এটাই আওয়ামী লীগের চরিত্র: ফখরুল

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ২৪ জানুয়ারি , ২০১৮ সময় ০৬:২০ অপরাহ্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সরকার সমর্থক সংগঠন ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বুধবার বনানী কবরস্থানের সামনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটেছে, সেটাই আওয়ামী লীগের চরিত্র। এটা ছাত্রলীগের জন্য নতুন কোনো ব্যাপার না। তারা বহুবার শিক্ষকদেরকে মেরেছে, ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মেরেছে।”

প্রক্টরের অপসারণসহ চার দফা দাবিতে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানকে তার কার্যালয়ে চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দের’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

পরে বিকালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে আন্দোলনকারীদের পিটিয়ে। তারা রড-লাঠি নিয়ে চড়াও হয় বিক্ষোভকারীদের উপর, উপাচার্য ভবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরও বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফায় হামলা হয় বলে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ।

গত ১৫ জানুয়ারি উপাচার্যের কার্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ঢাকার সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হলে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলকারীরা প্রক্টরের কার্যালয়ের ফটকও সম্প্রতি ভাংচুর করে। এতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অধিভুক্তি সমস্যার সমাধান ছাড়াও নিপীড়নে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বহিষ্কার ও প্রক্টরের অপসারণসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলনকারীরা মঙ্গলবার উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন।

সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, “যখনই তাদের বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিক্টোরিয়াল অথোরিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, তখনই তাদের হাতিয়ার হয়ে তারা (ছাত্রলীগ) আক্রমণ করেছে গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর।

“প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজকে ক্ষমতাসীনদের সংগঠনটি এই অবস্থা চালু করেছে। এটা শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নয়, সমগ্র দেশে, সমগ্র সমাজে, সমগ্র রাষ্ট্রে তারা জোর করে, মাস্তানি করে, গুণ্ডামী করে ক্ষমতা দখল করে থাকতে চায়। এটা সমর্থন দেয়া যায় না, এর অবসান হবেই। এদেশের মানুষ নিঃসন্দেহে তাদেরকে পরাজিত করবে।”

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া দেশের জনগণ ভোটে যাবে না বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, “সরকার নানাভাবে চেষ্টা করছে জাতীয় নির্বাচন যাতে না হয়। সত্যিকার অর্থে যদি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়, তাহলে তারা আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সেজন্যই তারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে সংবিধান সংশোধন করেছে।”

দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য তৈমুর আলম খন্দকার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলীসহ প্রতিদিন নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এর উদ্দেশ্য হচ্ছে একটাই- বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা। এই অবস্থা চলবে না, এই অবস্থা কখনোই চলবে না।”

খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুপুরে বনানীতে তার কবরে নেতাকর্মীদের নিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন মির্জা ফখরুল।

এই সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা শামা ওবায়েদ, আমিনুল হক, মীর সরফত আলী সপু, শাহ নুরুল কবির শাহিন, কাইয়ুম চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম বাবু, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে কবরস্থানের বাইরে ‘আরাফাত রহমান কোকো যুব ক্রীড়া পরিষদ’ ও ‘আরাফাত রহমান স্মৃতি পরিষদের’ যৌথ উদ্যোগে ‍গরীব ও দুঃস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন বিএনপি মহাসচিব।

এর আগে সকালে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীরা কোকোর কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে।

২০১৫ সালে ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কোকো মারা যান। তার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালনে বিএনপির নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে চেয়ারপারসনের বাসা এবং চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মিলাদ এবং কবরপ্রাঙ্গনে কোরানখানির আয়োজন করা হয়েছে।