উখিয়ায় ৭৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট , ২০১৭ সময় ০৯:৫৪ অপরাহ্ণ

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি তারিখ: ১৫/০৮/২০১৭ইং
উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহর বিরুদ্ধে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত কক্সবাজারে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করেন মকতুল হোসেন নামে ব্যক্তি। তিনি হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের উত্তর বড়বিল এলাকার মৃত হারুন মিয়া মেম্বারের ছেলে। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। রবিবার মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। যার নং-২২/২০১৭ইং। উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করে কক্সবাজারস্থ দুদকের পিপি মামলার বাদির পক্ষের সিরাজ উল্লাহ জানান, মামলাটি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত আগামি ১৬ আগস্ট শুনানীর দিন ধার্য্য করেছে। মামলার এজাহার সূত্রে এ আইনজীবি জানান, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদের সড়ক অবকাঠানোর উন্নয়নের জন্য ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১৬০ মেট্টিক টন গম বরাদ্দ পান। সাতটি প্রকল্পের অধিনে বরাদ্দকৃত গমের মূল্যে প্রায় ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ১৭১ টাকা ২০ পয়সা। ত্রাণ কর্মসূচী-২ শাখার অধিনে গত ১৬ মে গ্রামীন অবকাঠানো উন্নয়নে এসব বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া একই ত্রাণ সূচীর আওতাধীন হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৩৪টি প্রতিষ্ঠানে গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষনের জন্য ১০২ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতি প্রতিষ্ঠানের জন্য তিন টন করে বরাদ্দের এসব বাজার মূল্যে ধরা হয়েছে প্রায় ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭১ টাকা ৬৪ পয়সা। এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, হলদিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ যোগসাজসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব প্রকল্পের টাকা আত্মসাত করেন। দুজনে মিলেমিশে ভুয়া প্রকল্প সৃজন করে প্রতারণা ও দুর্নীতির মাধ্যম ২৬২ মেট্টিক টন গমের বিপরীতে প্রায় ৭৫ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮২ টাকা ৮৪ পয়সা লুটপাট ও আত্মসাত করেন। মামলার বাদী মকতুল হোসেন বলেন, হলদিয়াপালং ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠানো উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। কোথাও কোনো উন্নয়ন করা হয়নি। সরকারের বরাদ্দকৃত সব টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। এসব বিষয়ে ঢাকা দুদকের প্রধান কার্যালয় মামলা করতে গিয়েছিলাম। দুদক কর্তৃপক্ষের পরামর্শে এ বিষয়ে রবিবার কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করি। প্রসঙ্গতঃ হলদিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম মন্ত্রী পরিষদ সচিব শফিউল আলমের ছোট ভাই। এব্যাপারে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে যে সব প্রকল্পের কথা উল্লেখ্য করে আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে তা সত্য নয়। টিআর ও কাবিখা দুইটি প্রকল্পের এসব টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। এর মধ্যে টিআর প্রকল্পের কিছু কাজ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে চেকের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। অপর কিছু কাজ তিনি নিজেই করেছেন। কাবিখা প্রকল্পের অধিনে যে সব কাজ তা এখনো শেষ হয়নি। মুলত বন্যার কারণে এসব কাজ শেষ করতে বিলম্ব হওয়ায় নিদিষ্ট কার্যাদেশ সময়ে সম্পন্ন করার নিয়ম থাকার কারণে টাকা সমুহ উত্তোলন করে চেক সমুহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে জমা রাখা হয়েছে।