একদলীয় শাসনই আলীগের রাজনৈতিক মেনিফেস্টো

প্রকাশ:| রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ০৭:৪৬ অপরাহ্ণ

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন, ‘একদলীয় শাসন ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকরণই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মেনিফেস্টো।’ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলনকে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয় দাবি করে তিনি আরো বলেছেন, ‘আওয়ামী একনায়কতান্ত্রিকতা ও স্বৈরতান্ত্রিকতা থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্যই জনগণের এই আন্দোলন।’

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন সালাহ উদ্দিন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘আওয়ামী লীগ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পবিত্র সংবিধানকে আওয়ামী লীগের দলীয় ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রে পরিণত করেছে। ইতোপূর্বে চতুর্থ সংশোধনীর মাধমে বাকশাল কায়েম করেও তারা একই কর্ম করেছিল। দুটো সংশোধনীর মর্মার্থ একই, অর্থাৎ সকল বিরোধী দল নিশ্চিহ্ন করে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ একদলীয় সরকার ও একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করবে।’

শনিবার অর্থমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘অবশেষে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করলেন- ঢাকার বাইরের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অন্তত এটি তার রাবিশ বক্তব্য নয় বলে আমি মনে করি। আমি তাকে এবং তার অবৈধ সরকারকে আহবান জানাই সময় থাকতে পতনের পদধ্বণি শুনুন, দ্রুত পদত্যাগ করে দেশ বাঁচান, মানুষ বাঁচান।

সরকারপ্রধানের রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই অস্থিরতার সৃষ্টি দাবি করে বিবৃতিতে তিনি আরো বলেছেন, ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যবস্থাবান্ধব স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের জন্য মায়াকান্না করছেন বলেও উল্লেখ রয়েছে বিবৃতিটিতে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘১৯৯৫-৯৬ সালে আওয়ামী নৈরাজ্য ও তাণ্ডবের কারণে এসএসসি পরীক্ষা তিন মাস পেছাতে বাধ্য হয়েছিল তৎকালীন বিএনপি সরকার। স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী সরকার ও পরবর্তীকালের তাদের প্রত্যেক শাসনামলেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছিল।’

সালাহ উদ্দিন বিবৃতিতে আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর হুকুমে সারাদেশে বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ডের মহোৎসব করছে দলবাজ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। প্রতিবাদী মিছিলে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। খুন, গুম, অপহরণ, হামলা-মামলার শিকার হচ্ছে রাজপথের অসীম সাহসী আন্দোলনকারী সাথীরা। গণগ্রেপ্তারের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত অসংখ্য বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মী ও নিরীহ সাধারণ জনগণ।’

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ‘গতকাল ঢাকার শ্যামলী এলাকায় মিছিল থেকে চার শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারমধ্যে শিবির নেতা জসীম উদ্দিন হাওলাদারকে ক্রসফায়ারে হত্যা করে এবং অন্য তিন জন শিবির নেতা সজীব, আবদুল মান্নান ও আবদুল্লাহকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও এখনও স্বীকার করেনি। এছাড়া ঢাকার কলাবাগান থানার পুলিশ শিবির নেতা আবু হাসানকে বাসা থেকে থানায় ডেকে নিয়ে পায়ে গুলি করে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট জামায়াত নেতা বেলায়েত হোসেন মজুমদার ও বেলাল হোসেন পন্ডিতকে একই কায়দায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে থানায় নিয়ে গিয়ে পায়ে গুলি করে। আমরা সরকারের পেটোয়া পুলিশ বাহিনীর এহেন ঘৃন্য হত্যাকাণ্ড ও বন্দুকবাজীর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এই মর্মে হুঁশিয়ার করছি যে, ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে এই সকল হত্যাকাণ্ডের ও নির্মম বন্দুকবাজীর প্রত্যেকটি ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করা হবে। এছাড়া প্রতিনিয়ত বিএনপি, জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের অসংখ্য নেতা-কর্মীরা যারা এ জাতীয় হত্যাকাণ্ডের ও বন্দুকবাজীর শিকার হচ্ছে তার প্রত্যেকটি ঘটনার বিচার করা হবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অঘোষিতভাবে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন সালাহ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউসহ পৃথিবীর সকল উন্নত রাষ্ট্রসমূহ, জাতিসংঘসহ সকল বিশ্বসংস্থা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ জানানো সত্বেও অবৈধ আওয়ামী সরকারের টনক নড়ছে না।’