এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি

প্রকাশ:| রবিবার, ১৯ জুলাই , ২০১৫ সময় ০৩:২০ অপরাহ্ণ

নগরীর আমিন কলোনী এলাকায় পাহাড় ধস ও লালখান বাজার এলাকায় দেয়াল ধসে ছয়জন নিহতের ঘটনায় এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। রোববার (১৯ জুলাই) জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন।
পাহাড় ধস
জেলা প্রশাসক বাংলানিউজকে বলেন, ‘অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব মো.ইলিয়াছ হোসেনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ’

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বসতি সরিয়ে নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। টাইগারপাস শহীদনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে প্রশাসন।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাত দুইটার দিকে আমিন কলোনিতে শাহজাহান মিস্ত্রীর ঘরে পাহাড় ধসে আরাফাত হোসেন ফরিদ (১২), উম্মে সালমা (৫) ও বিবি মরিয়ম (২) নামে‍ ওই তিন ভাই-বোন মাটিচাপায় মারা যায়। এছাড়া রাত রাত দেড়টার দিকে লালখান বাজারের পোড়া কলোনি এলাকায় দেয়াল ধসে মরিয়ম বেগম (৩০) তার মেয়ে সুরাইয়া (২) এবং একই এলাকার আঁখির (৫) প্রাণহানি হয়।

বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ও দেওয়াল ধসে গত ৮ বছরে প্রায় ২০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে ২০০৭ সালের ১১ জুন স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড় ধসে চট্টগ্রামে ১২৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট লালখানবাজারের মতিঝর্ণা এলাকায় পাহাড় ধসে মারা যান ১১ জন, ২০০৯ ও ২০১০ সালে নগরীর পাহাড়তলী, সিআরবি, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে মারা যান আরও ১৫ জন।

২০১১ সালের ১ জুলাই পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৮ জনসহ বাটালি পাহাড়ের রিটেইনিং দেয়াল ধসে ১৭ জন মারা যান। ২০১২ সালে ১৭ জুন নগরীর ফিরোজ শাহ কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় ২৩ জন মারা গেছেন। ২০১৩ সালে পাহাড় ও দেয়াল ধসে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৫ জনের।

২০০৭ সালে পাহাড় ধসের ঘটনার পর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি ২৮টি কারণ নির্ধারণ করে ৩৬টি সুপারিশ প্রণয়ন করে। তবে সুপারিশগুলো আজ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নগরীর ১১টি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ৬৬৬টি পরিবার বসবাস করছে। এর মধ্যে নগরীর একে খান মালিকানাধীন পাহাড়ে ১৮৬ পরিবার, ইস্পাহানি পাহাড়ের দক্ষিণ পাশে হারুন খানের পাহাড় ও বায়তুল আমান সোসাইটির কাছে পাহাড়ে ৫টি, কৈবল্যধাম বিশ্ব কলোনি পাহাড়ে (পানির ট্যাংক) ২৭টি, লেকসিটি আবাসিক এলাকার পাহাড়ে ১২টি, আকবর শাহ আবাসিক এলাকা পাহাড়ে ২২টি, পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে সিটি কর্পোরেশন পাহাড়ে ১১টি, ফয়েজ লেক আবাসিক এলাকার কাছে পাহাড়ে ৯টি, ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট অ্যাকাডেমির উত্তর পাশে মীর মোহাম্মদ হাসানের মালিকানাধীন পাহাড়ে ৩৮টি, নাসিরাবাদ শিল্প এলাকা সংলগ্ন পাহাড়ে ৩টি, জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি সংলগ্ন পাহাড়ে ৩৩টি, মতিঝর্ণা ও বাটালি হিল পাহাড়ে ৩২০টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। এ ১১টি পাহাড় ছাড়াও আরো ১৪টি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রয়েছে।

চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি পাহাড়গুলোতে প্রভাবশালীদের সহায়তায় নিম্ন আয়ের লোকজন অবৈধভাবে বসতি গড়ে তোলে। প্রতি বছরই চট্টগ্রামে পাহাড় ও মাটি ধসে বিভিন্ন এলাকায় লোকজন মারা যায়।


আরোও সংবাদ