ঈদে নিরাপত্তায় চট্টগ্রামে বিশেষ ব্যবস্থা

প্রকাশ:| রবিবার, ৫ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ০৯:০৩ অপরাহ্ণ

জোর করে কম দামে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রিতে বাধ্য করা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনে গ্রিলকাটা চুরি প্রতিরোধকেই এবারের ঈদুল আজহায় মূল টার্গেট হিসেবে নিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।

রোববার নগর পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বিষয়টি। এছাড়া ঈদের ছুটিতে ফাঁকা নগরীর রাস্তাঘাটে সড়ক পরিবহণ নিয়ন্ত্রণেও কাজ করবে পুলিশ।
চবিতে পুলিশ
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, কোরবানির পর পাড়ায় পাড়ায় উঠতি মাস্তান, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রাসী কিংবা প্রভাবশালীরা নিরীহ কুরবানিদাতাদের উপর প্রভাব খাটায়। তারা জোরপূর্বক তাদের কাছে কম দামে চামড়া বিক্রিতে বাধ্য করে অথবা চামড়া ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া ট্যানারিতে নেয়ার পথেও কম দামে চামড়া ছিনিয়ে নেয়।

নগর পুলিশ এবার এ অত্যাচারের হাত থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এছাড়া নগরীতে চামড়া সংগ্রহের পর জমা করার মূল স্থান নগরের বায়োজিদ থানার আতুরার ডিপো এলাকাকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে র‌্যাব-পুলিশের পক্ষ থেকে।

নগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপত্তায় বিশেষ করে চামড়া কেন্দ্রীক যেসব ঝামেলা হয় সেদিকে আমাদের নজর থাকবে বেশি। এছাড়া বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় পুলিশের টহল থাকবে। এছাড়া চামড়ার আড়ৎ আতুরার ডিপো এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

র‌্যাব-৭ এর চট্টগ্রাম জোনের সহাকরি পরিচালক এএসপি সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘চট্টগ্রামে চামড়া ছিনতাই প্রতিরোধে আমরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করব। বিশেষ করে আতুরার ডিপো কেন্দ্রীক ও স্পর্শকাতর এলাকায় আমাদের পক্ষ থেকে ব্যাপক টহল থাকবে।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশেষ নিরাপত্তা কর্মসূচীর অংশ হিসেবে নগরীতে মোতায়েন করা হয়েছে র‌্যাব-পুলিশের প্রায় দুইহাজার সদস্য। এর মধ্যে পুলিশ সদস্য আছে প্রায় সতের’শ এবং র‌্যাবের আছে প্রায় সাড়ে তিন’শ সদস্য। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এরমধ্যে এক ভাগ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পয়েণ্টগুলোতে মোতায়েন আছে। অপর দু’ভাগের মধ্যে এক ভাগ ঈদ জামাতের স্থানে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে ও অপরভাগ পুরো নগরজুড়ে বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে টহলে আছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গোয়েন্দা) হাছান চৌধুরী বলেন, ‘চামড়া ছিনতাই প্রতিরোধের পাশাপাশি বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও বাণিজ্যিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেভাবে কাজ চলছে।’

এছাড়া বিভিন্ন আবসিক এলাকার তালিকা করে সংশ্লিষ্ট সমিতির কর্মকর্তাদের পুলিশের নম্বর দিয়ে দেয়া হয়েছে। চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে যেকোন সময় তাদের পুলিশের সহযোগিতা চাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। একইভাবে ব্যাংকের শাখার তালিকা করে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীর সঙ্গে পুলিশ সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।