উদীচীর সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বছরব্যাপী আয়োজনের সূচনা

প্রকাশ:| রবিবার, ২৯ অক্টোবর , ২০১৭ সময় ০৯:৫৮ অপরাহ্ণ

সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বছরব্যাপী আয়োজনের সূচনা করেছে উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদ। রোববার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর চেরাগি মোড়ে গণসঙ্গীত, আবৃত্তি, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এই যাত্রা।

৫০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শহীদ জায়া বেগম মুশতারি শফি বলেন, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে উদীচী গণমানুষের কথা বলে আসছে। উদীচী সবসময় শোষিত মানুষের কথা বলে আসছে। প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছরে উদীচী কখনোই তার লক্ষ্য ও আদর্শ থেকে একচুলও সরেনি। এখনও দেশের মানুষকে ঘোর আঁধারে পথ দেখায় উদীচী। ভবিষ্যতেও দেখাবে।

উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সভাপতি শহীদ জায়া মুশতারি শফির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা শীলা দাশগুপ্তার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি ডা.চন্দন দাশ, চিত্রশিল্পী সৌমেন দাশ, চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সহ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান, সঙ্গীতশিল্পী মানস পাল ও শিক্ষক নেতা অঞ্চল চৌধুরী।

উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি ডা.চন্দন দাশ বলেন, পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠার পর সেই অগ্নিগর্ভ সময় শিশু অবস্থায়ই উদীচী তার দায়িত্ব এবং পথ ঠিক করে নেয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় উদীচীর শিল্পীসংগ্রামীরা ভূমিকা রেখেছেন। স্বাধীন দেশে যখনই মানুষের বিরুদ্ধে শোষকের হাত উদ্ধত হয়ে উঠেছে তখনই গর্জে উঠেছে উদীচী।

উদীচী চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সহ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনের পর যে কোন গণআন্দোলনে উদীচী তার ভূমিকা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। দেশের যে কোন সংকটময় মুহুর্তে উদীচী তার করণীয় ঠিক করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি। উদীচীকে লড়াই করতে হয়েছে সামরিক ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে। আজও লড়ে যাচ্ছে শোষণ ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমাজ গঠনের জন্য।

চিত্রশিল্পী সৌমেন দাশ বলেন, উদীচীর দীর্ঘ পথচলায় আছে আনন্দ, আছে বেদনা, প্রাাপ্তি ও হারানোর সাতকাহন। চলার পথে উদীচী যেমন পেয়েছ অনেক সহযাত্রী তেমনি হারিয়েছে বহু স্বজন। পেয়েছে অগণিত সাধারণ মানুষের সাহায্য, সহমর্মিতা, তেমনি পেরিয়েছে পাহাড় প্রমাণ বাধাও। এরপরও উদীচী স্বাধীনতা, সাম্য, মানবতার বাণী ধারণ করে সচেতন করে তুলেছে গণমানুষকে।

গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান বলেন, বাংলাদেশের যে কোন গণআন্দোলনে, হোক সেটা জাহানারা ইমামের
ঘাতক-দালাল বিরোধী আন্দোলন কিংবা সামরিক স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন, সবক্ষেত্রেই সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে উদীচী অগ্রভাগে ছিল। এমনকি নিকটতম সময়ে দেশে গণজাগরণ মঞ্চের যে আন্দোলন, সেটার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা ছিল উদীচীর। উদীচীর গণসঙ্গীত মানুষকে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
‘ঘোর আঁধারে পথ দেখাবে আগুনের নিশান’ স্লোগানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উদীচীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য তপন শীলকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। কবিতা আবৃত্তি করেন রাশেদ হাসান ও অঞ্চল চৌধুরী। এছাড়া উদীচীর শিল্পীরা গণসঙ্গীত পরিবেশন করবেন।