এগারো বছরে গ্রুপ থিয়েটার ‘নাট্যাধার’

প্রকাশ:| শনিবার, ২৯ অক্টোবর , ২০১৬ সময় ১০:১৪ অপরাহ্ণ

১৩ নাটকের দুই শতাধিক প্রদর্শনী

চট্টগ্রামের নাট্য মঞ্চে সক্রিয় গ্রুপ থিয়েটার ‘নাট্যাধার’ দশ বছর অতিক্রম করে এগারো বছরে পা রাখতে যাচ্ছে। ‘সৃষ্টি হোক সচেতন মানুষ’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে চট্টগ্রামের নান্যক্রিয়ায় যুক্ত নবীন ও প্রবীণ বেশকিছু নাট্যকর্মী-নাট্যজনের সমন্বয়ে ২০০৬ সালে যাত্রা করেছিল গ্রুপ থিয়েটার ‘নাট্যাধার’।

দলীয় প্রথম প্রযোজনা হিজড়া জনগোষ্ঠীর যাপিত জীবন যন্ত্রণার নাট্যায়ন ‘শিখন্ডী কথা’ নাটকের মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে ৩০ অক্টোবর ২০০৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্ম প্রকাশ করেছিল ‘নাট্যাধার’।

চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির মূলমিলনায়তনে মঞ্চস্থ ‘শিখন্ডী কথা’ নাটকের পা-ুলিপিকার ছিলেন আনন জামান এবং প্রয়োগকার ছিলেন মোস্তফা কামাল যাত্রা। ইতোমধ্যে ‘নাট্যাধার’ নাটকটির ৭৫তম প্রদর্শনী সম্পন্ন করেছে।

আত্ম প্রকাশ উপলক্ষ্যে নাট্য প্রদর্শনীর পাশাপাশি ‘নাট্যাধার’ চট্টগ্রামের মঞ্চ নাটকে রূপসজ্জার কর্মকার নাট্যাভিনেতা শাহীনুর সরোয়ারকে সম্মাননাও জানায়। দলীয় পরিকল্পনা ছিল দলের প্রতি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে চট্টগ্রামের নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ একজন নাট্যকলা কর্মীকে সম্মাননা জানানো হবে।

কিন্তু ২ সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে নাট্য যুধিষ্টির নাট্য ব্যক্তিত্ব জিয়া হায়দার এর প্রয়াণ ঘটলে; সেই বছর থেকে ‘নাট্যাধার’ তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ‘নাট্যাধার সম্মাননা’ পদকটির নাম নাট্যযুধিষ্টির জিয়া হায়দার নাট্য পদক নামাঙ্কন করে অধ্যাবদি প্রতি বছর চট্টগ্রামের একজন বিশিষ্ট নাট্যজনকে নিয়মিতভাবে প্রদান করে আসছে। প্রথম জিয়া হায়দার নাট্য পদক-২০০৮ পেয়েছিলেন অঁঙ্গন থিয়েটার ইউনিট-এর প্রধান নাট্যাভিনেতা আবদুস সাত্তার।

বিগত এক দশকে ‘নাট্যাধার’ ৬টি মঞ্চ নাটক, একটি খোলা নাটক, একটি সভা নাটক, একটি বেতার নাটক, ৫টি টিভি নাটকের প্রায় দুই শতাধিক প্রদর্শনী সম্পন্ন করেছে। উল্লেখযোগ্য নাটকগুলির মধ্যে হচ্ছে ‘শিখন্ডী কথা’, ‘স্মৃতি-৭১’, ‘হিড়িম্বা’, ‘বীরাঙ্গনা স্বাক্ষাৎকার’, ‘ভগা কাইন’, ‘কাল বোধন’, ‘আত্মজা পাশা’, ‘মাস্টারদা’, ‘ফুলজান’, উন্মাদ সাক্ষাৎকার’ ইত্যাদি।

নাট্য প্রদর্শনীর পাশাপাশ নাটকে একুশে পদক প্রাপ্ত নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনকে ২০০৮ সালে এবং ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট (আইটিআই) কংগ্রেসের সভাপত নির্বাচিত হওয়ায় নাট্যসন্ত রামেন্দু মজুমদারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাট্যশালায় সংবর্ধনা প্রদান করেছিল।

%e0%a6%8f%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8b-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%aa-%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0দক্ষ মঞ্চ কর্মী তৈরী করতে নাট্যাধার প্রতি বছরই নাট্য বিষয়ক কর্মশালা, নাট্য বিষয়ক আড্ডা:শ্রুতিমঙ্গল এবং সমাজ ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক নাট্য প্রতিক্রিয়া প্রদর্শনে বরাবরই সচেষ্ট ছিল। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আয়োজন হল- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্তিত করতে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ও সাম্প্রাদায়িকতা বিরোধী নাট্য প্রদর্শনী শেষে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মানববৃত্ত নির্মাণ করা, চট্টগ্রামের স্বতন্ত্র আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার দাবীতে ভ্রাম্যমান খোলা নাটক ও সভা নাটক প্রদর্শনী করা। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড বহাল রাখার দাবিতে গনজাগরণ মঞ্চে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক ‘স্মৃতি-৭১’ এবং ‘বীরাঙ্গনা স্বাক্ষাৎকার’ এর সড়ক প্রদর্শনী করা।
প্রতিষ্ঠাকালে দলটির সাথে জড়িত ছিলেন দেওয়ান মাশরুজ্জামান সিদ্দীক মুকুট, মোস্তফা কামাল যাত্রা, অশোক বড়–য়া, খন্দকার মুর্ত্তজা আলী, জামাল হোসাইন মঞ্জু, বাহার উদ্দিন মিরন, প্রবীর পাল, মাফতোহা মুনমুন, ফারহানা পারভীন প্রীতি, সাখাওয়াত শিবলী, আবু দাইয়ান, রাহাত কবির প্রমুখ।

বর্তমানে দলটির সম্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দেওয়ান মাশরুজ্জামান সিদ্দীক মুকুট ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন মোস্তফা কামাল যাত্রা।

দেওয়ান মাশরুজ্জামান সিদ্দীক মুকুট এবছরের পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘সামনে জিয়া হায়দার পদক ও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নাট্যকার ও নির্দেশক খন্দকার মুর্ত্তাজা আলীর সবগুলো নাটক নিয়ে একটি প্রদশনী রয়েছে।’বিজ্ঞপ্তি