ঈদ এবং কিছু কথা!

প্রকাশ:| শনিবার, ৯ জুলাই , ২০১৬ সময় ১০:০২ অপরাহ্ণ

ইমরানুল হক বেলাল

ঈদ এবং কিছু কথা‘ঈদ, ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ।’
দু’টো ছোট্ট অক্ষর নিয়ে একটি শব্দ ‘ঈদ’। কিন্তু এই ছোট্ট শব্দটিই যে কী নিগূঢ় অর্থ বয়ে চলেছে, তা দু,চার কলম লিখে শেষ করা যাবে না। ঈদ হলো স্বপ্নের রঙিন ভুবনে ডানা মেলে স্বাধীনভাবে ছুটে চলা;
ঈদ বন্ধহীন মুক্ত পাখি , মনের আকাশে ইচ্ছে মতো ছুটোছুটি। ঈদ আমাদের বিষণ্ন কাব্যিক হৃদয়কে ভাবুক করে তোলে, স্বপ্ন দেখতে শেখায়। মানুষকে ভালোবাসতে শিক্ষা দেয়। মানুষের মুখের কথা অতি সহজেই বাতাসে বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু তাকে ঘিরে অনেক স্মৃতি, কিছু স্মরণীয় মজার ঘটনা বহুদিন বেঁচে থাকে। দীর্ঘ একটি মাস সিয়াম-সাধনার পর ঈদ আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে, সংযমের মাস রমজান শেষে ঈদ নিয়ে আসে খুশির বাঁধভাঙা জোয়ার। এই পৃথিবীতে এখনো মানুষ আনন্দে ভাসতে জানে! এখনো মানুষ ভালোবাসতে জানে! সবাই হয়তো কয়েকটি মুহূর্তে ভালোবাসে, হয়তো বা কয়েকটি মুহূর্ত আনন্দ করে। কিন্তু কয়েকটি মুহূর্তই, জঞ্জাল ভরা পৃথিবীর বুকে হিরন্ময়।
আমরা যদি বলি ঈদের খুশি, আনন্দ ও উৎসব সবার জন্য। কিন্তু বাস্তবে এ কথা অনেকটাই ফাঁকা।
আমাদের সমাজে যে চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অজস্র গরীব-দুঃখী অভাবী-অসহায় মানুষ, দীন-দুঃখী এসব বস্তিবাসীদের কষ্ট- কান্নার খবর কে-ই-বা রাখে? যাদের জীবন বেঁচে থাকার তাগিদে, দু’মুঠো অন্নের জন্য সব টোকাই কুকুরের সঙ্গে ডাস্টবিনে খাবার খুঁজে ভেড়ায়, পেটের কাছে, দিনে দু’বার পরাজিত হতে হয় যাদের, তাদের জন্য ঈদের বাঁকা চাঁদ সুখ-শান্তি বয়ে আনতে পারে না। অথচ সমাজেরই অন্য এক অংশ তখন দামি পোশাক, আধুনিক সাজসজ্জা ও বিলাসি খাদ্যে উদযাপন করে পবিত্র ঈদ।
গরীব-দুঃখী মানুষদের মনে ঈর্ষা আর ঘৃণার ভাব জাগিয়ে তোলে তারা কাড়ি কাড়ি টাকার মিষ্টি গান গায়।
প্রতি ঈদে নতুন মডেলের বিলাসদ্রব্য কেনাকাটা তাদের কাছে সহজ ব্যাপার। প্ৰতিযোগিতা হয় কে কত দাম দিয়ে পোশাক নিল তা নিয়ে।
তর্ক-বিতর্ক হয় দামী অলংকার আর প্রসাধন নিয়ে। অথচ তাদেরই পাশে থাকা ভিক্ষুক, দারিদ্র্য অসহায় মানুষ গুলো সামান্য একটু সাহায্যের হাত পাতলেই তাদের কাছে গালি, নির্মম প্রত্যাখান, আর গলায় ধাক্কা খেতে হয়।
ওরা কি মানুষ নয়? ওদের কি ঈদের চাঁদ দেখতে ইচ্ছে করে না? মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। তাই বিধাতা মানবজাতির শ্রেষ্ঠ অবদান মনুষ্যত্বের হৃদয়ে ভালোবাসা দিয়ে আমাদেরকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন?
সবার উপরে মানুষই সত্য, তার ওপরে আর কিছুই নেই।
তাই যদি সত্যি হয় , কিছু কিছু মানুষ অপূর্ণতার ঝুলি নিয়ে পৃথিবীতে কেন আসে?
ভাবতে অবাক লাগে মানুষের মধ্যে কেন এত আকাশ ও মাটির ফাঁরাক। কী বিচিত্র এই পৃথিবী! বিচিত্র পৃথিবীর বিচিত্র মানুষ! বিচিত্র মানুষের বিচিত্র জীবনচরণ! আজ আমাদের খুশির দিন, দুঃখ বেদনা ভোলার দিন,যন্ত্রণা নির্বাসনের দিন।
আজ ভালোবাসার মিলন মেলা। কারো মনে থাকবে না কোন দুঃখ, থাকবে না কোন কষ্ট। তাহলে ঈদে বস্তি, ও ফুটপাতের দরিদ্র শিশু-কিশোররা তারাও চায় আনন্দে ভাসতে। তাদের ও তো ইচ্ছে হয় নতুন জামা কাপড় পড়ে ঈদমেলায় ছুটে যাওয়া, খুশির আবেগ নিয়ে লাফালাফি, ছোটাছুটি, হাতে-হাত রেখে করমর্দন আর বুকে বুক মিলিয়ে কোলাকুলি করা।
নতুন লাল নীল হরেক রকম রঙিন জামা,পাঞ্জাবি, শাড়ি, জুতো, প্লাস্টিকের চশমা আর চুলের ফিতা। কিন্তু কয়জনের ভাগ্যে তা জুটে?
অথচ আমরা ইচ্ছে করলে তাদের মুখে ও হাসি ফুটাতে পাৱি। তখন তারা ও পেতে পারে সমান অধিকার। আমরা যদি দয়া করে একটু ত্যাগ কিংবা কিছু ব্যয় করি তবেই দেশের প্রতিটি গরীব, দুঃখীরা উপভোগ করতে পারবে পবিত্র ঈদের খাঁটি নির্ভেজাল আনন্দ।
তাই সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে আমার অনুরোধ , যাদের সামর্থ্য আছে, অর্থ আছে, তারা যেন একবার অন্তত সমাজের অসহায় মানুষদের কথা একবার ভাবে। আমাদের মতো তারা ও যেন ঈদের দিনে সমান আনন্দ পেতে পারে, সেই কাজই করি। তবেই প্রতিটি ঈদ হবে সবার জন্য অনাবিল হাসি, দুর্দান্ত আনন্দ আর সীমাহীন সুখের। তালিম হোসেনের কবিতায় বলি–
“ঈদ মোবারক! হে বন্ধু,
আজ ঈদ খুশির জোয়ার
উচ্ছ্বাসে জয়লাভ হোক
সবার, বয়ে আনুক
অসীম সুখ ও সমৃদ্ধি,
জীবনের প্রতিদিনের
অংশ…।