একটি সেতু বদলাতে পারে তিন উপজেলার ভাগ্য

প্রকাশ:| বুধবার, ৭ মে , ২০১৪ সময় ১০:২৪ অপরাহ্ণ

বিপ্লব দে,ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ফটিকছড়ি থেকে ফিরে :

একটি সেতু বদলাতে পারে তিন উপজেলার ভাগ্যএশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর উপর একটি সেতু বদলে দিতে পারে ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের দূর্ভোগ, বদলে যেতে পারে তাদের ভাগ্য। দিনবদলের সরকারের কাছে এমনটিই আশা করেন এ তিন উপজেলার ভূক্তভোগী জনসাধারণ।

একটি সেতু নির্মাণ হলে তিন উপজেলাবাসীর ব্যবসা-বাণিজ্য, যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ যাতায়াত সহজ হত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ফটিকছড়ির দক্ষিণ নিচিন্তাপুর-সমিতিরহাট-তেলপারই-জাফতনগর, হাটহাজারীর নাঙ্গলমোড়া-গুমানমর্দন-ছিপাতলী, রাউজানের ফতেনগর-নোয়াজিষপুর-চিকদাইর ইউনিয়নের জনসাধারণের এপাড়-ওপাড় পারাপারের একমাত্র পথ হাটহাজারীর নাঙ্গল মোড়া ইউনিয়নের কান্ন্য হাটের ঘাট (এডভোকেট কানু চৌধুরী) বা নাঙ্গলমোড়া বাজার ঘাট। একটি বাঁশের তৈরী সাঁকু দিয়ে চলাচল করে ব্যবসায়ী,শিক্ষার্থী ও সাধারন জনগন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রাউজানের পশ্চিম ফতেপুর গ্রামের রুহুল আমিন নোয়াজিষপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাৎসরিক ছয় হাজার টাকায় ঘাট ইজারা নেন কান্ন্য হাটের ঘাট। ঘাট ইজারাদার শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাকোঁ তৈরী করলে চলাচল সাময়িক সহজ হয়। কিন্তু বর্ষা শুরু হলেই শুরু হয় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ। স্রোতের তোড়ে ভেঙে নিয়ে যায় বাঁশের সাকোঁ।

তখন নৌকায় পারাপার ছাড়া কোন উপায়ান্তর থাকেনা। তখন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, সরকারী-বেসরকারী চাকুরীজিবী, ব্যবসায়ী সর্বোপরি জনসাধারণের দূর্ভোগের শেষ থাকেনা।

ফটিকছড়ির দক্ষিণ নিচিন্তাপুর গ্রামের সমাজসেবক মোঃ কামাল পাশা বলেন- দিন বদলাচ্ছে কিন্তু দক্ষিণনিচন্তাপুর ও জাফতনগর এলাকার মানুষের দিন বদলায়নি। কান্ন্য হাটের ঘাটে একটি সেতু নির্মাণ হলে এ অঞ্চলের মানুষের দুঃখ ঘুচবে। হালদা নদীর কান্ন্য হাটের ঘাট হচ্ছে তিন উপজেলাবাসীর মিলন মোহনা। এখানে সেতু নির্মাণ হলে রাউজান রাবার বাগান থেকে শুরু করে হাটহাজারীর সরকারহাট হয়ে চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছানো হবে সহজতম পথ। তাই এখানে সেতু নির্মাণ করা জরুরী।

হাটহাজারীর ওয়ার্ল্ড ভিশনের সমন্বয়কারী মুজিবর রহমান বলেন- স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাড়–য়া অনেক শিক্ষার্থী ঘাট পেরুতে দেরী হওয়ায় সময় মতো পৌঁছাতে পারেনা। সেতু নির্মাণ হলে নির্দিষ্ট সময়ে তাদের পৌঁছানো নিশ্চিত হবে। উপকৃত হবে ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা।

রাউজানের নোয়াজিষপুরের শিক্ষিকা শুক্লা বড়–য়া, বলেন- এখানে সেতু নির্মাণ করাটা হবে তিন উপজেলাবাসীকে মিলনমোহনায় মিলিত করা।

ফটিকছড়ির উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম বাবু বলেন- হাটহাজারীও ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাংসদদের সাথে আলোচনা করে তিন উপজেলার জনসাধারণের দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবি এই সেতুটি করার উদ্যোগ নেব।