ঋণ ও আমানতে সুদহার কমেছে

প্রকাশ:| সোমবার, ২ মার্চ , ২০১৫ সময় ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বজায় থাকায় কমেছে ঋণের চাহিদা। ঋণ চহিদা কম থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে ব্যাংকগুলো ঋণ ও আমানতে সুদহার কমাচ্ছে। তবে এর মধ্য থেকেও ২৫টি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে কম সুদে আমানত সংগ্রহ করে বেশি সুদে ঋণ বিতরণ করেছে জানুয়ারিতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জানুয়ারিতে দেশের ৫৭টি ব্যাংকের ঋণের গড় সুদহার কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ; যা ডিসেম্বরে ছিল ১২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এ সময় আমানতে গড় সুদহারও কিছুটা কমে ৭ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা ডিসেম্বরে ছিল ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ।

সার্বিকভাবে ব্যাংকখাতে মোট স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। যা ডিসেম্বরে ছিল ৫ দশমিক ২১ শতাংশ।

ব্যাংক ঋণের ঊর্ধ্বমুখী সুদহারের কারণে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাদের মতে, ঋণের সুদহার বেশি হওয়ায় উদ্যোক্তারা ব্যাংকবিমুখ হয়ে পড়ছেন। ফলে দেশে নতুন করে বিনিয়োগ হচ্ছে না। সেইসঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হচ্ছে না। এর ফলে ব্যাংকের মুনাফায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে ব্যাংকারদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে না। ব্যাংকগুলোতে অলস অর্থ পড়ে থাকলেও আমানতকারীদের নিয়মিতভাবে সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে ব্যাংকের পরিচালনা ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

জানা যায় জানুয়ারিতে রাষ্ট্রীয় মালকিানার ব্যাংকগুলোর স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ০৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। আগের মাসে যা ছিল ৪ দশমিক ১৯ পয়েন্ট। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর স্প্রেড আগের মাসের ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশীয় পয়েন্ট থেকে কমে ১ দশমিক ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড ৫ দশমিক ৩০ শতাংশীয় পয়েন্ট। আগের মাসে যা ছিল ৫ দশমিক ৪৪। আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর স্প্রেড ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশীয় পয়েন্ট থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৯০ শতাংশীয় পয়েন্ট। এদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৮ শতাংশীয় পয়েন্ট।

বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে বরাবরের মতোই ব্র্যাক ব্যাংকের স্প্রেড সবচেয়ে বেশি। এ ব্যাংকের ঋণ-আমানতের ব্যবধান ৯ দশমিক ১৭ শতাংশীয় পয়েন্ট। এরপরে ডাচ বাংলার ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ ও ওয়ান ব্যাংকের ঋণ-আমানতের ব্যবধান ৬ দশমিক ৭২ শতাংশীয় পয়েন্ট।

এবি ব্যাংকের ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ, দ্য সিটি ৬ দশমিক ৪০, আইএফআইসি ৫ দশমিক ৮৩, পূবালী ৫ দশমিক ২৯, উত্তরা ৬ দশমিক ১০, ইষ্টার্ন ৫ দশমিক ১২, প্রাইম ৫ দশমিক ৫৪, ঢাকা ব্যাংকের ৫ দশমিক ০৫, স্যোসাল ইসলামী ৫ দশমিক ০৯, এক্সিম ৫ দশমিক ৩৯, প্রিমিয়ার ৬ দশমিক ০৬, ব্যাংক এশিয়ায় ৫ দশমিক ৪৬, ট্রাষ্ট ব্যাংক ৫ দশমিক ৩৯, মিডল্যান্ড ৫ দশমিক ০৪, ইউনিয়ন ৫ দশমিক ১১, মধুমতি ৫ দশমিক ০৭ ও যমুনা ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের ব্যবধান ৫ দশমিক ২৭ শতাংশীয় পয়েন্ট।

আর বিদেশি মালিকানার ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের স্প্রেড ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ, সিটি ব্যাংক এনএর ৭ দশমিক ৯৩, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন ৬ দশমিক ৯৮, ওরি ব্যাংকের ৭ দশমিক ৮২ ও এইচএসবিসি ব্যাংকের স্প্রেড ৬ দশমিক ৯০ শতাংশীয় পয়েন্টের ওপরে রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদশে ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকের স্প্রেড ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের মধ্যে সীমিত রাখার কথা। কিন্তু বারবার সতর্ক করার পরও ২৫ টি ব্যাংক তাদের স্প্রেড সীমা মানতে পারেনি।