ঈদে বিপ্লব উদ্যানে যেতে পারেন এক ফাকে

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই , ২০১৬ সময় ১০:২৫ অপরাহ্ণ

ঈদে বিপ্লব উদ্যানে যেতে পারেন এক ফাকে। সময় কাটবে মন প্রশান্ত হবে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর কোলাহলপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে একেবারে শহরের মধ্যিখানে একটি প্রশান্তিময় স্থান ষোলশহর দুই নম্বর গেইট এলাকার বিপ্লব উদ্যান।
যে জীবন কাজের যে জীবন ব্যস্ততার সে জীবনে একটু তো অবকাশও চাই, চাই একটু আনন্দময় সময়। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে যেমন শরীরের বিশ্রাম প্রয়োজন আছে তেমনি মনেরও বিশ্রাম প্র্যয়োজন। মনের প্রশান্তির জন্য প্রকৃতি যেন সবসময় সহায়ক।
প্রতিদিনই বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ এখানে সময় কাটাতে আসেন। পার্কটির তত্ত্বাবধানে আছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনা বিভাগ। দুই নম্বর গেইটের মহাসড়কের পাশেই এর অবস্থান। বাইরে থেকেই দেখা যায়, বাগানের ভেতরের গাছগুলো সযতনে লাগানো।
গাছগুলোর মাঝে গোলাপ, গাদা, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, সূর্যমুখীসহ কয়েক প্রজাতির ফুলও আছে। এছাড়া আম, জাম, কাঁঠাল, নারিকেল, আমলকি, পেয়ারা’র মতো ফলজ গাছের পাশাপাশি আবার গীতচন্দন, ফণিমনসা ও নানা রকমের ঔষধি গাছও রোপণ করা হয়েছে।
পার্কে প্রবেশের জন্য তিনদিকের সীমানায় আছে তিনটি প্রবেশমুখ। পার্কের ভেতরের ছোট ছোট সড়কের পাশে রয়েছে ল্যাম্পপোস্ট। রাতে পার্কে হাঁটতে বা বেড়াতে কোনো সমস্যা না হওয়ার জন্যই এই ল্যাম্পপোস্টগুলো। পার্কের একেবারে মাঝখানে রয়েছে একটি স্বাধীনতা ভাস্কর্য।
১৯৭৯ সালের ১৯ এপ্রিল এ পার্কটির যাত্রা শুরু হয়। এই স্থানটিতেই নাকি বিপ্লবের মূলমন্ত্র নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তাই পার্কটির নামকরণ করা হয় বিপ্লব উদ্যান নামে। পার্কে বিনামূল্যে প্রবেশ করা গেলেও পার্কের প্রবেশাধিকার খুলে দেওয়া হয় বিকাল চারটায়। রাত আটটা বাজতেই বন্ধ করে দেওয়া হয় পার্কটি। পার্কের গাছগুলোর দেখাশোনা করেন ছয়জন মালি। পার্কের নিরাপত্তা রক্ষায় চারজন নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োজিত আছেন।
পার্কে কিন্তু দর্শনীয় তেমন কিছুই নেই। যা দেখার জন্য প্রতিদিন দর্শক আসবে। কিন্তু ব্যস্ত নগরীর ধূলোময় বাতাসে একটু সবুজের দেখা, মনজুড়ানো ফুলের সান্নিধ্য পেতে আর একটু অবসর সময় কাটানো বা বিকালের আবহ পেতেই শহরের মাঝখানে এই ছোট্ট পার্কটিতে আসা। পার্কে ছোট থেকে বড় নানা বয়সের মানুষের আগমন ঘটে। কেউ আসেন বিকালের ঠাণ্ডা বাতাসে একটু বসতে, কেউ ব্যস্ত শিডিউলের সময়টুকুর অবসর কাটাতে, কেউ বা শহরের খোলা জায়গার অভাবে ছোট বাচ্চাদের হাঁটানোর জন্য।
বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ পার্ক খোলা রাখা হয় নগরীর মানুষদের জন্য বিকালে একটু সময় কাটানো আর হাঁটাহাঁটি করার জন্য। নগরীর মানুষের জন্যই পার্কটি তৈরি করা হয়েছিলো। দিনের বেলায় মানুষ ব্যস্ত থাকে বলে পার্ক খোলা রাখলেও তেমন একটা আসবে না তাই শুধু বিকালেই পার্ক খোলা হয়। তবে নগরবাসী যদি চায় তাহলে মেয়রের কাছে আবেদন করলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।


আরোও সংবাদ