‘উনি কি ধরনের গন্ধ পাচ্ছেন আমাদের জানা নেই’

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই , ২০১৩ সময় ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়ের ‘গন্ধ’ পাচ্ছি- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এমন বক্তব্যের mirja fakhrul000_13883সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি জয়ের মতো তথ্য থাকার কথা বলেননি, বলেছেন বিজয়ের গন্ধ পাচ্ছেন। উনি কি ধরনের গন্ধ পাচ্ছেন- আমাদের জানা নেই।

জয়ের গন্ধ পাবেন এই জন্যেই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর লেডিস ক্লাবে ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) আয়োজিত দোয়া-ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

নির্বাচন কমিশনার অযোগ্য ও অপদার্থ এমন ইঙ্গিত দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের দুঃশাসন ও দুর্নীতি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য প্রয়োজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান। কিন্তু সরকার আগামী নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। এমন কিছু অপদার্থ ও অযোগ্য ব্যক্তি দিয়ে নির্বাচন কমিশন তৈরি করা হয়েছে যারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষমতা ক্ষর্ব করছে।

সৈয়দ আশরাফকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ আপনাকে স্বজ্জন হিসেবেই জানতো। কিন্তু দুঃখের বিষয় আপনি জনগণের মনের ও মুখের ভাষা বুঝতে পারেন নি বলেই এমন কথা বলেছেন।

দলের এই মুখপাত্র বলেন, অনৈক্য নয়, কে নমিনেশন পেল কি পেল না সেটা বড় কথা নয়। গণতন্ত্র বিপন্ন হয়ে পড়েছে। নির্বাচন হবে কি হবে না সেটাই বড় কথা।

মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা বলেছি, আওয়ামী লীগ এবার ভিন্ন লেবাসে এক দলীয় শাসন কায়েম করতে চায়। সাড়ে চার বছরের লুণ্ঠন দুর্নীতি প্রতিহিংসা প্রতিশোধ অসহিসনুতা ছাড়া কিছুই দিতে পারে নি। গণতন্ত্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ফেলা হয়েছে। যাতে গণতান্ত্রীক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ দাঁড়াতে না পারে। অর্থনীতি রসাতলে গেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই, তাই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে সরকারকে তা দিতে বাধ্য করতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।

মাহমুদুর রহমানের মুক্তির জন্য দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সত্য কথা, দুর্নীতি ও বিচারের নামে প্রহসনের কথা লেখার জন্য মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাহমুদুর রহমান দীর্ঘদিন কারা নির্যাতন ভোগ করছেন। তার অপরাধ, যখন এক এগারো সরকার গঠন হয় তখন তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি সেই সময়ে কলম ধরেছিলেন তখন কেউই লিখতে সাহস পায়নি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আ ন হ আখতার হোসেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, বিএনপি নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপন, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক চাষী নজরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, শিক্ষ কর্মচারি ঐক্য পরিষদের চেয়াম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদাল আহমেদ প্রমুখ।


আরোও সংবাদ