উখিয়ার ফুল ঝাড়ু যাচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে

প্রকাশ:| বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ০৮:৫৩ অপরাহ্ণ

ফুল ঝাড়ু
কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া: কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সীমান্ত পাহাড়ের ফুল ঝাড়– যাচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এই ঝাড়– বিক্রি করে অনেক দরিদ্র ও শ্রমজীবি পরিবার আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। দরিদ্র মানুষের আর্থিক সংকট মোকাবেলায় ফুল ঝাড়– সহায়ক ভূমিকা রাখছে। বহু শ্রমজীবি মানুষের সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থান। এখানকার স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ফুল ঝাড়– কক্সবাজার-চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ দেশের সর্বত্রে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি ঘরে শুভা পায় ফুল ঝাড়–। মাটির ঘর থেকে শুরু করে পাকাঁ ঘরেও ফুল ঝাড়–র বেশ চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন পাকা ভবনে রঙ করানোর কাজেও ফুল ঝাড়–র কদর সবচেয়ে বেশি। গৃহিনীদের জন্য অত্যন্ত প্রিয় সামগ্রী যার নাম চাঁটগাইয়ারা বলে পুরইন। বর্তমানে এই ফুল ঝাড়–র চাহিদা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। রয়েছে গ্রাম বাংলাতে এর প্রচুর চাহিদা।

শুকনো মৌসুমে উখিয়া সীমান্তের বিভিন্ন ঝোঁপ-জঙ্গল থেকে লোকজন সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে আটি বেঁধে ফুল ঝাড়– বিক্রি করে থাকে। ব্যবসায়ীরা অল্প অল্প করে ক্রয় এরপর প্রচুর পরিমাণ মজুদ করে দাম বাড়ার সাথে সাথেই ট্রাক ভর্তি করে রপ্তানি করছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এর পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যেরও রপ্তানি হচ্ছে ফুল ঝাড়– এবং সৌদি আরবের শেখদের নিকট এর প্রচুর চাহিদা নাকি রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, দরিদ্র ও শ্রমজীবি মানুষ ফুল ঝাড়– সংগ্রহে যাচ্ছেন পাহাড়ে ও বন বন-জঙ্গলে। এখন ফুল ঝাড়– সংগ্রহ দরিদ্র মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী ফুল ঝাড়– জন্য অগ্রিম টাকা দেন। বাজারে প্রতি হাজার ফুল ঝাড়–র কঞ্চির মূল্য সাড়ে ৩০০টাকা থেকে ৪০০টাকায় বেচাকেনা হয়। একজন লোক প্রতিদিন ১হাজার থেকে ১২০০টাকা ফুল ঝাড়–র কঞ্চি সংগ্রহ করতে পারে। সেই হিসেবে একজন ব্যক্তির প্রতিদিনের আয় দাড়ায় ৩০০টাকা থেকে ৪০০টাকা। বর্তমানে কমপক্ষে উপজেলার পাঁচ শতাধিক লোক কোনো না কোনো ভাবে এ পেশায় রয়েছেন।

এদিকে গত এক সপ্তাহ যাবৎ উখিয়ার বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা পারমিটের মাধ্যমে বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে রপ্তানি করছে ফুল ঝাড়–। এতে সরকারও প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে। উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সরওয়ার আলম বলেন, উখিয়া সীমাস্তের বিভিন্ন পাহাড় থেকে ফুল ঝাড়– রপ্তানি করে সরকার বিপূল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করছে। ফুল ঝাড়– ব্যবসায়ী ডেইলপাড়া এলাকার শামসুল আলম জানান, এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় ফুল ঝাড়–র দাম বেশি রয়েছে। তবে এক ট্রাক ফুল ঝাড়– রপ্তানি করতে পারলে অন্তত লক্ষাধিক টাকা লাভবান হওয়া যায়।

এ বছর ফুল ঝাড়– প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেটে খাওয়া মেহনতি লোকজন প্রচুর পরিমাণ সংগ্রন করেছে পাহাড় থেকে। দাম বাড়ার অপেক্ষা তারা দিন গুনছে বলে জানা গেছে।

সরকারী ভাবে ফুল ঝাড়– কোন ধরনের চাষাবাদ নেই। পাহাড়ের ঢালে, ছরা, ঝিরি ও ঝর্ণার পার্শ্বে গজে উঠে এসব গাছ। তবে এ ফুল ঝাড়– সরকারী ভাবে সংরক্ষন এবং রক্ষণাবেক্ষন করা হলে সরকার লাখ টাকার পরিবর্তে কোটি টাকার রাজস্ব পেত এমন অভিমত এলাকার সচেতন মহলের।


আরোও সংবাদ