উচ্ছ্বাসে পালিত হচ্ছে ঢাবি দিবস

প্রকাশ:| সোমবার, ১ জুলাই , ২০১৩ সময় ০৪:৩৪ অপরাহ্ণ

সবার পরনে বর্ণিল টি-শার্ট। হাতে বেলুন DU-bg20130701020740আর বাঁশি। বাঁশির ফুৎকার আর সীমাহীন উল্লাস নিয়ে তারা মিছিল সহকারে এগিয়ে চললেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাশাসনিক ভবন সংলগ্ন মল চত্ত্বরের দিকে।

কেবল এই ছাত্রী হলই নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল থেকে এভাবেই মিছিল নিয়ে মল চত্ত্বর অভিমুখে আসেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সবার কণ্ঠে স্লোগান, চোখে মুখে আনন্দের আভা।

তাদের এ আনন্দই বলে দিচ্ছে, সোমবারের দিনটি বিশেষ দিন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৩তম জন্মদিন বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস।

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত এ বিশ্ববিদ্যালয়টির ৯২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় মল চত্ত্বরে। সকাল সাড়ে ৯টায় শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ সময় জাতীয় সংগীতের তালে তালে শিক্ষামন্ত্রী উত্তোলন করেন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক  উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা। এরপর কাটা হয় কেক। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধন শেষে শিক্ষামন্ত্রী অংশ নেন বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে।

বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। এ সময় বাদ্যের তালে তালে নেচে গেয়ে পুরো ক্যাম্পাসকে মাতিয়ে তোলেন ছাত্র-ছাত্রীরা। তাদের সীমাহীন আনন্দ-উল্লাস মুখরিত করে তোলে চারদিক। র‌্যালিটি টিএসসিতে গিয়ে শেষ হয়।

এরপর টিএসসি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভার। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এবারের প্রতিপাদ্য ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’।

বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ
মল চত্ত্বরে অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন শেষে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের প্রতিটি অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও স্বাধীনতা যুদ্ধে এ বিশ্বদ্যালয় সবার সামনের কাতারে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দেয়।

তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি নিজেকে গর্ববোধ করি। বঙ্গবন্ধুও এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের স্বাধীনতার জন্য সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন। তাই বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় সত্যেন বোস, মুনীর চৌধুরী, ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, জিসি দেব, ল্যাংলীর বিশ্ববিদ্যালয়। পৃথিবীর আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় একটি দেশের জন্য এতো অবদান রাখে নাই, বাংলাদেশে নামক ভূখণ্ডের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় যতো অবদান রেখেছে।

নানা কর্মসূচি
সকালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটিকে পালন করা হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। দুপুরে টিএসসিতে রয়েছে স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠান। বিভিন্ন হলে প্রীতি বিতর্কসহ রয়েছে নানা কর্মসূচি। রয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিকেলে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে রয়েছে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ।

এছাড়া, বিকেলে সংগীত বিভাগের আয়োজনে থাকছে গানের অনুষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও আয়োজন করেছে নানা অনুষ্ঠানের।

এক নজরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে দিনটিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাকালীন তিনটি অনুষদ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা করলেও এখন এসে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে। ১২টি বিভাগ থেকে এখন ৭২টি বিভাগ চালু রয়েছে। এছাড়া রয়েছে, ১১টি ইনস্টিটিউট, ৪৪টি গবেষণা ব্যুরো ও কেন্দ্র। সূচনাকালে আবাসিক হল তিনটি থাকলেও এখন এর সংখ্যা ১৯টি। নির্মাণাধীন হল ১টি ও হোস্টেল ৩টি।

প্রতিষ্ঠাকালে শিক্ষক ছিলেন মাত্র ৬০ জন। এখন শিক্ষক সংখ্যা ১৮০৯ জন। ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যে বিশ্ববিদ্যালয়টি যাত্রা করেছিল আজ তার শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৭৮২৭ জন। এছাড়া সান্ধ্যকালীন বিভিন্ন কোর্সে শিক্ষার্থী রয়েছেন ৫৩০৮ জন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা রয়েছেন ৮৬৬ জন, ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী ১০৯৮ জন ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ২০৬৮ জন।

প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ পর্যন্ত ঢাবি থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারীর সংখ্যা ১০৯৯ জন আর এমফিল ডিগ্রিধারীর সংখ্যা ১১৫২ জন।

১৯২১ সালে ৬০০ একর জমি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করলেও এখন কমতে কমতে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৬০ একরে।


আরোও সংবাদ