উচ্চ আয়ের দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছি তা অধরা রয়ে যাবে

প্রকাশ:| রবিবার, ১০ ডিসেম্বর , ২০১৭ সময় ০৮:৫০ অপরাহ্ণ

‘নূতন প্রজন্ম নিয়ে আগাম চিন্তা’- শীর্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ স্মারক বক্তৃতায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেছেন, বাংলাদেশের বিশাল তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃত অর্থে জনসম্পদে রূপান্তর করতে না পারলে আমরা ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের অথবা ২০৪১ সালে উচ্চ আয়ের দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছি তা অধরা রয়ে যাবে। আর তরুণদের মনে রাখতে হবে আজকের শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ কাল কোনো কাজে নাও আসতে পারে। এজন্যে শিক্ষা আর প্রশিক্ষণকে নিয়মিত শাণিত করতে হবে। গত চার দশকে এই দেশের মানুষ অনেক অসাধ্যকে সাধন করেছে। একটি খাদ্য ঘাটতির দেশকে খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত করেছে। বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়ন এখন বিশ্বে রোল মডেল। লক্ষ্য স্থির আর তা অর্জনে অবিচল থাকলে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন নয়।
গতকাল রোববার বিকালে ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ারের সভাপতিত্বে এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ।
ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হতে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করাই মূখ্য নয়, কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষা অর্জন করতে হবে সর্বাগ্রে। এদেশের তরুণ ও অভিভাবকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় হতে একটি সনদের কদর অনেক বেশি। সরকারের বিভিন্ন নীতি গ্রহণের ফলে যেখানে ১০ বছর আগে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করাদের মাঝ থেকে মাত্র এক শতাংশ কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করতো, সেখানে বর্তমানে তা চৌদ্দ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় চোখ ধাঁধানো পরিবর্তন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে ৩৭ তম অর্থনীতির দেশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের মতে, ২০৩০ সাল নাগাদ এর অবস্থান ৩০ তম এবং ২০৪১ এ ২৩ তম স্থানে পৌঁছাবে। তখন অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ড্স প্রভৃতি দেশের অবস্থান হবে বাংলাদেশের নীচে। খাদ্যশস্য উৎপালনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ এখন চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
স্মারক বক্তব্যে প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন,‘‘স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর বাংলাদেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক চিত্র পাল্টে গেছে ব্যাপকভাবে। একই সাথে অন্যান্য দেশের মতো দেশ প্রবেশ করেছে বিশ্বায়নের যুগে। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ এখন বিশ্ব নাগরিক। বিশ্বের অন্য প্রান্তে যা ঘটে তার রেশ বাংলাদেশেও লাগতে বেশি সময় লাগে না। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সময় বিশ্বের অনেক প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশের জন্য এক অন্ধকার ভবিষ্যৎ দেখতে পেয়েছিলেন। গত চার দশকে বাংলাদেশে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তবে একই সাথে বদলে গেছে বিশ্ব। বিশ্ব এখন বিম্বায়নের যুগে প্রবেশ করেছে। সমালোচকরা বিশ্বায়নের যতই সমালোচনা করুক কারো পক্ষে এটির বিপক্ষে শক্তিশালী অবস্থান নেওয়া বা আটকে রাখা তেমন একটা সম্ভব নয়।’’
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সিকান্দর খান, চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহফুজুল হক চৌধুরী, দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের বড় ছেলে মোহাম্মদ জহির। স্মারক বক্তা প্রফেসর আবদুল মান্নানের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন ক্রীড়া সম্পাদক নজরুল ইসলাম।
প্রফেসর আবদুল মান্নান তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্বসভ্যতায় বিশ্বায়ন ও শিল্প বিপ্লব ঘটেছে পরস্পরের হাত ধরে। বিশ্বায়ন ঘটেছে তিন ধাপে আর শিল্প বিপ্লব বর্তমানে চতুর্থ ধাপ পার করছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব জ্ঞাননির্ভর বিশ্ব গড়ার বাস্তবতাকে অনিবার্য করে তুলেছে যার প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে মেধা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা আর দূরদর্শিতা। এই বিষয়গুলোকে ধারণ করতে হলে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এই তিনটি নিয়ামককেই প্রতিনিয়ত সংমিশ্রণ করে শাণিত করতে হবে। মেনে নিতে হবে আজকের মেধা বা জ্ঞান কালকে অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে। আগামী কুড়ি বছরে আমাদের অনেক কর্মকৌশল কোনো কাজে লাগবে না। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, একটি উদ্ভাবন অন্য আর একটির মৃত্যুর কারণ হচ্ছে। আবির্ভাব হচ্ছে কৃত্রিম মেধার।
অনুষ্ঠানে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সিকান্দর খান বলেন, প্রফেসর খালেদ জীবদ্দশায় সমাজকে আলোকিত করেছেন। আজকের এই দিনে তাঁর মতো আলোকিত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, সততা ও সবদিক দিয়ে প্রফেসর খালেদ শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তাঁর মতো গুণী ব্যক্তিকে নিয়ে স্মারক বক্তব্য আয়োজন নিসন্দেহে মহৎ উদ্যোগ।
দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক বলেন, একজন গুণী, সৎ, নির্লোভ সাংবাদিক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের জীবন থেকে আমরা অনেক শিখেছি। তাঁর থেকে পাওয়া শিক্ষা পরবর্তীতে আমাদেরকে পথ দেখিয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার বলেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের মতো গুণী ব্যক্তিত্ব নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের সৎ, নির্লোভ ও সাহসী সাংবাদিকতায় উৎসাহিত করবে।
এ সময় প্রেস ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি মনজুর কাদের মনজু, অর্থ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক রোকসারুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যকরী সদস্য আসিফ সিরাজ, রাউজান সুলতানপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আকবর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।