উৎসবে ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে কক্সবাজারে শুভ নববর্ষ বরণ

প্রকাশ:| সোমবার, ১৪ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১১:৫৭ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার অফিস>>
১কক্সবাজারে শুভ নববর্ষ বরণউৎসবে ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে কক্সবাজারে পালিত হলো শুভ নববর্ষ বরণ। সমুদ্র নগরীর প্রায় দর্শনীয় স্থানসমূহ উৎসব হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত ছিলো। এ দিনে ১৪২১ বরণে কক্সবাজার সমুদ্র তীরে বসেছিলো হাজারো বাঙালীর মিলনমেলা। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসুচির মাধ্যমে পালন করে দিনটি।

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটিতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ইউনিভার্সিটির সামনে কলাতলী গোলচত্ত্বর এলাকায় শিক্ষার্থীরা বৈশাখ পালন করতে বসে। এতে যোগ দেয় বিভিন্ন শ্রেণি বয়সী মানুষও। এ ছাড়াও কক্সবাজার সিটি কলেজ দিনব্যাপী কর্মসুচি পালন করে। বৈশাখী উৎসবের এ দিনে কলেজ আঙ্গীনা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উল্লাসে মেতে উঠে। সবখানে সাজ সাজ রব।

বাঙ্গালি জাতির ঐতিহ্য নববর্ষে পরিধেয় বস্ত্রে বৈশাখী উৎসবের লাল-সাদার বাহারি নক্সার পোশাক। শাড়ি, সালোয়ার কামিজ ও ফতুয়া পরে, পায়ে আলতা, হাতে মেহেদী আর খোঁপায় তাজা ফুলের মালা জড়িয়ে ছাত্রীরা পালন করছে পহেলা বৈশাখ। অনেকের পরিধানে রয়েছে পাঞ্জাবী ও ফতুয়াসহ চিরায়ত বাঙালি পোশাক। শিশুরাও বাবা-মা’র হাত ধরে আসছে পুরো বাঙালি সাজে। যেন একদিনে সাচ্চা বাঙালী বনে যাওয়া।

বিশেষ করে শিশু তরুণ তরুণীদের কপালে, গালে, বাহুতে আঁকা রয়েছে বাঙালী সংস্কৃতির আল্পনা। রঙ-বেরঙের মুখোশ পরে ঢাক, ঢোল, একতারা হাতে নানা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছে অনেকেই। সকাল থেকে উৎসব পাগল বাঙালীরা কক্সবাজার সমুদ্র কিনারে ভীড় করেছে। লাবণী পয়েন্ট থেকে পানির কিনার পর্যন্ত কোথাও ছিলোনা নিশ্বাস

ফেলার জ্যু। চারিদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ।

এ ছাড়াও শহরের অভিজাত রেস্টুরেন্টগুলো থেকে শুরু করে সমুদ্র সৈকতের আশেপাশে ভ্রাম্যমাণ রেস্টুরেন্টে ব্যবস্থা করা হয় ইলিশ পান্থার আয়োজন। বাসাবাড়িতে বাঙালির খাবার ইলিশ মাছ ভাজা, শুটকি, বেগুন, ডাল, নানা পদের ভর্তা, ইলিশ ভাজা ও ষর্ষে ইলিশসহ বাহারি রকমের খাবারের আয়োজনও ছিলো।

সমুদ্রে স্ব-পরিবারে উৎসব পালনে আসা সুমা বড়–য়া জানান, এ দিনে তারা খুব আনন্দ অনুভব করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্বা থাকায় কোথাও তাদের উৎসব পালনে ব্যাঘাত ঘটেনি।

বৈশাখের দিনে সমুদ্রের শুভা দেখতে আসা লিটন দম্পতি জানান, তারা মাস আগে বিয়ে করেছে। এরই মাঝে বৈশাখের আমেজে তারা উৎফুল্লিত।

কক্সবাজাররের পুলিশ সুপার মো. আজাদ মিয়া জানান, বাঙালীদের নববর্ষের অনুষ্ঠান পালনে কোথাও যেন বিঘœ না ঘটে সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট নিরাপত্ত্বা নিশ্চিত করা হয়। এ কারণে কোথাও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।