এক সময়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৪ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৩:১৬ অপরাহ্ণ

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর
শফিউল আলম রাউজান ঃ রাউজানের একটি অধ্যায় সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী । রাজনীতিবিদ হিসাবে প্রতাপশালী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী রাউজানের গহিরা বক্সআলী চৌধুরী বাড়িস্থ রাজনৈতিক পরিবারে জম্ম গ্রহন করেন ১৯৪৮ সালের ১১ অক্টোবর মাসে। পিতা পাকিস্তান মুসলিমলীগের সাবেক সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী। মরহুম ফজলূল কাদের চৌধুরী তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সাবেক স্পীকার, অস্থায়ী রাষ্টপতি। পকিস্তান মুসলিম লীগের সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করেন মরহুম ফজলুল কাদের চৌধুরী । বাবার হাত ধরে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী রাজনীতিতে নামেন । সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বাংলাদেশের রাজনীতিতে সব সময় আলোচিত-সমালোচিত হিসেবে পরিচিত একটি নাম সবার মুখে মূখে। ব্যঙ্গ করে আবার তাকে ডাকে সাকা চৌধুরী বলে। গত ১ অক্টোবর মঙ্গলবার আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত বিএনপি’র শীর্ষ নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফাঁসীর আদেশ দেয়ায় পর তার অগনিত ভক্তের মাঝে নেমে আসে চোখে মুখে কালো ছায়া। এক সময়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতানঅলাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি হবে ভাবতেই পারছেনা তার অনুসারীরা। পিতা মরহুম ফজলুল কাদের চৌধুরীর মত প্রবল বাকশক্তিধর ও ক্ষমতাবান সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদের আইনের কাঠ গড়াই ফাঁসির আদেশ হবে তিনি নিজেও বুঝতে পারেনি। ভাগ্যেও নির্মম পরিহাস মানবতা বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য আইন তার নিজস্ব গতিতে পরাস্ত করলো প্রতাবশালী বড় মাপের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে । ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে দেশ বিরোধী মানুষ হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ গত ৪২ বছর আইনের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে স্বাধীন জীবন যাপন করলেও অবশেষে আইনের গ্যঁড়াকলে আটক হতে হয়েছে এবং বিচারের মুখোমূখিও হতে হয়েছে। জানাযায়, রাউজানের গহিরা চৌধুরী পরিবারের সমগ্র চট্টগ্রামে রয়েছে অগণিত ভক্ত। কিন্তু ভক্তের কাছে বাঁধা এই নেতার জীবন ভৎসনা পরিবারের ইমেজ ক্ষুন্ন হয়েছে দারুন ভাবে। আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ছয়টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির আদেশ দেন। বিশেষ করে ৭১ সালে রাউজানে যেসব এলাকায় গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপজেলার পশ্চিম সুলতান পুর জগৎমল্ল পাড়া ও দক্ষিণ রাউজানের ঊনসত্তরপাড়া, গহিরা বিশ্বাস বাড়ী, সুলতানপুর ছিটিয়া পাড়া। ৭১ সালের ১৩ এপ্রিল এদেশিয় দোসর সাকার সহায়তায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্রাস ফায়ারে জগৎমল্ল পাড়া ও ঊনসত্তরপাড়ায় গণহত্যা চালিয়ে প্রায় দুই শত জনের মত নারী পুরুষ হত্যা করে। একই দিন হত্যা করা হয়েছিল কুেণ্ডশ্বরী ঔষাধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নতুন চন্দ্র সিংহকে। একই সময়ে বাড়ী থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করেছিলো রাউজানের মোহাম্মদ পুর তাজঁ মোহাম্মদ চৌধুরীর বাড়ীর ব্যাংকের উধত্বন কর্মকর্তা আবদুল কাদেরকে । একটি অমীমাংসিত বিষয় ৪২বছর পর সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে বলে মনে করেন শহীদ বুদ্ধিজীবি নতুন চন্দ্র সিংহের পুত্র প্রফুল্লহ রঞ্জন সিংহ। তিনি রায়ে সন্তুষ্ট ও খুশি হয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান। বিদেশে পালিয়ে যাওয়া সাকা চৌধুরী দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পূনরায় দেশে ফেরে আবার শুরু করে সক্রিয় রাজনীতি। পিতার আদর্শের রাজনৈতিক দল ‘মুসলিমলীগ’ এর হাল ধরেন তিনি। ১৭৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে মুসলিম লীগের প্রার্থী হয়ে রাউজান রাঙ্গুনিয়া দুইটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী । স্বাধীন দেশে মুসলিমলীগের ইমেজ ধরাসায়ী হলে এরশাদের জাতীয় পাটিতে যোগ দেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । জাতীয় পাটিতে যোগ দিয়ে এরশাদ সরকারের ত্রাণ ও পুণঃবাসন, স্বাস্থ্য, গৃহায়ন ও গণপুর্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন । মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে লাল সবুজের কচিত স্বাধীন বাংলার পতাকা তার গাড়ীতে উড়তে থাকে। সেই দিন মুক্তিকামী বাঙ্গালীরা অবাগ হয়ে শুধূ তাকিয়ে ছিল, কিন্তু কিছু বলতে পারেনি। জাতীয় পাটি থেকে পদত্যাগ করে ১৯৮৮ সালে নিজস্ব রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল ডেমোক্রটিক পাটি (এনডিপি) গঠন করেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী । ১৯৯১ সালে এনডিপির প্রার্থী হয়ে রাউজান আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনের পুর্বে এনডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী । ৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । পরবর্তী ২০০১ সালে ও রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে পুণরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । গত সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি আসন থেকে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে ফঠিক ছড়ি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ও রাঙ্গুনিয়া আসনে পরাজিত হয় । সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রাজনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখতে রাউজানসহ সমগ্রহ চট্টগ্রামে শুরু করে সন্ত্রাসের রাজত্ব। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ক্যডারের হাতে খুন হয় কয়েক’শ প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। খুন, ধর্ষন, চাঁদাবাজির ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে উঠে সাধারণ মানুষ। ব্যাপক সমালোচনার মূখে পরে দেশ বিদেশে। বর্তমানে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। রাজনীতিতে অপরাজিত হিসারে পরিচিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্বাধীনতার ৪২ বছর পর ভোটে নয়, পরাজিত হলো আইনি লড়াইয়ে। জনপ্রতিনিধি হয়ে বার বার সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ফাঁসীর আদেশ প্রাপ্ত আসামী সাকা চৌধুরী।
খবর নিয়ে জানা যায়, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ১৯৭৯-১৯৮৪, ১৯৮৬-১৯৮৮, ১৯৯১-১৯৯৬ সাল পষর্ন্ত পর পর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জম্ম ভূমি রাউজান সংসদীয় আসনে। ১৯৯৬-২০০১, ২০০১-২০০৬ পষর্ন্ত রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি কয়েকবার পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ম পালন করেন। তৎমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও ত্রান মন্ত্রীর, দায়িত্ব ও পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ফটিকছড়ি সংসদীয় আসন হতে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।