উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে রাউজানের সর্বত্র

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই , ২০১৭ সময় ১০:২৩ অপরাহ্ণ

শফিউল আল, রাউজান ঃ রাউজানে গত ৮ বৎসরে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে এ রকম উন্নয়ন কাজ রাউজানে আর কোন সরকারের আমলে হয়নি । বিট্রিশ বিরোধী আন্দেলনের অগ্রনায়ক বিপ্লবী মাষ্টার দা সুর্য সেনের জম্মভুমি রাউজান । চট্টগ্রাম জেলার রাউজানে বিট্রিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে এলাকার লোকজন ব্যাপক ভুমিকা রাখেন । নিউজচিটাগাং টুয়েন্টি ফোর ডটকমের বিশেষ প্রতিনিধি এলাকায় ঘুরে লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিট্রিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বিপ্লবী মাষ্টার দা সুর্য সেনকে ফাসিতে ঝুলিয়ে বিট্রিশ সরকার মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন । মহান ভাষা আন্দোলনের সময়ে চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে বিশাল জনসভায় দাড়িয়ে রাউজানের গহিরা এলাকার বাসিন্দ্বা কবি মাহবুবুল আলম কাদঁতে আসেনি ফাসিঁর দাবী নিয়ে এসেছি কবিতা পাঠ করে বাঙ্গালী জাতীকে মহান ভাষা আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ার জন্য উদ্বৃদ করেন । ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে রাউজানে স্বাধীনতার স্বপক্ষের লোকজনকে পাক হানাদার বাহিনীর সদস্য রাজাকারেরা নির্বিচারে হত্যা করে । বাড়ী ঘর আগুন লাগিয়ে জালিয়ে দেয় । ঐ সময়ে রাউজানের লোকজন মুক্তিযুদ্বে অংশ নিয়ে পাক হানাদার বাহিনির সদস্য ও রাজকারদের বিরুদ্বে যুদ্ব করেন । ৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেন । স্বাধীনতা সংগ্রামের পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি জাতীর জনক বঙ্গবন্দ্বু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার পর রাউজানে স্বাধীনতা বিরোধীরা আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠে । ৭৫ সালের পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা বিরোধী নেতা স্বাধীন বাংলাদেশের মন্ত্রী হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা তাদের গাড়ীতে উড়িয়ে রাউজানে ঘুরে বেড়াত । স্বাধীনতার পরবর্তী ৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতীর জনককে স্বপরিবারে হত্যা করার পর রাউজানের বিভিন্ন সরকারের অনেক মন্ত্রী. এমপি থাকলে ও রাউজানে কোন উন্নয়ন করা হয়নি । জ্ঞানী, গুনি, পীর আউলিয়ার জম্মভুমি রাউজানে রাজনৈতিক একক আধিপত্য ধরে রাখার জন্য স্বাধূনতা বিরোধী শক্তি সন্ত্রাসের জনপদ হিসাবে পরিচিত করে তোলে । রাউজানে হত্যা, অপহরন, চাদাঁবাজী, চুরি, ডাকাতি নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা । রাউজানে ছিলনা কোন উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, ছিলনা কোন ফায়ার ষ্টেশন, ছিলনা কোন উন্নত মানের অফিস আদালত, ছিলনা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, কোন স্কুল কলেজ সরকারী ছিলনা, বর্তমান সরকারের শাসন আমলে রেলপথ মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি একসময়ে সন্ত্রাসের জনপদ রাউজানকে সন্ত্রাসমুক্ত করে রাউজানে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন । এসব কাজের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়ক প্রশস্তকরন, চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়কের সতা খালের উপর ঝুকিপুর্ন সতার ঘাট ব্রীজ ভেঙ্গে হালদা সেতু সড়কে চারটি ঝুকিপুর্ণ ব্রীজ ভেঙ্গে নতুন ব্রীজ নির্মান করেছেন । রাউজানের পশ্চিম গহিরা ইউনুছ সুফিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ভবন নির্মান, গহিরা এ, জে, ওয়াই বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মান, গহিরা কলেজ, রাউজান কলেজ, নোয়াপাড়া কলেজ, ইমাম গাজ্জালী কলেজের ভবন নির্মান সহ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরাকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মার্দ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, বিহার ভবন নির্মান কাজ । এছাড়া ও রাউজানের গহিরা বঙ্গবন্দ্বু স্মৃতি পাঠাগার, রাউজান ফায়ার ষ্টেশন, রাউজান ডাকবাংলো ভবন, রাউজান পৌরসভা ভবন, রাউজান উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, রাউজান থানা ভবন, মুক্তিযুদ্ব স্মৃতি স্তম্ভ, হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ডাবুয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, চিকদাইর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, গহিরা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, বিনাজুরী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ৭ নং রাউজান ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কদলপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, পাহাড়তলী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, পুর্ব গুজরা, পশ্চিম গুজরা, উরকির চর, বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মান করেছেন । রাউজানের নোয়াজিশপুর ও নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মানের কাজ চলছে । রাউজানের পশ্চিম গুজরা নিশ্চার ফেরীঘাট এলাকায় মহাকবি নবিন চন্দ্র সেনের সমাধীতে কবি নবীন চন্দ্র সেন কমপ্লেক্স ভবন, রাউজান কলেজের পশ্চিমে মাষ্টার দা সুর্য সেন চত্বর ও তোরন নির্মান কাজ করা হয়েছে । রাউজানের নোয়াপাড়ায় শেখ কামাল অটিডেরিয়াম ভবন, রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের গশ্চিতে ২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মান করেছেন । রাউজানে হলদিয়া ইউনিয়নের সতা খালের উপর হজরত আলী হোসেন শাহ সেতু, ডাবুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ডাবুয়া গনির ঘাট এলাকায় গনির ঘাট ব্রীজ নির্মান, চিকদাইর ইউনিয়নের হক বাজারের পার্শ্বে সতা খালের উপর হজরত নুরুল হক শাহ সেতু, চিকদাইর নোয়াজিশপুর সীমান্তে সর্তা খালের উপর হজরত আকবর শাহ সেতু, গহিরা দলই নগর চিকদাইর দক্ষিন সর্তা সীমান্তে সর্তা খালের উপর সৃষ্টি মহাজন সেতু নির্মান করা হয়েছে । রাউজানের গহিরা কালচন্দ চৌধুরী হাট এলাকায় সর্তা খালের উপর ঝুকিপুণ সেতু ভেঙ্গে সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে কালটান্দ চৌধুরী সেতু নির্মানের কাজ চলছে । রাউজানের বৃকবানুপুর এলাকায় ডাবুয়া খালের উপর ব্রীজ নির্মান, ফরিদখালী খালের উপর ব্রীজ নির্মান, নোয়াজিশপুর পশ্চিম নদীম পুর এলাকায় তেলপারই খালের উপর দুইটি ব্রীজ নির্মান, কাগতিয়া দেওয়ান আলী সেতু, পশ্চিম গুজরা নিশ্চর ফেরী ঘাট এলাকায় ও পুর্ব গুজরা ইউনিয়নের নতুন হাট এলাকায় মগদাই খালের উপর কাগতিয়া খালের উপর কমলার পিতা ব্রীজ নির্মান হাফেজ বজলুর রহমান সড়ক, রাউজান নোয়াপাড়া সড়ক, দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরী সড়কে ঝকিপুণ ব্রীজ গুলো নতুন করে ব্রীজ নির্মান ও সড়কের ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে । রাউজানের দক্ষিন রাউজানে পাহাড়তলী বদুপাড়া এলাকায় পিংক সিটি, রাউজানের ফকির তকিয়া এলাকায় পিংক সিটি সহ দুটি পিংক সিটি নির্মান করা হয় । রাউজানের চিকদাইর ইউনিয়নের দক্ষিন সর্তা এলাকায় চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়কের পাশ্বে কারিগরী কলেজ, ট্রেনিং সেন্টার, পাওয়ার ষ্টেশন নির্মানের কাজ চলছে । রাউজানের পুর্ব রাউজান এলাকায় বিসিক শিল্প নগরী নির্মানের কাজ চলছে । রাউজানের দক্ষিন রাউজানে দক্ষিন রাউজান থানা, আরো একটি ফায়ার ষ্টেশন, চুয়েটের পার্শ্বে আইটি ভিলেজ নির্মান কাজ চলছে । বর্তমান সরকারের শাসন আমলে রাউজানে ১৩টি নতুন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মান কাজ করা হয়েছে । বীর প্রসবিনি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার ব্যাপক উন্নয়ন কাজ প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি নিউজ চিটাগাং টুয়েন্টি ফোর ডটকমকে বলেন, আমি ১৮ বৎসর পুর্বে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে রাউজানে এসে এলাকার লোকজনের কাছে ওয়াদা করেছিলাম রাউজানকে সন্ত্রাসমুক্ত করবো । রাউজানে উন্নয়ন কাজ করে রাউজানকে একটি মডেল উপজেলা হিসাবে গড়ে তোলবো । আমাকে রাউজানের জনগন ভোট দিয়ে পর পর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন । আমি আমার দেওয়া ওয়াদা পালন করেছি রাউজানকে সন্ত্রাস. মাদকমুক্ত করেছি । রাউজানে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছি । আমি চিরদিন থাকবোনা আমি মারা গেলে রাউজান বাসী একদিন আমার এই কর্মকান্ড স্মরন করবে ।
রাউজান পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জমির উদ্দিন পারভেজ নিউজ চিটাগাং টুয়েন্টি ফোর ডটকমকে বলেন, রাউজানের একসময়ে জঙ্গল হিসাবে খ্যাত রাউজান পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডে রেলপথ মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি এম ফজলে করিম চৌধুরীর প্রচেষ্টায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করার মাধ্যমে এলাকা শহরে পরিনত হয়েছে রাউজান পৌরসভার ৯ নং ওয়াডের প্রতিটি সড়কের মধ্যে রাতে সড়ক বাতি জলচ্ছে ।রাউজান উপজেলার জঙ্গল রাউজান মৌজার আইলী খীল, ওয়াহেদের খীল, পশ্চিম রাউজান মৌজার ফকির তকিয়া,পুর্ব রাউজান মৌজার ঢালার মুখ, রহমত পাড়া, কাজী পাড়া, রাউজান রাবার বাগান এলাকা একসময়ে ৭ নং রাউজান ইউনিয়নের অংশ ছিল । গত ১৯৯৮ সালে রাউজান পৌরসভা গঠনের পর রাউজান উপজেলার জঙ্গল রাউজান মৌজার আইলী খীল, ওয়াহেদের খীল, পশ্চিম রাউজান মৌজার ফকির তকিয়া,পুর্ব রাউজান মৌজার ঢালার মুখ, রহমত পাড়া, কাজী পাড়া, রাউজান রাবার বাগান এলাকা একসময়ে ৭ নং রাউজান ইউনিয়নের অংশ রাউজান পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের অংশ হিসাবে পরিনত হয় । রাউজান উপজেলার জঙ্গল রাউজান মৌজার আইলী খীল, ওয়াহেদের খীল, পশ্চিম রাউজান মৌজার ফকির তকিয়া,পুর্ব রাউজান মৌজার ঢালার মুখ, রহমত পাড়া, কাজী পাড়া, রাউজান রাবার বাগান এলাকা সমুহ পাহাড় টিলায় বেষ্টিত ছিল । রাউজান পৌর সভার ৯নং ওয়ার্ডে একসময়ে সন্ত্রাসের জনপদ হিসাবে খ্যাত ছিল । বর্তমাম সরকার ক্ষমতায় আসার পর রেলপথ মন্ত্রনালয় সর্ম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির একান্ত প্রচেষ্টায় রাউজান পৌর সভার ৯ নং ওয়ার্ডের ফকির তকিয়া এলাকায় গৃহায়ন ও গনপুর্ত মন্ত্রনালয়ের আওতায় পিংত সিটি প্রকল্প গড়ে উঠে । রাউজান পৌরসভার পশ্চিম রাউজান চারাবটতল এলাকায় রাউজান মহিলা মার্দ্রসাকে এমপি ও ভুক্ত করা হয় । রাউজান জঙ্গল রাউজান সরকরী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অষ্টম শ্রেনীতে উন্নত করে জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্টা করেন । রাউজান পৌর সভার ৯ নং ওয়ার্ডের ঢালার মুখ এলাকায় মাষ্টার দা সুর্য সেন সরকারী প্রাথমিক ্িবদ্যালয়, রাউজান রাবার বাগান এলাকায় এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাউজান পৌর সভার ৯নং ওয়ার্ডের আইলী খীল দাওয়াত খোলায় নুরুল হক দাখিল মার্দ্রসা প্রতিষ্টা করা হয় । রাউজানের পুর্ব রাউজান এলাকায় শিল্প নগরী গড়ে তোলার কাজ চলছে । রাউজানের সময়ের জঙ্গলা হিসাবে খ্যাত রাউজান পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড এখন একটি শহরে পরিনত হয়েছে । রাউজান পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের আইলী খীল ওয়াহেদের খীল সড়ক, চান্দ মিয়া চৌধুরী সড়ক, তালুকদার বাড়ী সড়ক রাউজান ফরেষ্ট অফিস সড়কের উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে । রাউজান ঢালার মুখ চৌধুরী ঘাট, আইলী খীল, পশ্চিম রাউজান চারাবটতল এলাকায় একসময়ে সন্ত্রাসীদের ভয়ে মানুষ চলাফেরা করতে ভয় পেতো এসব এলাকায় বাজারে প্রতিদিন সকাল থেকে গভির রাত পর্যন্ত সময়ে এলাকার মানুষ নির্ভয়ে হাট বাজারে কেনা কাটা করছে ।