উল্টো পথে গাড়ি চালানো যাবেনা

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন , ২০১৬ সময় ১০:০৫ অপরাহ্ণ

এবার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে উল্টো পথে গাড়ি চলাচল রোধে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত সহজ করতে তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে কাজ করবে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। এছাড়া শুধু মাত্র প্রশিক্ষিত ড্রাইভারই যেন গাড়ি চালায় সেটি নিশ্চিত করতে মালিক ও শ্রমিক সংগঠন গুলোকে হুঁসিয়ার করেছেন পুলিশ সুপার।

উল্টো পথে গাড়িবৃহস্পতিবার জেলা পুলিশ সুপারের সাথে সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক এ সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব, জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, সওজের কর্মকর্তা এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘গতবার ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ঈদুল ফিতরের আগের তিনদিন এবং পরের তিনদিন মহাসড়কে পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো, এবারও তা বলবত থাকবে। তবে এবার পুলিশ নতুন তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে উল্টো পথে গাড়ি চলাচল বন্ধ করা। কোনো ভাবেই মহাসড়কে উল্টো পথে গাড়ি চলতে দেয়া যাবে না। শুধু মাত্র এ একটি কারণে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মহাসড়কের যে স্থান গুলোতে রাস্থা ভাঙ্গা আছে সেখানে পুলিশ ক্রসিংয়ের ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া মহাসড়কে সিএনজি, নসিমন বা ভটভটি চলাচলে কঠোর ভুমিকা রাখবে।’

একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ঈদে প্রায় দেখা যায় চাপ থাকায় চালকের পাশাপাশি হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো হয়। এবার এ বিষয়ে কঠোর হবে পুলিশ। কোনো ভাবেই ড্রাইভার ছাড়া অন্য কেউ গাড়ি চালাতে পারবে না। শুধু মাত্র প্রশিক্ষিত ড্রাইভারই যেন গাড়ি চালায় সেটি নিশ্চিত করবে মালিক ও শ্রমিক সংগঠন গুলো।’

এছাড়া ঈদে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁসিয়ারী উচ্চারণ করেন পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘ঈদের তিনদিন আগে এবং তিনদিন পরে এবারও আমরা লং ভেহিক্যল চলতে দেবনা। প্রথম তিনদিন আমরা খুবই কঠোর থাকব। কোনভাবেই রাস্তায় পণ্য নিয়ে লং ভেহিকল আসতে দেবনা। তবে জরুরি এবং পচনশীল পণ্যবোঝাই যানবাহন চলাচলে বাধা থাকবে না।’

তিনি জানান, সড়কের সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ও তিনজন ট্রাফিক পরিদর্শক নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সংযুক্ত থাকবেন। এছাড়া হাইওয়ে পুলিশের প্রতিনিধিও থাকবেন। মহাসড়কে ২০০ থেকে ৩০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। একটি যোগাযোগের নাম্বার থাকবে, যে কোনো সমস্যা ওই নাম্বারে ফোন করে জানানো যাবে।

এসময় মহাসড়কে ডাকাতি বন্ধে এসি-নন এসি সব বাস ছাড়ার আগে স্ট্যান্ডে যাত্রীদের ভিডিও করে তা সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন পুলিশ সুপার।

সভায় বাংলাদেশ কভার্ডভ্যান-ট্রাক পণ্য পরিবহন মালিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু মোজাফফর বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টানা বৃষ্টিতে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। চার লেনের রাস্তার অনেক অংশ দেবে গেছে। এর ফলে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালনো যাচ্ছেনা। গাড়িও গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। মহাসড়কে খানাখন্দ মেরামত না করলে ঈদের সময় যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করবে।’

এসময় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তা জানান, চারলেন প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে মেরামত শেষ হবে।

সভা শেষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের পূর্বাঞ্চলীয় সভাপতি মৃণাল চৌধুরী বাংলামেইলকে বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেনের কাজ ২০১২ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো শেষ হয়নি। এছাড়া গত সপ্তাহের বৃষ্টিতে সড়কের অবস্তা কাহিল হয়ে পড়েছে। এনিয়ে ঈদে যাত্রীদের ভোগান্তি ও দুর্ভোগ ছাড়াও ঝুঁকি বাড়বে। এছাড়া মহাসড়কের কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের অনেকাংশ দেবে গেছে। এতে বোঝা যায় এখানে বড় ধরনের চুরি হয়েছে। দেশে জবাবদিহিতার অভাবেই এমনটা ঘটছে।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম এমরান ভূঁইয়া এবং পূর্বাঞ্চলীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মৃণাল চৌধুরী, কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক মালিক সমিতির মহাসচিব মো. আবু মোজাফ্ফর, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব আবুল কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম বন্দর ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক প্রমুখ।


আরোও সংবাদ