একনেকে এনজিএন ভিত্তিক টেলিকম নেটওয়ার্কের অনুমোদন

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ০৯:৩২ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানির (বিটিসিএল)-এর আধুনিকায়নের জন্য ১ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য এনজিএন ভিত্তিক টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে এনজিও ভিত্তিক নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১ টা ৩০ মিনিটে শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক এই প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

প্রকল্পের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে মার্চ ২০১৪ থেকে জুন ২০১৭ সাল নাগাদ। প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য ভয়েস কল ছাড়াও ইন্টারনেট এবং ব্রডব্যান্ড সেবা বৃদ্ধি। বিটিসিএল-এর বিদ্যমান কপার বেইজড মূল টেলিফোন নেটওয়ার্ক উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন করা। এছাড়া অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক দ্বারা প্রতিস্থাপন করা। দেশে টেলিডেনসিটি বৃদ্ধি এবং টেলিএক্সসেস সুবিধা আরো সম্প্রসারণ করা। সাধারণ মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আইসিটি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। আইসিটি সেবার উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণ করা ।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় পর্যায়ে নেটওয়ার্ক তৈরি করে সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্তকরণ এবং ইন্টারনেট (আইপিপি) টেলিফোন ও ভিডিও কনফারেন্সিং চালু করা হবে। দেশের সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ভকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট সংযোগ দেবে সরকার।

সাত লাখ সংযোগ ক্ষমতাসম্পন্ন ঢাকায় ১টি ইন্টারনেট প্রটোকল (আইপি) মাল্টিমিডিয়া সাবসিস্টেম (আইএমএস) প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করা হবে। চট্রগ্রামেও প্রকল্পের আওতায় ১টি ইন্টারনেট প্রটোকল(আইপি) মাল্টিমিডিয়া সাবসিস্টেম(আইএমএস) প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ ৮০ হাজার পুরাতন টেলিফোন সংযোগ আধুনিক করা হবে। এছাড়া দেশের সকল গ্রাহকের টেলিফোন সংযোগ, নেটওয়ার্ক, অপারেশন এবং রক্ষণাবেক্ষণ কম্পিউটার পদ্ধতি ২৪ ঘণ্টা মনিটারিং এর জন্য ঢাকায় একটি কেন্দ্রীয় মনিটারিং সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

একনেকে উঠতে যাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য এনজিএনভিত্তিক টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রকল্পটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৬১ কোটি ১৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে ৪০৭ কোটি ৯৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা এবং চীন সরকার দেবে ১ হাজার ৪৫৩ কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানির (বিটিসিএল) দেশব্যাপী বিদ্যমান সকল এক্সচেঞ্জে স্থাপিত পুরাতন ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি ও কপার বেইজড টেলিফোন নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করে আধুনিক ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন করা যাবে। এ ব্যবস্থাকে ফাইবার ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা যাবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকার গৃহীত রূপকল্প অনুযায়ী বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকার ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন পলিসি (আইসিটি)-২০০৯ বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই আইসিটি পলিসিতে সামাজিক সাম্য, উৎপাদনশীলতা, জনসেবা প্রদানে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা, শিল্প ও গবেষণা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, রফতানি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিচর্যা, ইন্টারনেট ও টেলিকমিউনিকেশনে সর্বজনীন প্রবেশাধিকার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এই নীতিমালায় রয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে দেশের গ্রাম অঞ্চল পর্যন্ত ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থাকরণ, জাতীয় পর্যায়ে নেটওয়ার্ক তৈরি করে সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্তকরণ এবং ইন্টারনেট (আইপিপি) টেলিফোন ও ভিডিও কনফারেন্সিং চালুর জন্য সুযোগ সৃষ্টি। সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বিটিসিএল’র বিদ্যমান ল্যান্ড টেলিফোন নেটওয়ার্ক পুরাতন টেকনোলজি নির্ভর হওয়ায় শুধুমাত্র ভয়েস কল ব্যতীত যুগের চাহিদার সঙ্গে অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা অর্থাৎ ইন্টারনেট, ডাটা ও ভিডিও আদান প্রদানের সুযোগ নেই। ফলে সরকারের ভিশন-২০২১ এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে জনগণকে অধিক সেবা দেওয়ার জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতায় বিটিসিএল দেশব্যাপী বিদ্যমান পুরাতন যন্ত্রপাতি পরিবর্তন করে আধুনিক ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি এবং ফাইবার অপটিক্যাবল নেটওয়ার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

বিটিসিএলের সারাদেশে ৯ লাখ ৩০ হাজার ল্যান্ড ফোন গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে আড়াই লাখ গ্রাহককে ফাইবার ক্যাবল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হচ্ছে। এরপরও ৬ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক আধুনিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের বাইরেই থাকছে। এ জন্য চীনের অর্থায়নে নেওয়া এ প্রকল্পটির মাধ্যমে ৭ লাখ গ্রাহককে ফাইবার ক্যাবল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার সংস্থান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পুরাতন ৬ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহককে এর আওতায় আনা হবে।
– See more at: http://tech.priyo.com/news/2014/4/15/24598.html#sthash.ECPzWm3a.dpuf