এখনই অবস্থান নিতে চান না বিসিবি সভাপতি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৯:৪৪ অপরাহ্ণ

বছরে এমনিতেই দুই-চারটা টেস্ট খেলার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। বর্তমান এফটিপি দিয়ে খুব একটা লাভও হচ্ছে না। আর সেই এফটিপি বাঁচিয়ে রাখার লড়াইয়ে নেমে বাকিদের আগেই খেপিয়ে তুলতে চান না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান। আইসিসির সংস্কার প্রস্তাবের বিপক্ষে চারটি বোর্ড এখনই প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছে। কিন্তু সেই পথে হাঁটেনি বিসিবি। কেন হাঁটেননি সেই ব্যাখ্যা দিয়েও তিনি ইঙ্গিত করেছেন, মুখে অনেকেই অনেক কিছু বললেও আইসিসির সভায় কেউ ভারতকে চটাতে চায় না। আর তাই আগে পরিস্থিতি বুঝতে চান, তারপর দেখেশুনে নিতে চান সিদ্ধান্ত।

আইসিসির সংস্কার প্রস্তাব পাস হলে বাংলাদেশের টেস্ট খেলার সুযোগ নেমে যাবে প্রায় শূন্যের কোঠায়। এ নিয়ে বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীদের ক্ষোভের জায়গাটি তিনি বোঝেন। আবেগের দিক দিয়ে তিনিও এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে, তবে যুক্তির দিক দিয়ে বিচার করতে গিয়েই জোর গলায় কিছু বলতে পারছেন না বলেই জানালেন, ‘আমাদের মানসম্মানের ব্যাপার আছে। ওই দিক দিয়ে বলতে গেলে এই প্রস্তাবকে অবশ্যই আমরা না বলব। বলব, এগুলো মানা যায় না। কিন্তু আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে বাস্তবতাটা কী বলছে। আচ্ছা আমি না করলাম, কিন্তু এখনই কেউ খেলে না আমাদের সঙ্গে। সামনে তো ওয়ানডেও খেলতে আসবে না। তখন করবটা কী? আমাদের এফটিপিও এখন আর মানে না। ওরা এখন নাকি সব দ্বিপক্ষীয় সিরিজভিত্তিক করবে। এখন আমার সঙ্গে যদি কেউ না খেলে তখন আমি খেলবটা কার সঙ্গে।’

আইসিসির বোর্ড সভা বেশি দূরে নেই। এ মাসের ২৮-২৯ তারিখেই উত্থাপিত হবে বড় তিন ক্রিকেট বোর্ডের সেই প্রস্তাব। করণীয় ঠিক করতে আজ বিসিবির নীতিনির্ধারকেরা লম্বা বৈঠকে বসেছিলেন। সেই বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হাসান বলেছেন, কেন এ ব্যাপারে এখনই অবস্থান নিতে চান না, ‘সামগ্রিকভাবে আমরা দেখেছি বিষয়টি জটিল। অনেক প্রশ্নের উত্তরই এখানে নেই। আমাদের যে মনোভাবই থাক না কেন, এটা আমরা এখনই প্রকাশ করতে চাই না। এই প্রস্তাবটি যখন দেওয়া হয় (আইসিসির গত বৈঠকে), তখন কিন্তু একটা দেশ ছাড়া আর কেউ বিরোধিতা করেনি। বাইরে কে কী বলল, সেটা বড় কথা নয়। ওখানে (আইসিসির সভায়) গিয়ে কী বলল, সেটাই আসল।’

বিসিবি সভাপতি হিসেবে নাজমুলের পূর্বসূরি ছিলেন যিনি, সেই আ হ ম মুস্তফা কামাল এখন আইসিসিরই সহসভাপতি। আইসিসিতে এত গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশের একজন থেকেও কীভাবে বাংলাদেশের ক্ষতি হয় এমন পরিকল্পনা করা হয়? এ নিয়েও গত কয়েক দিনে ক্ষোভ জানিয়েছেন এ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে মুস্তফা কামাল বললেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানতেন না আগে থেকে, ‘আমরা কোনো কাগজও পাইনি। কী হবে, কী হতে যাচ্ছে, সব পত্রপত্রিকা দেখে জেনেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত সভায় না বসব, সিদ্ধান্ত না হবে, তখন পর্যন্ত আমার মনে হয় আগাম কোনো বক্তৃতা দেওয়া ঠিক হবে না।’ কামাল এই বলে আশ্বস্ত করতে চাইলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এর বিরুদ্ধে থাকলে ভারত-অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড কিছুই করতে পারবে না, ‘তিনটি দেশ মিলেই কিছু করতে চাইলে করতে পারবে না। কারণ কোনো পরিবর্তন আনতে চাইলে সাতটি দেশের ভোট লাগে।’


আরোও সংবাদ