এক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে আসতে শুরু করবে রাজশাহীর টাটকা আম

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৩ মে , ২০১৪ সময় ১০:২২ অপরাহ্ণ

কৃষি প্রতিবেদক>>আমফল প্রেমীদের জন্য সুখবর হলো আগাম জাতের কিছু আম আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে আসতে শুরু করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মৌসুমি ফলের বাজারে ইতোমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে আম-জাম-কাঁঠাল । তবে বাজারের ওই সব ফলের মধ্যে অনেকগুলোই অপরিপক্ব। ফলে অভিযোগ রয়েছে রাসায়নিক উপাদান দিয়ে এগুলো পাকানোর। আর এই আশঙ্কায় অনেকেই মৌসুমি ফলগুলো কেনার সাহস করছেন না অনেকে।

সুখবর হলো রাজশাহীর আম ব্যবসায়ী ও চাষিরা জানিয়েছেন মিষ্টি আমের জন্য আর খুব অপেক্ষা করতে হবে না। এক থেকে দেড় সপ্তাহ পর রাজশাহীর বাজারে আম উঠতে শুরু করবে।

আর এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে প্রায় ৫০০ মেট্রিকটন আমের বাণিজ্য।

এদিকে আমের বাজারকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে বেড়েছে মানুষের কর্মব্যস্ততা। আমের আড়তগুলো মেরামত কাজ চলছে পুরোদমে। আর কয়েকদিন পর এসব আড়তে সুমিষ্টি আমে পরিপূর্ণ হবে। ক্রেতা বিক্রেতার পদচারনায় মুখরিত হবে আমের বাজার। আর কয়েক দিন ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে আম পাঠাতে শুরু করবেন।
আম১
রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের বাজার পুঠিয়ার বানেশ্বর। এছাড়া মহানগরীর সাহেব বাজার, লক্ষ্মীপুর, রেল স্টেশন, রেলগেট, শালবাগান, হড়গ্রাম বাজার, উপশহর, তের-খাদিয়া, নওদাপাড়া, বিনোদপুর ও পার্শ্ববর্তী, বায়া, নওহাটা, কাশিয়া-ডাঙায় বিন্দুর মোড়সহ জেলার প্রতিটি উপজেলার বাজারের আমের আড়তগুলো মেরামত কাজ চলছে পুরোদমে। আর কয়েকদিন পর এসব আড়তে সুমিষ্টি আমে পরিপূর্ণ হবে। ক্রেতা বিক্রেতার পদচারনায় মুখরিত হবে আমের বাজার।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী অঞ্চলে ৪৮ হাজার ৩১৩ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। মোট আম বাগানের প্রায় অর্ধেকই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় রয়েছে। এ জেলায় ২৩ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান। যা থেকে উৎপাদিত আমের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ মে.টন। এছাড়াও রাজশাহী জেলায় ৮ হাজার ৬৬৭ হেক্টর জমির আমবাগানে উৎপাদন ধরা হয়েছে ৯০ হাজার ৩শ ৫০ মে.টন, নওগাঁ জেলায় ৪ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমির বাগানে আমের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৭ হাজার ২শ মে.টন, নাটোর জেলায় ৩ হাজার ৭শ হেক্টর বাগানে ৪২ হাজার ৮৪৬ মে.টন আমের উৎপাদন ধরা হয়েছে, বগুড়া জেলায় ৩ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমির বাগানে আমের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩১ হাজার ২৩০ মে.টন, জয়পুরহাটে ৬২২ হেক্টর বাগানে আমের উৎপাদন ধরা হয় ৪ হাজার ১৩৬ মে.টন, পাবনা জেলায় ১ হাজার ৯০৪ হেক্টর জমিতে আমের উৎপাদন ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৩৭৮ মে.টন এবং সিরাজগঞ্জ জেলায় ২ হাজার ৫৫ হেক্টর জমির আমবাগানে ২০ হাজার সাড়ে ৫শ মে.টন।

প্রথম ধাপে উঠবে বৈশাখী, গুটি, গোপালভোগ ও রানীপছন্দ জাতের আম। এর এক সপ্তাহের মধ্যেই লকনা, খিরসাপাত, ল্যাংড়া, গুটি, লক্ষণভোগ, দুধসর, মোহনভোগসহ বিভিন্ন জাতের আমে ভরে উঠবে বাজার। এরপর চলতি মৌসুমের আকর্ষণীয় ফজলি। সবশেষে বাজারে দেখা মিলবে আশ্বিনা আমের।

এ অঞ্চলে প্রায় ২৫০ জাতের আম উৎপন্ন হয়। তবে এবার ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসাপাত, বোম্বাই, হিমসাগর, ফজলি, আম্ররপালি, আশ্বিনা, ক্ষুদি, বৃন্দাবনী, লক্ষণভোগ, কালীভোগ, তোতাপরী, দুধসর, লকনা ও মোহনভোগ জাতের আমের চাষ বেশি হয়েছে।

রাজশাহীর বানেশ্বর বাজারের আম ব্যবসায়ী নাজমুল জানান, গত বুধবার থেকে আড়ত চালু করেছেন। কিছু চাষি অল্প অল্প করে আম নিয়ে আসছেন। ঢাকার ব্যবসায়ীরা এসব আম নিয়ে যাওয়া পর মেডিসিন দিয়ে পাকিয়ে বিক্রি করছেন। তবে আগামি এক থেকে দেড় সপ্তাহ পর পুরোদমে আগম জাতের গুটি, গোপালভোগ ও রানীপছন্দ বাজারে উঠবে।

তিনি আরও জানান, এবার খুচরা ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ভালো হবে। তবে যারা বাগান কিনেছে তাদের জন্য ভালো হবে না। কারণ এবার গাছে আম কম টিকেছে। ফলে তাদের আর্থিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদাহের আমচাষি নজিবুল্লাহ সজিব জানান, আর কয়েক দিন আগাম জাতের গাছ থেকে পারা শুরু হবে। তবে এবার আমের ফলন নিয়ে চাষিরা দুচিন্তায় রয়েছেন চাষিরা। মৌসুমের শুরু দিকে আবহাওয়া ভালো থাকলেও শেষের দিকে টানা খরা এবং সাম্প্রতিক ঝড়ে অনেক আম ঝড়ে পড়ে যাওয়া আমের ফলন নিয়ে শংকায় আছেন আম চাষিরা।

বাগমারা উপজেলার আম ব্যবসায়ী মো. সেকেন্দার আলী জানান, আমের মৌসুম এলে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার লোকের কর্মসস্থান হয় আমের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে। ব্যবসার

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার আম চাষি মিজানুর রহমান জানান, ঝড়ের আগে তার আট বাগানের আমের দাম এক লাখ ৬৫ হাজার টাকায় ব্যবসায়ীর কিনতে চাইলেও বর্তমানে তা এখন ৫০ হাজার টাকায়ও কিনছে না। এতে করে তার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হবে বলে তিনি জানান।

রাজশাহী ফল গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আলিম উদ্দিন বলেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে রাজশাহীতে এবার গাছে আম কম দেখা দেয়। যা আছে তাও আবার সাম্প্রতিক ঝড়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবমিলিয়ে রাজশাহীতে আমবাগান মালিকদের অবস্থা ভালো না।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আশা করছে এবার গাছে আম উৎপাদনরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলওে তবে বাজারে আমের দাম ভালো থাকবে।


আরোও সংবাদ