একই স্থানে দুটি মাদ্রাসা, সংঘর্ষের আশংকা

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর , ২০১৭ সময় ১১:৫৯ অপরাহ্ণ

পেকুয়ায় মারকাজুল উম্মাহ মাদ্রাসা নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ, থানায় অভিযোগ

পেকুয়া প্রতিনিধি

পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে বাইম্যাখালী এলাকায় পুরাতন একটি মাদ্রাসার পাশে নতুনভাবে আরেকটি মাদ্রাসা গঠন নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের সাথে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের যে কোন মূহর্তে সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগও করেছেন পুরাতন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে পূর্ব বাইম্যাখালী এলাকায় শাহ জমিরিয়া তালিমুল কোরাআন মাদ্রাসা হেফজখানা ও এতিমখানা স্থাপিত হয়। মাদ্রাসা নিজস্ব কার্যালয়ে আর হেফজখানা ভাড়া বাসায় পরিচালিত হচ্ছে। মাদ্রাসা ও কোরাআনে হেফজ খানা পূর্ণাঙ্গ চালু হওয়ায় শিক্ষার আলোবিহীন এ এলাকাটি আলোকিত হচ্ছিল। এরই মধ্যে গত এক মাস আগে একই হেফজ ভবনে আরেকটি মারকাজুল উম্মাহ মাদ্রাসা ও হেফজখানা চালু করার ঘোষনা দেন মাওলানা মুহাম্মদ আতিকুল ইসলাম। যা নিয়ে এলাকাবাসী ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে শাহ জমিরিয়া তালিমুল কোরাআন মাদ্রাসার পক্ষে মোহতামিম মাওলানা সিরাজুল হক বাদি হয়ে পেকুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরও কোন ধরণের সুরহা না হাওয়ায় গতকাল এলাকাবাসীর মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মারকাজুল উম্মাহ মাদ্রাসা নামের হলেও একটি রুমে শিক্ষক আর শিক্ষার্থীর অবস্থানের জন্য কিছু চেয়ার সাঁজানো রয়েছে। কোন শিক্ষার্থী পাওয়া না গেলেও অপর রুমে একজন মহিলা হেফজ শিক্ষক অবস্থান করছেন। তিনি কোন ধরণের প্রশ্নের উত্তর দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় জাকের হোসেন, গিয়াস উদ্দিন, ছৈয়দ নুর, নুরুল আলমসহ আরো কয়েকজন জানান,এ পাড়ার লোকজন শিক্ষার প্রতি তেমন আগ্রহী ছিলনা। শাহ জমিরিয়া তালিমুল মাদ্রাসা ও হেফজ খানা চালু করার পর তাদের সন্তানেরা লেখাপড়া ও পবিত্র কোরাআন হাফেজে আগ্রহী হয়েছেন। ওই মাদ্রাসার কারণে প্রত্যেকটি পরিবারের সন্তান এখন লেখাপড়ায় ব্যস্থ। এরই মাঝে প্রতিহিংসার বসবতি হয়ে মো: আতিকুল ইসলাম একশ গজ দুরুত্বে আরেকটি মাদ্রাসা সৃষ্টির পায়তারা শুরু করে। ৪/৫ জন মহিলা শিক্ষার্থী নিয়ে মহিলা শিক্ষক দিয়ে হেফজখানা চালু করলেও ওই রুমে সব সময় পুরুষের চলাচল থাকে। মহিলা শিক্ষক ওখানেই রাত কাটান। তারা সাংঘর্ষিক এ প্রতিষ্টানটি অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার দাবী করেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে মারকাজুল উম্মাহ মাদ্রাসা ও হেফজখানার পরিচালক মাওলানা আতিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্টান পাশাপাশি করলে সমস্যা কি। আধুৃনিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্টান হবে আমারটা। সারা বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি হবে এখানে। আর আমার প্রতিষ্টানে লেখাপড়া করতে অনেক টাকার দরকার হবে। গরীব শিক্ষার্থীর কোন স্থান নাই। শাহ জমিরিয়া মাদ্রাসার গরীব শিক্ষার্র্থীদের কেন আমি ভর্তি করাব। বাইম্যাখালীর কোন শিক্ষার্থী আমি ভর্তি করাবনা। আর পূর্ণাঙ্গ মাদ্রাসা ও হেফজখানা চালু হলে বড় পরিসরে অন্য জায়গায় আমরা কার্যক্রম চালাব। সাময়িকের জন্য এখানে অবস্থান। বর্তমান মাদ্রাসার কি অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি রুমে পুরুষ হেফজখানা আরেকটি রুমে মহিলা হেফজ শিক্ষা দেওয়া হয়। বর্তমানে ১৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকেরা দুই রুমে আলিদাভাবে রাত যাপন করেন। স্থানীয়দের অভিযোগগুলো তিনি ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেন।