সহজেই ধারণ করা যাবে। এতে অপরাধ ও অপরাধী শনাক্ত করার কাজটা সহজ হবে।

গত ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাবার সময় নগরীর পাঁচলাইশ থানার ও আর নিজাম রোডে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম ওরফে মিতু আক্তার নৃশংসভাবে খুন হন। সিএমপির লাগানো ক্যামেরাগুলো নামিয়ে ফেলায় সেখানে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওয়েল ফুড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ক্যামেরায় তিন খুনির চিত্র ধারণ হয়। তবে ছবিগুলো অস্পষ্ট থাকায় এগুতে পারছেনা পুলিশ।