উখিয়ায় পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে পানির দরে

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:১৮ অপরাহ্ণ

ফাইল ফোট

ফাইল ফোট

উখিয়ায় এবার কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে প্রতি পিস আড়াইশ/তিনশ টাকা দরে। চামড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের অভিনব কৌশল বুঝে উঠতে না পারায় প্রতিটি মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হাতে ধরা খেয়ে লোকসান গুনতে হয়েছে। ফলে এবার ছিন্নমূল ফকির, মিসকিন ও হতদরিদ্র পরিবারগুলো চামড়া বিক্রির সেই কাঙ্খিত খয়রাতির পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
প্রতি ঈদুল ফিতরে ফিত্রার টাকা ও ঈদুল আযহার সময় চামড়া বিক্রির দান খয়রাতির টাকা নেওয়ার জন্য উখিয়ার হতদরিদ্র ফকির, মিসকিন ও ছিন্নমূল পরিবারগুলো আশান্বিত হয়ে তারা বাড়ী বাড়ী গিয়ে আগাম চামড়া টাকা পাওয়ার বায়না ধরে থাকে। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্নরূপ। এবার কোরবানির পশুর চামড়া পানির দরে বিক্রি হওয়ার কারণে হতদরিদ্র পরিবারগুলো দান খয়রাতির পাওনা টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উখিয়ার পাড়া মহল্লায় যে সব মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী রয়েছে তারা বলছে আড়াইশ/তিনশ টাকা দরে চামড়া কিনে সে চামড়া পাইকারী ব্যবসায়ীদের ১৫০/২শ’ টাকা ধরে বিক্রি করতে হয়েছে। হাজী পাড়া গ্রামের মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী আনার আলী, নুরুল ইসলাম, শামশুল আলমসহ একাধিক লোকজন জানান, তারা ১০/১২টি করে চামড়া ক্রয় করেছিলেন ২৫০/৩শ’ টাকা দরে। সেই চামড়া মরিচ্যা বাজারস্থ পাইকারী চামড়া ব্যবসায়ীদের ১৫০/২শ’ টাকা দরে বিক্রি করতে হয়েছে। একাধিক মৌসুমী ব্যবসায়ী জানায়, পাইকারী ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গঠন করে লবণের বৃদ্ধির অজুহাত ধরে চামড়া ক্রয় করতে কোন আগ্রহ প্রকাশ করছেনা বিধায় লোকসান দিয়ে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে।
এখানে যেসব পরিবার গুলো বছর বছর পশু কোরবানিতে অব্যস্ত এমন পরিবারের একজন মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানান, গত কোরবানির মৌসুমে যে চামড়া হাজার বারশ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, একই সাইজের চামড়া চলতি মৌসুমে বিক্রি করতে হয়েছে ২৫০/৩শ’ টাকা দরে। চামড়া ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন জানান, টেনারী মালিক সমিতি প্রতিবর্গফুট ৪০ টাকা দরে চামড়া ক্রয়ের যে মূল্য নির্ধারণ করে ছিল তা এখানে বাস্তবায়িত হয়নি। পানির দরে চামড়া বিক্রি হওয়ার কারণে ফকির, মিসকিনেরাও চাহিদামত খয়রাতির টাকা পাইনি। তবে পাইকারী ব্যবসায়ী মতামত ব্যক্ত করে বলেন, লবণের দাম বৃদ্ধিসহ পশু জবাইয়ের সময়ে বৃষ্টির কারণে আড়তদার ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত মূল্যে চামড়া ক্রয় করেনি। যে কারণে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হয়েছে।


আরোও সংবাদ