উখিয়ায় ডিগলিয়া খালে রাবার ড্যাম নির্মিত হওয়ায় কৃষকদের মূখে হাসি

প্রকাশ:| রবিবার, ১৫ জানুয়ারি , ২০১৭ সময় ০৭:৪৯ অপরাহ্ণ

কায়সার মানিক, উখিয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের উখিয়ার পশ্চিম ডিগলিয়া খালের উপর নবনির্মিত রাবার ড্যামে ধরে রাখা পানির কারনে কৃষকের মূখে হাসি ফুটেছে। পাশাপাশি উৎসবের আমেজ নিয়ে হতদরিদ্র কৃষকেরা চাষাবাদে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে। শাক-সবজি উন্নয়নে কৃষক/কৃষানীরাও অতি উৎসাহ নিয়ে শ্রম দিচ্ছে। যুগ যুগ ধরে শুষ্ক মৌসুমে অনাবাদি থাকা প্রায় এক হাজার একর জমিতে বোরো চাষাবাদের পাশাপাশি শাক-সবজি উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা দেখে দিয়েছে।
সরেজমিন রাজাপালং ইউনিয়নের অধিকতর জমি বিহীন প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও বর্গাচাষী অধ্যুষিত জনপদ দরগাহবিল, চাকবৈঠা, পূর্ব ডিগলিয়া, পশ্চিম ডিগলিয়া, গয়ালমারা, সিকদার বিল, পশ্চিম ডিগলিয়া, উত্তর পুকুরিয়া ও দক্ষিণ পুকুরিয়া এলাকা ঘুরে স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে একমাত্র সেচের অভাব জনিত কারণে এসব এলাকার হাজারেরও অধিক জমি প্রতি শুষ্ক মৌসুমে অনাবাদি পড়ে থাকত। যে কারণে এখানকার হতদরিদ্র কৃষকদের আর্থিক দৈন্যদশার মধ্য দিয়ে দিনযাপন করত। স্থানীয় কৃষক জাফর আলম, আবদুর রহিম, বাবুল, ইলিয়াছ, ফরিদ, জামাল, আবুল কালাম, শাহ আলম বলেন, পশ্চিম ডিগলিয়া খালের উপর নব-নির্মিত রাবার ড্যাম স্থাপন করায় গরীব কৃষকরা চাষাবাদের মাধ্যমে নিজেদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ সুগম হয়েছে।
স্থানীয় আরেক কৃষক ডাঃ আবদুর রহিম, ইলিয়াছ বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যা বেলায় শত শত নারী, শিশু এ রাবার ড্যাম দেখার জন্য আসছে। পরিত্যক্ত একটি জনপদে উন্নয়ন মূলক একটি প্রকল্প গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর ও উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদিকে সাধুবাদ ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ওখানকার সুবিধাভোগী কৃষকরা।
উখিয়া উপজেলা আওযামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, সরকারের কৃষি উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপের মধ্যে অনন্য দৃষ্টান্ত পশ্চিম ডিগলিয়া খালের উপর একটি রাবার ড্যাম নির্মিত হওয়ায় এলাকার খাদ্য ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল উৎপাদন করে হতদরিদ্র কৃষকেরা স্বাবলম্বী হওয়ার একটি মাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, পূর্ব ডিগলিয়া রাবার ড্যামের পানি সুষ্ঠু বন্টন ও ব্যবহার নিশ্চিত করা হলে হাজার একরেরও অধিক জমিতে বোরো চাষাবাদ হবে। পাশাপাশি তরিতরকারি সহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসল উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। উপজেলা প্রকৌশলী সুমন মাহামুদ বলেন, নবনির্মিত রাবার ড্যামটি সুষ্ঠু ভাবে পরিচালিত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এ রাবার ড্যামের সাহায্যে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন সুফল ভোগ করতে পারবে। তাছাড়া এটি এলাকার জন্য একটি দৃশ্যমান প্রকল্প হিসাবে সাধারণ জনগণ এর সৌন্দর্য্য উপভোগ ও উপকারিতা গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হতে পারবে।