উখিয়ায় বালি বানিজ্য ও লুটপাট চলছে

প্রকাশ:| সোমবার, ১৮ জুলাই , ২০১৬ সময় ১০:২০ অপরাহ্ণ

লন্ডভন্ড
কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী খালে ইজারা সীমানা অতিক্রম করে অবৈধ ভাবে বালি লুটপাট চলছে। নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত তেলখোলা , বটতলী বাজার, থেকে থাইংখালী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার খালের প্রায় ১৬ টি পয়েন্টে ডিজেল চালিত মেশিনের সাহায্যে নির্বিচারে অবৈধ ভাবে বালি উত্তলনের ফলে খাল সংলগ্ন প্রায় ২ শতাধিক একরের মতো ফসলী জমি চাষাবাদের জমি হুমকির মূখে পড়েছে। আর এই অবৈধ বালি বানিজ্যের ফলে যানবাহন চলাচলের সড়ক থেকে শুরু করে সাধারন পথ চারীদের চলাচলের রাস্তা ভেঙ্গে লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার কারনে তেলখোলা, মোছারখোলা, সহ ৯ গ্রামের প্রায় ১৭ হাজার মানুষ সহ স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসাগামী ছাত্র Ñ ছাত্রীদের শিক্ষা প্রতিষ্টানে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন অবৈধ বালি বানিজ্যের দৃশ্যপট ঘুরে এসে দেখা যায় ও এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় তাজনিমারখোলা নামক এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী, অবৈধ বালি লুটপাট কারীদের অন্যতম হোতা ও প্রশাসন ম্যানেজ কারী নামে খ্যাত এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী জয়নাল মেম্বার, মাইক গফুরের ছেলে আব্দুর রশিদ প্রকাশ বালি রশিদ, মৃত তুরালীর পুত্র এজাহার মিয়া, সিকান্দর , শফিকুর রহমানের ছেলে মনিয়া, জাফর আলম জুনু , বালুখালী এলাকার বালু ভুট্রো ও আওয়ামীলীগ নেতা নামধারী সোনালী ও পালংখালী ফারিরবিল গ্রামের মৃত সিকান্দরের পুত্র মোঃ মিজান প্রকাশ বালি মিজান, একই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল হুদা মেম্বারের পুত্র মোঃ রায়হান সহ ১৫ জনের একটি বালিকেখোরা বৃহত্তর সিন্ডিকেট তৈরি করে ডিজেল চালিত মেশিনের সাহায্যে এ অবৈধ বালু উত্তোলন করে থাকে বলে জানা যায়। উক্ত বালি সিন্ডিকেটের অন্যতম গডফাদাররা উপজেলা ভুমি অফিসের দূর্ণীতিবাজ নাজের নেপাল কান্তি দাসকে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে এ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে আর বলেন, থাইংখালী খাল থেকে তেলখোলা বটতলী পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার খালের ১৬ টি পয়েন্টে দৈনিক দেড়হাজারেরও অধিক পরিমান ডাম্পার ভর্তি বালি উত্তোলন করে গাড়ী প্রতি ১৮ শত টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সরকারী ইজারা ডাকের সীমানা অতিক্রম করে অবৈধ বালি বিক্রির টাকার একটি অংশ স্থানীয় বন বিট কর্মকর্তা উখিয়ার ঘাট বিট কর্মকর্তা মোবারক আলী, বালুখালী হাইওয়ে পুলিশের ক্যাশিয়ার খলিল ও স্থানীয় কথিত এক জনপ্রতিনিধিরা ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়ার কারনে এলাকার কোন ব্যাক্তি তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলতে সাহস পাচ্ছেনা। আর সরকার এ অবৈধ বালি উত্তোল ও বালি বানিজ্যের খাত থেকে প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য তোফাইল আহম্মদ বলেন, এলাকার অবৈধ বালি ব্যবসায়ীদের অবাদে বালি উত্তোলনের ফলে দীর্ঘ ২০ দিন ধরে উক্ত সড়ক দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে উক্ত অবৈধ বালি কেখোদের তান্ডবের কারনে এলাকার প্রায় ৮ শতাধিক পরিবারের বসত ভিটা হারানোর উপক্রম দেখা দেওয়ার পাশপাশি শত শতএকর ফসলী জমি বিলীন হয়ে এলাকার সাধারন মানুষ ভুমিহীন হয়ে পড়ছে বলে জানান ইউপি সদস্য তোফাইল আহম্মদ। আর এতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন প্রকার নজরধারী নেই বলে জানান এলাকাবাসীরা। এ ব্যাপারে, সহকারী কমিশনার (ভুমি) নুর উদ্দিন মোঃ শিবলী নোমান নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবৈধ বালি উত্তোলনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে, কতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।


আরোও সংবাদ