উখিয়ায় নৌকা-ধানের শীষ প্রার্থীরা টেনসনে

প্রকাশ:| বুধবার, ২৫ মে , ২০১৬ সময় ০৭:২২ অপরাহ্ণ

হেভিওয়েট প্রার্থী
কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া প্রতিনিধি:
উখিয়া উপজেলার ৫ ইউনিয়নের আগামী ৪টা জুনের নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনী মাঠ সরগরম। আওয়ামীলীগ-বিএনপি দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা টেনসনে। কারণ নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ৩ হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী। সবার মুখে একি কথা, এবার বাজিমাত করবে ৩ স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোটারদের মতেও, যদি সুষ্টু ভোট হয়, তবে উপজেলার ৫ ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাজিমাত করতে পারেন। সে আলামতই দেখা যাচ্ছে এখন পর্যন্ত।
সুত্র মতে, উখিয়া উপজেলার ৫ ইউনিয়নের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাজাপালং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী ও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি শাহাজাহান চৌধুরীর পুত্র তারেক মাহমুদ রাজিব চৌধুরী। রতœাপালং ইউনিয়নে নৌকা পেয়েছেন নুরুল হুদা, ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন নুরুল কবির চৌধুরী। পালংখালী ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হয়েছেন শাহাদাৎ হোসেন জুয়েল, ধানের শীষ পেয়েছেন হেলাল উদ্দিন। হলদিয়া পালং ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান মন্ত্রী পরিষদ সচিব শফিউল আলমের ছোটভাই অধ্যক্ষ শাহ আলম,বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে এসেছেন শামশুল আলম বাবুল। জালিয়া পালং ইউনিয়নে নৌকা নিয়ে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী হয়েছেন এস,এম ছৈয়দ আলম,ধানের শীষ নিয়ে বিএনপিদলীয় প্রার্থী হয়েছেন নুরুল আমিন চৌধুরী। কিন্তু রাজাপালং ও জালিয়াপালং ইউনিয়ন ছাড়া বাকী ৩ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রচরনায় দলীয় প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে আছেন বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে রতœাপালং ইউনিয়নে খাইরুল আলম চৌধুরীর গনজোয়ার চলছে। সবার মুখে মুখে খাইরুল আলম চৌধুরীর জয়গান। তরুন থেকে বৃদ্ধ সবাই যেন খাইরুল বন্ধনায় মেতে ওঠেছে। বিগত ২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বলতে গেলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আব্বাস উদ্দিন ও নুরুল কবির চৌধুরীর বিজয়ে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। রতœাপালং ইউনিয়নে দানবীর হিসেবে পরিচিত খাইরুল আলম চৌধুরীর আলাদা একটা বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে। যা রতœাপালং ইউনিয়নে আর কোন প্রার্থীর নেই। তাই প্রতিবারই নির্বাচন এলে তার কদর বেড়ে যায় অন্য প্রার্থীর কাছে। এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজেই চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। রতœাপালং ইউনিয়নে খাইরুল আলম চৌধুরী চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় জামায়াত থেকে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া বিএনপি দলীয় প্রার্থী নুরুল কবির চৌধুরী ও আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী নুরুল হুদা অনেকটা বেকায়দায় রয়েছেন। কারন দু,দলের একটি অংশ সরাসরি খাইরুল আলম চৌধুরী পক্ষে প্রকাশ্যে নেমেছেন নির্বাচনী প্রচরনায়। ফলে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন খাইরুল আলম চৌধুরী।
এদিকে পালংখালী ইউনিয়নে বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচিত প্রার্থী গফুর উদ্দিন চৌধুরীকে আটকানো কঠিন হবে বলে সচেতন মহলের অভিমত। কারন বিগত ৫ বছর এলাকার জনগনের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে জনদরদী নেতা হিসেবে পরিচিত পেয়েছেন গফুর উদ্দিন চৌধুরী। তাছাড়া উন্নয়নও করেছেন ছোখে পড়ার মতো। তাই অন্যদের ছেয়ে তিনি এ ইউনিয়নে এগিয়ে রয়েছেন জয়ের ক্ষেত্রে। এ অভিমত স্থানীয়দের। অন্যদিকে হলদিয়া পালং ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতারা দলীয় মনোনয়ন পাননি। হঠাৎ নৌকা প্রতীক নিয়ে আলোচনায় চলে এসেছেন বর্তমান মন্ত্রী পরিষদ সচিব শফিউল আলমের ছোটভাই অধ্যক্ষ শাহআলম। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা আমিনুল হক আমিন। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী ছিলেন। আওয়ামীলীগের পরীক্ষিত নেতা আমিনুল হক আমিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় এ ইউনিয়নের ভোটের হিসেব করতে শুরু করে দিয়েছেন ভোটাররা। সচেতন মহলের মতে, যদি সুষ্টু ভোট হয় এ ইউনিয়নে ভোটের প্রচারনায় এগিয়ে থাকা আমিনুল হক আমিনের সাথে মুল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে বিএনপি দলীয় প্রার্থী শামশুল আলম বাবুলের। অন্য ২ ইউনিয়ন রাজাপালং ও জালিয়াপালং ইউনিয়নে উল্লেখ করার মতো কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকায় দলীয় প্রার্থীরা টেনশনমুক্ত প্রচরনায় ব্যস্ত। আগামী ৪টা জুন উখিয়া উপজেলার ৫ ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্টিত হবে। সেদিনই জানা যাবে কার গলায় উঠে জয়ের মালা। তবে ভোটারগণের দাবী সুষ্ট নির্বাচন হলে ৩ হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ের সম্ভাবনা বেশি। উখিয়া উপজেলায় সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ১৮ হাজার ১৬ জন। তৎমধ্যে রাজাপালং ইউনিয়নে মোট ভোটার ৩৩ হাজার ৬শ ৩৪ জন, রতœাপালং ইউনিয়নে ১৫ হাজার ১শ ২২ জন, জালিয়াপালং ইউনিয়নে ২৫ হাজার ৪শ ২৬ জন, হলদিয়াপালং ইউনিয়নে ২৭ হাজার ৪ শ ১১ জন ও পালংখালী ইউনিয়নে মোট ভোটারের সংখ্যা ১৬ হাজার ৪শ ২৩ জন।