এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ইএসটিসি শিক্ষক-চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ:| রবিবার, ১ জুন , ২০১৪ সময় ১০:১৫ অপরাহ্ণ

চাকরি বিধিমালা প্রণয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বেসরকারি চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইএসটিসি) শিক্ষক-চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

সড়ক অবরোধ1রোববার সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জাকির হোসেন সড়ক অবরোধ করে তারা। অবরোধের কারণে ব্যস্ত এ সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, চাকরি বিধিমালা প্রণয়ণসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ১৮মে থেকে চার ঘণ্টার কর্মবিরতির পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন আশ্বাস মেলেনি। এ নিয়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

ইউএসটিসি আন্দোলন সমন্বয়কারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাপ্পী জানান, আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ গত শুক্র‍বার ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরী সিন্ডিকেট বৈঠক আহ্বান করা হয়েছিল। সেখানে আন্দোলনকারিদের দাবি দাওয়ার কোন সমাধান করা হয়নি। বরং উল্টোভাবে ক্যাম্পাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মে মাসের বেতন পরিশোধ না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রোববার সকালে এ খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনকারিরা সড়ক অবরোধ করে।

“আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ, আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে সচল করার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছি। পরে, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুরোধে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছি। তিনি দাবি পূরণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।”

খুলশী থানার সেকেন্ড অফিসার মামুনুর রশিদ বাংলানিউজকে বলেন, “বেতন-ভাতা পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে ইউএসটিসির শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সড়ক অবরোধ করেছিলো। আমরা তাদেরকে সড়ক থেকে উঠে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সড়ক অবরোধ চলাকালে টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় আন্দোলনকারিরা। অবরোধ চলাকালে দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এসময় সড়কে জড়ো হয়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশও করে তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘ট্রাস্টি বোর্ডের আজ্ঞাবহ সিন্ডিকেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থার নিরসন করা সম্ভব নয়। শুক্রবার অনুষ্ঠিত ১৪৬তম জরুরী সভার মধ্য দিয়ে তা প্রমাণিত হয়েছে। অবিলম্বে সরকারি একজন প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে মেরুদণ্ডহীন এ সিন্ডিকেটকে সচল করতে হবে।’

বক্তারা বলেন, ‘চট্টগ্রামে বসে ইউএসটিসির সকল সমস্যা নিরসন করতে হবে। ঢাকায় বসে কলকাটি নাড়ানোর সুযোগ আর নেই। যত বাধা সৃষ্টি করেন, আমরা আন্দোলন থেকে পিছ পা হবো না।’

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ডা. এ এইচ এম ইছহাক চৌধুরী, অধ্যাপক দিদারুল আলম, অধ্যাপক প্রকাশ কুমার চৌধুরী, ড. রিদওয়ানুল করিম, ড. মোজাম্মেল হক, বিএমএ নেতা মাহবুবুল কবির, নুরুদ্দীন জাহেদ, আনোয়ারুল ইসলাম বাপ্পী, আবদুর রহিম, সাইফুল ইসলাম, বিশ্বজিৎ বিশু প্রমুখ।


আরোও সংবাদ