উখিয়ায় পলিথিনের সয়লাব: প্রশাসন নিরব

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৭ জুন , ২০১৬ সময় ১০:৩৯ অপরাহ্ণ

মিয়ানমারের পলিথিন
কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া প্রতিনিধি:
মিয়ানমারের সীমান্তের বিভিন্ন চোরাই পথে দালালদের মাধমে আসা নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব হয়ে পড়েছে উখিয়ার হাট-বাজার। আইন থাকলেও কার্যকর না থাকায় পলিথিন শপিং ব্যাগ ক্রয়-বিক্রয়, বিতরণ, ব্যবহার এমনকি মজুদ করা আইনগত বিধি নিষেধ থাকলেও বাজারে এর প্রকাশ্য ব্যবহার আগের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদী সচেতন মহল।
পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, পলিথিন তৈরিতে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয় অতি সুক্ষ্ম ইথিনিল পলিমার, যা একেবারে অপঁচনীল। মিনটেনিক্স ম্যাটেরিয়ালস্ দ্বারা তৈরি করা পলিথিন ব্যাগ সহজে পঁচে না বিধায় অধিকন্তু পানিরোধক বলে এটা জমিতে পড়লে ব্যাকটেরিয়া তৈরিতে বাঁধা সৃষ্টি করে, যে কারণে দিন দিন জমির উর্বর শক্তি নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া পলিথিন ব্যাগে বহন করা যে কোন ধরনের খাবার বেশিক্ষণ রাখলে, বিষক্রিয়ায় নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তারা মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ও মাদকের পাশাপাশি পলিথিন ব্যাগ পাচার প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বিজিবি সদস্যদের আরো আন্তরিকতার সহিত দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানানো হয়। নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার ও বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে সক্রিয় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন কোটবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবাধ পলিথিন বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করলেও ধারাবাহিকতা না থাকার কারণে পলিথিন ব্যবহার ও বিক্রি কমছে না বলে অভিজ্ঞমহলের ধারণা।
সরেজমিন উখিয়া সদর, কোটবাজার, মরিচ্যা, সোনারপাড়া, পালংখালী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শপিং মল থেকে শুরু করে হাট-বাজার, মুদির দোকান, কাঁচা বাজার, মাছ বাজার ও মুড়ির দোকানে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগের ছড়াছড়ি। মাছ ব্যবসায়ী সুবধন বড়–য়া, অমিয় বড়–য়া জানায়, পলিথিন ব্যাগ না দিলে ক্রেতারা মাছ নিতে চায়না বলে বাধ্য হয়ে পরিথিন ব্যাগ ব্যবহার করতে হচ্ছে। একই কথা বললেন সবজি বিক্রেতা শামশুল আলম ও মুড়ি বিক্রেতা আসমত উল¬াহ। তাদের দাবি পলিথিন ব্যাগের বিকল্প সরকার অন্য কিছু চাহিদামতো সরবরাহ করলে তারা পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার বন্ধ করে দিতেন। এ সময় বাজারে আসা বেশ কয়েক জন ক্রেতা সাধারণ জানান, বাজারে পলিথিনের বিকল্প নেটের ব্যাগ এসেছে, যা ব্যবহার অনুপযোগী। যে কারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সূত্রমতে সীমান্তের ডেইলপাড়া, চাকবৈঠা, করইবনিয়া, আমতলী সহ বেশ কয়েকটি চোরাইপথে মিয়ানমারের তৈরি নিষিদ্ধ পলিথিন সহ ইয়াবা, মাদক, এমনকি ডিজেল পর্যন্ত পাচার হয়ে আসছে। এসব পণ্য সামগ্রী বিভিন্ন মাধ্যম হয়ে উখিয়া সদরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মওজুদ, পরে খুচরা বিক্রি হচ্ছে।
ঘুমধুম বিজিবির সুবেদার মোঃ মুসা জানান, বিজিবির চাইতে পাচারকারীরা অনেক দ্রুত। এরা বিজিবির টহল পার্টির গতিবিধি লক্ষ্য করে সুযোগ বুঝে মালামাল পাচার করে থাকে। তিনি বলেন, সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসা ৬৬০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। হাট-বাজারে অবাধ পলিথিন বিক্রি ও ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মওজুদের তথ্য পাওয়া গেলে সহজে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তিনি বলেন, পলিথিন ব্যবহার প্রতিরোধে স্থানীয় জনসাধারণ আন্তরিক না হলে তা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।