এক কলা গাছে ১০০ থোর

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৫ আগস্ট , ২০১৪ সময় ১১:৪৬ অপরাহ্ণ

প্রকৃতির খেয়াল বোঝা বড় ভার। কখনো কখনো সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়। সবই খোদার কুদরত বুঝলেন! আমার ১০০ বছর বয়সে এই প্রথম দেখলাম এক কলা গাছে ১০০ থোর (মোচা)!

কথাগুলো বললেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্ধ ইউনিয়নের ধর্মনগর গ্রামের বৃদ্ধ মজু মিয়া।

আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্ধ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ধর্মনগর গ্রাম। গ্রামের জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে এখন প্রতিদিনই শত শত মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতির অবাক করা এই কলা গাছটি এক নজর দেথতে। উৎসুক মানুষের ভীড় সামলাতে বাড়ির মানুষের পাশাপাশি প্রতিবেশিরাও যেন হিমশিম খাচ্ছে।

আখাউড়ার পার্শ্ববর্তী কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র মঞ্জু মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, ক্লাসে সহপাঠীদের কাছে প্রথম শুনে বিশ্বাস হয়নি। তাই সত্যতা যাচাই করতে বাইসাইকেলে চড়ে এখানে ছুটে আসি। সত্যিই অবাক করার মতো। এক গাছে এতো থোর আর কখনো দেখেনি।

Captureজয়নালের স্ত্রী রানুআরা বেগম বলেন, প্রায় ৪/৫ বছর আগে বাড়ির উঠান থেকে কান্ডসহ একটি কলা গাছ আমার স্বামী বিল সংলগ্ন বাড়ির আঙ্গিনায় নিয়া পুতে দেয়। রমজান মাসে প্রথম গাছে একটা মাত্র থোর বেরোয়। কয়দিন বাদে ওই থোর থাইক্যা আরো থোড় বাইর হইতে থাহে। তয় প্রথম থোড়ে কলা আয়লেও বাকিগুলোনতে অহনও আহে নাই।

প্রতিবেশির কাছে শুনে গাছটি এক নজর দেখার জন্য প্রায় ১০ কিলোমিটার পায়ে হেটে ধর্মনগর ছুটে এসেছেন আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের গাজীবাজারের বৃদ্ধা বানু বেগম (৬০)। বানু বেগম বাংলানিউজকে বলেন, এক গাছে এতলা থোর জীবনে এই প্রথম দেখলাম।

শুক্রবার দুপুরে জয়নালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শত শত উৎসুক মানুষের ভীড়। টানা বর্ষণও যেন বাধ মানছে না। শত শত মানুষের আগমনে উঠানের মাটি কাঁদাকার ও পিচ্চিল হয়ে গেছে। বাড়ির আঙ্গিনায় বিল সংলগ্ন কলা গাছটি থোরের ভারে নুয়ে পড়েছে। আগতরা গাছটি স্পর্শ করে বিস্ময় প্রকাশ করছে।

মনিয়ন্ধ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আব্দুল্লাহ ভূইয়া বলেন, গাছ থেকে থোড় বের হওয়ার পর কলার জায়গায় আবার থোড়ই বের হচ্ছে। গাছটি না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। গাছটি এক নজর দেখার জন্য রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন জয়নালের বাড়িতে ছুটে আসছে।